আনারসের পুষ্টিগুণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

0
333

আনারস একটি জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু ফল। বর্ষাকালে আনারস বেশি দেখা গেলেও প্রায় সব ঋতুতে আনারস পাওয়া যায়। টক ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত এসব আনারসের চাষ হয় পাহাড়ি অঞ্চলে। আনারসের খেতে খুব সুস্বাদু। এর রয়েছে নানাবিধ উপকারিতাও। আনারসে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য উপাদান। এক গ্লাস আনারসের জুস খেলে ঠান্ডা কাশির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন সি।

আনারসে থাকা ম্যাঙ্গানিজ হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বেটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। আনারসে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে এবং এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা বাতের ব্যাথা কমাতে কার্যকর। আনারসে থাকা ভিটামিন ও অন্যান্য উপাদান ত্বকের কালো দাগ দূর করে, দাঁতের সুরক্ষা করে, জীবাণু ধ্বংস করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ওজন কমায়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, আনারসে বহু গুণে গুণান্বিত একটি ফল। জেনে নিন আনারসের আরো কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

আনারসের ব্যবহার

একেক জন একেকভাবে আনারসকে ব্যবহার করে। অনেকে নাস্তায় আনারস খায়। আবার অনেকে আনারস দিয়ে কাপ কেক, বিস্কিট, বার, আইসক্রিম, পুডিং, দই ও বিভিন্ন ডেজার্ট তৈরি করে।

Photo: Momtastic

এছাড়া আনারসের জুস অনেক সুস্বাদু ও উপকারী পানীয়। কাঁচা আনারসের চাটনি তৈরি করা যায়। অনেকে আনারসের চাটনি তৈরি করে টিনজাত করে সংরক্ষণ করে। এছাড়া জ্যাম, জেলি ইত্যাদি তৈরিতেও আনারস ব্যবহার করা হয়।

আনারসের পুষ্টিগুণ

আনারসের অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, সি, বি৫, বি৬, খনিজ লবণ, ব্রোমোলিন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, চিনি ও ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম।

Photo: lifealth.com

পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ আনারসে কোনো শর্করা নেই এমনকি এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

আনারসের স্বাস্থ্য উপকারিতা

মিষ্টি ও সুস্বাদু ফল আনারসের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। নিম্নোক্ত আলোচনায় তা ব্যাখা করা হলো।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আনারস

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে আনারস দারুণ কার্যকরী। আনারসে বিদ্যমান ভিটামিন সি হলো এসকরবিক এসিডের উত্তম উৎস।

Photo: Organic Facts

ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, দূর্বলতা প্রতিরোধ করে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ

আনারস ত্বক, মুখ, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ব্রোমোলিন, ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং ম্যাঙ্গানিজ। এই উপাদানগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

হজমশক্তি বৃদ্ধি

আনারস হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে ব্রোমোলিন থাকার কারণে বদহজম হয় না এবং হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পেটের বিভিন্ন সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়ায় দারুণ কাজ করে আনারস। কৃমিনাশক হিসেবে আনারসের দারুণ খ্যাতি রয়েছে। ক্ষুদ্রান্ত্রের জীবাণু ধ্বংসে আনারস খুব কার্যকরী।

ওজন কমাতে আনারস

আনারস ওজন কমাতে সহায়তা করে। আনারসে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও অনেক কম ফ্যাট। যার ফলে স্বাস্থ্যের জন্য আনারস উপকারী। সকালের নাস্তার সাথে এক গ্লাস আনারসের জুস খাওয়া অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। তাই ওজন কমাতে চাইলে আনারস খেতে পারেন।

সর্দি কাশিতে আনারস

আনারসে প্রচুর ব্রোমোলিন থাকায় সর্দি কাশি প্রতিরোধে এটি ভূমিকা রাখে। ঋতু পরিবর্তন ও অন্যান্য কারণে যেকোনো সময় সর্দি কাশিতে যেকেউ আক্রান্ত হতে পারে। এই সময়ে আনারস খেলে অতি দ্রুত সর্দি কাশির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

হাড় গঠনে

আনারসে রয়েছে প্রয়োজনীয় পরিমানের ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। এই উপাদানদ্বয় হাড় গঠনে ও হাড় মজবুত করায় অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আনারস খেলে হাড়ের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই পরিবারের সকলের বেশি করে আনারস খাওয়া উচিত।

হাঁপানি দূরীকরণ

আনারসের গুনাগুণের শেষ নেই। আনারস হাঁপানি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আনারসে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, ব্রোমোলিন, বিটা ক্যারোটিন যা হাঁপানি প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই বেশি করে এই সুস্বাদু ফলটি খান এবং সুস্থ থাকুন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

আনারসে ফাইবার থাকে। ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। মিষ্টি স্বাদযুক্ত আনারসে আবার সুগার বেশি থাকে তাই ডায়াবেটিস রোগীদের নির্দিষ্ট মাত্রায় আনারস খেতে হবে। অবশ্য চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস রোগীদের আনারস খেতে নিষিদ্ধ করেন না। তবুও যতটা পারা যায় নিরাপদ থাকা ভালো।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে

হৃদস্পন্দন ও হৃদপেশীর বিভিন্ন কার্যপক্রিয়া সম্পাদন করে পটাশিয়াম। আর আনারসে পটাশিয়াম রয়েছে। তাই আনারস হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

রক্ত জমাটে বাঁধা

আনারস শরীরে সঠিকভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধে না। শিরা ধমনির রক্তবাহী নালীতে কোনো প্রকার ঝামেলা হয় না আনারস খেলে। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে এবং হৃদপিন্ডকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্নে আনারস

আনারসে ভিটামিন ও অন্যান্য উপাদান বিদ্যমান থাকার কারণে আনারস খেলে ত্বক থাকে সুন্দর ও মসৃণ।

Photo: Know Your Produce

ত্বকের কালো দাগ দূর করে, বলিরেখা দূর করে আনারস। এছাড়া চুলের জন্যও আনারস উপকারী।

আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আনারসের অনেক গুনাগুণ থাকা সত্ত্বেও কিছু অপকারিতা রয়েছে। জেনে নিন আনারসের অপকারিতা সম্পর্কে।

  • আনারসে বিদ্যমান ব্রোমালিন ঋতুস্রাবকে প্রভাবিত করে, এতে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গর্ভবতী মায়েদের অতিরিক্ত আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • আনারস খেলে অনেকের অ্যালার্জি বেড়ে যায়। তাই আনারস কেটে লবণ দিয়ে ধুয়ে নেয়া উচিত।
  • অতিরিক্ত আনারস খেলে বাতের ব্যথা হতে পারে।
  • কাঁচা আনারস কিংবা জুস খেলে বমির প্রবণতা দেখা যায়। মুখের ভেতরে ও গলায় শ্লেষ্মা তৈরি করে। অনেক সময় পেটে ব্যথাও হতে পারে।
  • দাঁতে যাদের ক্যাভেটিস আছে তাদের আনারস না খাওয়া ভালো।
  • আনারসে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি। তাই বেশি আনারস খেলে ওজন বাড়া এবং ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here