আবারো ব্রুজ এন্ড বাইটস

0
494

একই খাবারের দোকান নিয়ে একাধিক রিভিউ দিব কিনা এই নিয়ে ভাবতে ভাবতে অনেকবার ব্রুজ এন্ড বাইটস এ গিয়ে আসলাম। তাই আমার মনে হলো, এ জায়গাটাকে নিয়ে দুইটা রিভিউ দেয়াটা আসে। আমার পরিচিত অনেকের কাছেই জায়গাটাকে ওভাররেটেড মনে হয়। কিন্তু আমি জায়গাটার প্রেমে পড়ে গেছি। আমি সময় সুযোগ পেলেই চলে যাই এখানে। এমনকি সময় না থাকলেও চেষ্টা করি সময় বের করে চলে যাওয়ার। কেন জানি না দোকানটাতে গেলে আমার একটা শান্তি শান্তি ভাব হয়।

আমি মূল বসার জায়গা থেকে খানিকটা দূরে একটা জায়গায় বসে থাকি একটা কফি, পাস্তা বা ডেজারট নিয়ে। হইচই নেই তেমন। চুপচাপ বসে, উদাস মনে গান শুনতে শুনতে সময় কেটে যায়।

ব্রুজ এন্ড বাইটস এর বিশেষত্ব হলো ওরা ইতালিয়ান খাবার পরিবেশন করে। তাই মেন্যুতে অন্যান্য অনেক ধরনের আইটেম থাকা সত্ত্বেও আমি সবসময় ঘুরে ফিরে বিভিন্ন ধরনের পাস্তা অর্ডার করি। আমি বরাবরই আলফ্রেডো সস এর বিরাট ফ্যান। এখানের পাস্তা ফেট্যুচিনে আলফ্রেডো আমার বেশ ভালো লাগে।

অনেক মাশরুম, চিকেন আর আলফ্রেডো সস দেয়া এই পাস্তাটা ভালো না লাগার তেমন কোনো কারণ নেই। আমি এখন পর্যন্ত কতদিন এই পাস্তা খেয়েছি আমার সঠিক মনে নেই। এই দোকানে গিয়ে যদি বিভ্রান্ত হয়ে যান, কোন আইটেমটা খাবেন, তাহলে অর্ডার করতে পারেন এই পাস্তা। ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস। সস, আর চিলি ফ্লেক যদি দিয়ে না যায়, চেয়ে নিন চিলি ফ্লেক আর আপনার পছন্দের সস আর খাবারে স্বাদমতো যোগ করুন।

পাস্তা ফ্যাটুচিনে আলফ্রেডো

এখানকার আরো একটি আইটেম অ্যাপেটাইজার হিসেবে বেশ পছন্দ করি আমি। সেটা হলো চিকেন ক্যাশোনাট সালাদ। এই সালাদে অনেক বেশি ক্যাশোনাট আর চিকেন থাকে। যারা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী, তাদের জন্য হতে পারে ভালো একটা আইটেম।

ক্যাশোনাট সালাদ

অ্যাপেটাইজার থেকে বেরিয়ে এসে একটু লাইট মিল (হালকা খাবার) অর্ডার করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন স্যান্ডউইচ অথবা পিৎজা। স্যান্ডউইচের মাঝে ক্লাব বা গ্রিল্ড চিকেন স্যান্ডউইচ। আমার কাছে স্যান্ডউইচগুলো খুব আহামরি কিছু লাগেনি। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এর সাথে পরিবেশনকরে ওরা স্যান্ডউইচগুলো। চাইলে চেখে দেখতে পারেন।

স্যান্ডউইচ উইথ ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস

কফির মধ্যে থেকে আপনি বেছে নিতে পারেন আইসড লাট্যে, ফ্র্যাপে বা ক্যাপাচিনো। যেকোনো কফি অর্ডারের সময় স্যুগার আলাদা করে দিতে বলে দিতে পারেন। আমি সবসময় এটা করি, কারণ নাহলে কখনো মিষ্টি আমার পছন্দমতো হয় না। কখনো খুব কম, আবার কখনো অনেক বেশি দিয়ে ফেলে। লম্বা গ্লাসে করে বরফ দেয়া লাট্যেতে চুমুক দিতে আমার বেশ ভালো লাগে। আইসড কফিগুলোতে ইচ্ছেমতো ফ্লেভার যোগ করার সুযোগ থাকে। চাইলে ক্যারামেল বা হ্যাজেলনাট ফ্লেভার যোগ করে নিতে পারেন।

কিন্তু আপনি যদি সেই রকম কফিখোর হন, তাহলে অর্ডার করতে পারেন এসপ্রেসো শট। খুব ছোট্ট একটা কাপে পরিবেশন করবে দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। ওই কাপের তিতকুটে স্বাদের কফির কয়েকটা চুমুকই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে বলে আমার ধারণা।

এরপরে আসি এখানে খাওয়া আমার সবচেয়ে প্রিয় আইটেমের কথায়। যে আইটেমের টানে আমি বারাবার এখানে যাই সেটা হলো ফাজ ব্রাউনি উইথ আইসক্রিম। এর সাথে প্রথম দেখায় আমার প্রেম হয়। একদিন লাঞ্চের পরে গিয়ে বসেছিলাম। অন্য কিছু খাওয়ার ম্যুড ছিলো না। অর্ডার করতে চাইলাম চকলেট ম্যুজ। কিন্তু ওটা সেদিন ছিলো না। সার্ভার আমাকে বললো ফাজ ব্রাউনি নিতে। আমি যা আছে কপালে ভেবে অর্ডার দিয়ে ফেললাম।

দিয়ে যাওয়ার পর দেখেই আমার মন ভালো হয়ে গেলো। আর প্রথম কামড়ে বুঝে ফেললাম একটা খেয়ে আমার মন ভরবে না। তাই এই পরের বার দুই স্কুপ চকলেট আইসক্রিম দিয়ে আরেকটা ফাজ ব্রাউনি নিয়ে ফেললাম। চকলেট সস দিয়ে পরিবেশন করা এই ডেজারট খেলে আমার সাথে সাথে মনটা ভালো হয়ে যায়। আপনি চাইলে আইসক্রিম সহ বা ছাড়া যেকোন ভাবেই অর্ডার করতে পারেন। আর আইসক্রিমের ক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছামতো ফ্লেভারের স্কুপ বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে।

ফাজ ব্রাউনি উইথ চকলেট সস এন্ড আইসক্রিম

দাম

যারা আমার মত দিন আনেন, দিন খান, তাদের জন্য সতর্কতামূলক বাণী পোস্টের এই অংশটি। গুলশান এলাকার অন্যান্য সব দোকানের মতই কিছুটা ব্যয়বহুল এই দোকানটা। রিজনেবল দামে খাওয়া দাওয়া করতে চাইলে এড়িয়ে চলুন এই দোকান। যেসব দিনগুলোতে আমার মনে হয়, “টাকা দিয়ে কি আর হবে! বেঁচে থাকলে আরো কামানো যাবে”, সেসব দিনে আমি এই দোকানটায় খেতে যাই। আর তারপর ব্যাগ উল্টে বিল দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরে আসি। কিন্তু আপনি যদি আমার গোত্রের না হন, তাহলে যেতে পারেন যেকোনো সময়েই।

সব খাবারের দাম মেন্যুতে যা লেখা আছে, তার সাথে ভ্যাট আর সার্ভিস চার্জ যোগ করে পরিশোধ করতে হবে বিল। তাই মেন্যুতে যা দেখেছেন, “এই বিল, বিল নয়। আরো বিল আছে।” (আমি কেবল মেন্যুতে লেখা দাম উল্ল্যেখ করেছি। ভ্যাট, সার্ভিস চার্জ সহ বিল কতো এসেছিলো, আমার মনে নেই।)

পাস্তা ফেট্যুচিনে আলফ্রেডো – ৩৯০ টাকা

চিকেন ক্যাশোনাট সালাদ – ৩৭০ টাকা

ক্লাব স্যান্ডউইচ – ৪০০ টাকা

গ্রিল্ড চিকেন স্যান্ডউইচ – ৩৭০ টাকা

আইসড লাট্যে – ২৪৫ টাকা

ফাজ ব্রাউনি – ১৬০ টাকা (আইসক্রিম ছাড়া)

লোকেশন

যারা প্রথমবারের মতো যেতে চান এবং আমার আগের লেখাটা এর মধ্যেই দেখে ফেলেন নি, তাদের সুবিধার জন্য আবারো বলে রাখি। গুলশান ২ এর একটু সামনেই, আগোরা আর কেএফসির ঠিক উল্টো পাশে ব্রুজ এন্ড বাইটস। এই দোকানের নিচে একটি পোশাকের দোকান রয়েছে। আর একই সাথে জবরজং করে চিটাগাং বুল এর সাথে নাম ধাম লেখা। অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে যাতে পারেন। তাই এটাও বলে দিচ্ছি, ড্রেস শপে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে আপনাকে যেতে হবে ব্রুজ এন্ড বাইটস এ। যারা শপিং করতে, বা দোকানে ঘুড়ে বেড়াতে পছন্দ করেন, তারা এক ঢিলে দুই পাখি মেরে ফেলতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here