আদা ও গাজরের জুসের যেসব উপকারিতার কথা আপনার জানা উচিত

0
485

মানুষ প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যসচেতন হচ্ছে। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে নানা উপায় অবলম্বন করছে। সকল অসুস্থতা, অসাবধানতাকে বিদায় জানিয়ে মানুষ প্রতিমূহুর্তে সুস্থ ও সুন্দর থাকতে চায় মানুষ। এখন তারা স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় গ্রহণ করছে। সেই সাথে খাচ্ছে ফলমূল। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যা যা খাওয়া দরকার তাই গ্রহণ করছে। তাদের জন্য আজকের প্রবন্ধে আলোচনা করবো গাজর ও আদা মিশ্রিত জুসের কার্যকারিতার কথা। আপনারা হয়ত জানেন না আদা ও গাজর মিশ্রিত জুস শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী। জেনে নিন আদা ও গাজর মিশ্রিত জুসের বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক সকল উপকারিতা সম্পর্কে।

চুল ও নখ

পৃথিবী প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ, পানি দূষণসহ নানাবিধ দূষণ হচ্ছে। এইসব দূষণের পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষই দায়ী। যাইহোক, দূষণের কারণে মানুষের শরীর ও স্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে। পরিবার ও সমাজে বাড়ছে উদ্বেগ ও চিন্তা। যার কারণে মানুষের মাথার চুল ব্যাপকহারে পড়ে যাচ্ছে।

Photo: foodofy.com

আদা ও গাজর মিশ্রিত জুসে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘কে’ যা চুলের সুরক্ষায় দারুণ কার্যকরী। ভিটামিন ‘কে’ চুল পড়া বন্ধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় আদা ও গাজর মিশ্রিত জুসে রয়েছে ভিটামিন যার ফলে নখের ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। নখের গঠন, স্থায়িত্ব ও চুলের সুরক্ষায় আপনি প্রতিদিন পান করতে পারেন আদা ও গাজর মিশ্রিত জুস।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

আদা ও গাজরের মিশ্রিত জুসে সকল প্রকার ভিটামিনের প্রাচুর্যতা রয়েছে। এতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের অন্য সকল কাজ করার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধেও বিরাট অবদান রাখে। ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ফার্মাকোলজি’ এর এক গবেষণা থেকে জানা যায়, আদায় জিনজারলস নামের একটি উপাদান রয়েছে যা সকল ক্ষতিকর কোষকে ভেঙে দেয় এবং ক্যান্সার হওয়া থেকে বিরত রাখে।

Photo: foodofy.com

আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জিনজারলস নামের এই উপাদানটি মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করে। গাজরে থাকা ক্যারেটিনয়েড উপাদানটি ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

গর্ভবতী মায়ের জন্য উত্তম পানীয়

আদা ও গাজর মিশ্রিত জুসটি গর্ভবতী মায়ের জন্য খুব উপকারী। গর্ভাবস্থায় আদা ও গাজরের জুস খাওয়া ঠিক হবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ এটি এমতাবস্থায় খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। শুধু তাই নয় এটিতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ যা গর্ভের শিশুর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

Photo: foodofy.com

এই জুসে রয়েছে সব রকমের ভিটামিন যা মা ও শিশু উভয়ের জন্য উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান যার ফলে মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতেও এই জুসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েদের প্রচুর ক্যালসিয়ামের চাহিদা থাকে যা আদা ও গাজর মিশ্রিত জুস থেকে পাওয়া সম্ভব।

অসুস্থতা প্রতিরোধ করে

আদা ও গাজর মিশ্রিত জুসে প্রচুর ভিটামিন থাকায় ইমিউন সিস্টেম গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। রক্ত কণিকা বৃদ্ধিতেও এই জুস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’।

Photo: foodofy.com

ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর প্রতিরোধে এই পানীয়টি বেশ উপকারী। সাধারণ যেকোনো অসুস্থতায় আপনি এই পানীয়টি খেতে পারেন।

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য

হৃদযন্ত্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গানুগুলোর মধ্যে একটি। আমরা প্রতিনিয়ত যা খাই তার প্রভাব হৃদযন্ত্রে পড়ে। উচ্চক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার, নিম্নক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার এমনকি আদা, গাজরের পানীয় খেলেও তাদের প্রভাব হৃদযন্ত্রে পড়ে। গাজর ও আদা মিশ্রিত পানীয় পানে আপনি হৃদরোগের বিভিন্ন জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন, স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন।

দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায়

আদা ও গাজরের জুস দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায় অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। কেননা এতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’। এ দুটো ভিটামিন দাঁত ও মাড়ির জন্য বেশ উপকারী।

Photo: foodofy.com

দাঁত গঠনে, দাঁত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে, মাড়ির যত্নে এই জুসের গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিদিন এক গ্লাস গাজর ও আদা মিশ্রিত জুস খেলে এ সংক্রান্ত সকল অসুবিধা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

যকৃতের যত্নে

যারা স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন, লিভার বা যকৃত সম্পর্কে সচেতন তাদের উচিত প্রতিদিন আদা ও গাজর মিশ্রিত জুস পান করা। শরীরের মেদ কমিয়ে শরীরকে মেদমুক্ত ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে এই পানীয়।

Photo: foodofy.com

আদার রস কিডনির সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। এছাড়া শরীরের বিষাক্ত পদার্থসমূহ ত্বকের ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে বের করে দিতে গাজর ও আদার জুসের অবদান অগ্রগণ্য।

প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন

আদা ও গাজর মিশ্রিত জুসে রয়েছে প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন শক্তি যা সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে সুরক্ষা করে। ত্বকের কালো দাগ, ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

Photo: foodofy.com

গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিনএয়েড বহিরাগত পরিবেশ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ত্বককে মসৃণ ও কোমল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে গাজর ও আদার পানীয়।

বয়সের ছাপ দূর করে

নানা হতাশা, উদ্বিগ্নতার কারণে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে। যা সৌন্দর্যপিপাসুদের কাছে কাম্য নয়। গাজর ও আদায় থাকা পুষ্টি উপাদান মুখ থেকে বয়সের ছাপ দূরীকরণ করে।

Photo: foodofy.com

বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর করে। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে যেমন কালো দাগ দূর, বলিরেখা দূর করে। তাই প্রতিদিন আপনি ঘরে তৈরি করে নিন গাজর ও আদার পানীয় এবং সুস্থ ও সুন্দর থাকুন।

ব্রন দূরীকরণ

গাজর ও আদায় ভিটামিন থাকায় ব্রণ দূরীকরণে ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন এক বেলায় গাজর ও আদার জুস খেতে পারেন যা আপনার ত্বক ও চেহারা উভয়কে রাখবে সুন্দর।

মস্তিষ্কের উন্নয়ন

মানুষের মস্তিষ্কের উন্নয়নে, মেধা বিকাশে, স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখে গাজর ও আদা।

Photo: foodofy.com

প্রতিদিন গাজর ও আদার পানীয় পান করলে এতে থাকা পুষ্টি উপাদান আপনাকে সমৃদ্ধ করবে এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থেকে রক্ষা করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here