অফ বিট রেস্টুরেন্টের চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই

0
360

কোনো জায়গা ভালোলেগে গেলে আমরা সেখানটায় সুযোগ পেলেই যাবো এমনটাই স্বাভাবিক। আমার ক্ষেত্রেও হলো তাই। বাড়ির কাছের ইউনিক সাজের অফ বিট রেস্টুরেন্টে যাওয়া আসা চলতে শুরু করলো। সুযোগ পেলেই এখন ঢু মারি রেস্টুরেন্টটিতে।

বাড়ির কাছাকাছি হওয়াতে আরো সুবিধা। পায়ে হাঁটা পথে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্ব। শুধু ইউনিক সাজ যে আমায় টানে তা নয়, মূলত এদের খাবার ও ওয়েটারদের ব্যবহারও বেশ ভালো। প্রথম বারের মতো আবারো ছোট দুই ভাইকে নিয়ে চলে গেলাম হাঁটতে হাঁটতে।

source: লেখিকা

সন্ধ্যার পর খানিকটা নাস্তা সেড়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে চলে গেলাম অফ বিটে। মেন্যুতে রেগুলার খাওয়া খাবারগুলোর দিকেই চোখ চাচ্ছিলো বার বার। ছোট দুই ভাই আবারো চাওমিন অর্ডার করলো (চাওমিন ওদের অনেক প্রিয়)। তবে এবার চিকেন চাওমিন এড়িয়ে পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দুজনেই মিক্সড চাওমিন নিলো।

আমি প্রস্তুত হলাম দুজনের প্লেটেই ভাগ বসানোর জন্য। তবে নিজের জন্য আলাদা কিছু নিতে চাচ্ছিলাম। এমন কিছু যেটা আগে চেখে দেখা হয়নি। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে মোটামুটি ভালোই লাগে। তবে চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এর আগে কখনো ট্রাই করা হয়নি।

source: লেখিকা

মনোস্থির করলাম চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিবো। অর্ডারও করলাম তাই। ওদের দুজনের জন্য মিক্সড চাওমিন আর আমার জন্য চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। ভাবতে লাগলাম খাবার এবং টাকা দুই’ই জলে না যায় আবার! সাথে দুই ভাইয়ের মুখ টিপ্পনী তো থাকবেই!

অর্ডার নিয়ে মিনিট দুয়েকের মধ্যে আবার ওয়েটার ফিরে এলেন। তার হাতে গোলাকার ট্রেতে ছোট্ট ড্রিংসের কাপ। আমাদের তিনজনের সামনে তিনটি ওয়েলকাম ড্রিংকস রেখে ওয়েটার চলে গেলেন। আমরা বসে বসে টিভি দেখতে লাগলাম।

source: লেখিকা

যেহেতু এখানে এর আগেও এসেছি, তাই জানি এখানকার ব্যবস্থা। এরা আগে থেকে কিছুই রান্না করে রাখে না। অর্ডার নেয়ার পর রান্না করে। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর ওদের চাওমিন চলে এলো। চাওমিন দিয়ে যাওয়ার সময় ওয়েটার জানালেন চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই হতে আরো মিনিট দুয়েক সময় লাগবে।

আমি তা নিয়ে না ভেবে ওয়েটারকে বললাম এক্সট্রা প্লেট ও চামচ দিয়ে যেতে। উদ্দেশ্য দুই ভাইয়ের প্লেটে হামলে পড়ে ভাগ বসানো। যদিও বলার মত ‘হামলে’ পড়তে হলো না। সিঙ্গেল চাওমিন পরিমাণে এতো বেশি থাকে যে একজনের পক্ষে খেয়ে শেষ করা সম্ভব না। সেক্ষেত্রে ওদের এক প্রকার উপকারই করলাম বলা যায়।

source: লেখিকা

ঠিক মিনিট দুয়েক পরেই চলে এলো আমার চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই অনেক খাওয়া হয়েছে, তবে চিজ দেয়া ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবারই প্রথম। ওভেন বেকড পাস্তা ভুল করে চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই হিসেবে দিয়ে গেলো কিনা এটাই ভাবছিলাম প্রথমে। একটু লক্ষ্য করতেই বুঝতে পারলাম ভুল নয়, ঠিক জায়গায় ঠিক খাবারই এসেছে।

অনেকটা ওভেন বেকড চিজি পাস্তার মত দেখালেও ভেতরে আসলে আলুই ছিলো। কাটা চামচের মাধ্যমে উপরের কিছুটা চিজ সরিয়ে ভেতরটা দেখে নিলাম। চিকন করে কাটা আলুর টুকরোগুলো ঠিকঠাক দেখা গেলো। বাটির এক কোণায় কিছুটা টমেটো সস আর কিছুটা হোয়াইট সস নিয়ে শুরু করলাম খাওয়া।

source: লেখিকা

আলুগুলো ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আলুর সাইজ করে কাটা। তবে ভাজা নয়। ভেতরে আলুগুলো আর তার চারপাশ থেকে জেঁকে রাখা চিজ। ওভেন বেকড হওয়ায় ভাজার মচমচে কোনো স্বাদ ছিলো না।

সেদ্ধ আলুর মতো স্বাদ ভেতরের অংশ। খেতে খারাপ না। চিজ আর আলুর মিশেলে একটু আলাদা ধরণের একটি খাবার। তবে এই খাবারটিকে চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নাম দেয়াতে আমার কিছুটা আপত্তি রয়েছে।

source: লেখিকা

আপত্তি আসলে ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’ শব্দ দুইটিতে। কারণ চিজ আছে, আলুও আছে, তবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের স্বাদটার অভাববোধ ভালোলাগেনি। এমন নয় খাবারটি খেতে খারাপ, তবে নামের কারণে আমাদের ভাবনাটা অন্যরকম থাকবে। যে কারণে ভাবনা ও নামের মধ্যে কিছুটা গোলমাল পাঁকিয়ে যেতেই পারে!

এই খাবারটি অবশ্যই গরম গরম খেতে হবে। গরম গরম খেতে ভালোই লাগবে। তবে ঠাণ্ডা হয়ে গেলে পুরোপুরি স্বাদটা পাওয়া যায় না।

অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জ্বা

source: লেখিকা

রিকশার আসন, সম্ভবত বাংলাদেশে এই রেস্টুরেন্টটিতেই প্রথম (আমি এর আগে দেখিনি কিংবা শুনিনি যেহেতু)। তার পাশাপাশি সুন্দর কয়েকটি দোলনা। একপাশের দেয়ালে দুইভাগের অংশে সুন্দর রঙের ব্যবহার।

অন্য পাশের দেয়ালের মাঝে দেয়ালের নকশা, রংহীন। মিউজিক প্রেমীদের জন্য সুন্দর একটি কর্ণার রয়েছে। তাছাড়াও ভেতরের সাজ-সজ্জা যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। এক কথায় বলতে গেলে একেবারেই ‘ইউনিক’।

স্বাদ

অনেক বেশি ভালো নয়, আবার খারাপও নয়। মাঝামাঝি একটা পর্যায়ের লেগেছে আমার কাছে। একেক জনের টেস্ট একেক রকম। আমার মতো আপনিও আগে না খেয়ে থাকলে চেখে দেখতে পারেন। তবে গরম গরম খেতে হবে অবশ্যই। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে খাবারের স্বাদ একেবারেই পাবেন না।

মূল্য

চিজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের দাম ছিলো ১৪০ টাকা। রেস্টুরেন্টে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইও এমন দামেই হয়ে থাকে। যদিও স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলোতে ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই ভালো স্বাদের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পাওয়া যায়। তবে রেস্টুরেন্টে ঢুকলেই এই একই খাবারটির দাম কয়েক গুণ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে রেস্টুরেন্টের ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের দামের তুলনায় এমন চিজে ঠাসা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মূল্য বেশি নয়।

লোকেশন

দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোডের ‘কে’ ব্লক। বাড়ি নম্বর ১৮৮। সহজেই চোখে পড়ে রেস্টুরেন্টটি। তাছাড়া তাদের ফেসবুক পেজে দেয়া গুগল ম্যাপের নির্দেশনা ফলো করেও চলে আসতে পারবেন।

আসার পূর্বে রেস্টুরেন্টটি সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে কল করতে পারেন ০১৯১৩৪৪৪৯৩৮ এই নাম্বারে। আপনাদের সুবিধার্থে পূর্ণ ঠিকানা দেয়া হলো।

( OFF BEAT: কে-১৮৮, দক্ষিণ বনশ্রী (মেইন রোড), খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯।
ফোন: ০১৯১৩৪৪৪৯৩৮ )

ফিচার ইমেজ- লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here