ওয়ান বাইট পিৎজা’র অসাধারণ ক্রিস্পি চিকেন ফ্রাই ও থাই স্যুপ

0
375

দিনটা ছিলো ঈদের দিন। রমজানের রোযা শেষে আগের মতো সাধারণ জীবনে ফিরতে আমাদের অনেকেরই বেগ পেতে হয়েছে। আমিও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নই। সন্ধ্যায় আর্জেন্টিনা বনাম আইসল্যান্ডের খেলা ছিলো। আমি আর্জেন্টিনা হওয়ায় মনটা খারাপ হয়েছিলো। ম্যাচটি ড্র হওয়ায় আমার মতো আর্জেন্টিনা ফ্যানদের কষ্ট পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু ছিলোনা। খেলা দেখা শেষে তাই এক বন্ধুকে বললাম বাসা থেকে বের হতে। কচুক্ষেত বাজারে এসে আমি ক্ষুধাতুর চোখে রেস্টুরেন্ট খোঁজে চলেছি। একটু সামনে যেতেই চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছিলো ওয়ান বাইট পিৎজা  (One Bite Pizza) নামের রেস্টুরেন্টটি।

খানিকটা সময় অপেক্ষা শেষে বন্ধুটি এলো। আগে থেকে কোন নির্দিষ্ট জায়গায় খাবার উদ্দেশ্য ছিলোনা বলেই ঝটপট সিদ্ধান্ত নিলাম সেখানেই যাওয়া যাক। তো যেই কথা সেই কাজ। লোহার সিড়ি বেয়ে উঠলাম সেখানে। পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্টুরেন্টটিতে ঢুকতেই গায়ে ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেলো। ব্যস্ত রেস্টুরেন্টটির এক টেবিলে বসে পড়লাম দুজন। ওয়েটারকে মেন্যু দিতে বলার কিছুক্ষণ পর দিয়ে গেলো মেন্যু কার্ডটি। আমার বন্ধু বাসা থেকে খেয়ে এসেছিলো তাই খুব ভারি কিছু খেতে পারবেনা বলে জানালো। আমার খেলা শেষে বের হবার পর থেকেই কেমন চিকেন ফ্রাই খেতে ইচ্ছে করছিলো বলে সেটাই অর্ডার করেছিলাম। ওয়েটারকে বলে দিলাম সেটা যেনো ব্রেস্টের পিস হয়। আমার বন্ধু হালকা কিছু খাবে বলে একটি স্যুপ অর্ডার করলো।

বর্ণিল আলোময় পরিবেশ; ছবিসূত্র: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

আমরা তখন আইসল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আমার বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো আইসল্যান্ডের প্লেয়ারদের গড় উচ্চতা নিয়ে। তারা এত ডিফেন্স খেলেছিলো সেদিন যা দেখে সবাই বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলো। আর আর্জেন্টিনার দুর্বল ডিফেন্স তো আছেই। আমরা নিজেদের গল্পের ফাঁকে ফাঁকে খেয়াল করছিলাম তাদের ইন্টেরিয়রের দিকে। রেস্টুরেন্টটিতে এসির ও টিভির সুব্যবস্থা ছিলো। বিভিন্ন রঙের আলোর ঝলমলে একটা সুন্দর আবহ তৈরি হয়েছিলো সেখানে।

উপরের ঝাড়বাতি গুলোও ছিলো শিল্পকর্মের নিদর্শন। এক কথায় সেখানকার পরিবেশ ছিলো খুবই সুন্দর ও চমৎকার। যাই হোক আমাদের গল্পের শেষ না হতেই থাই স্যুপটি চলে এলো। খুুুব সুন্দর একটা রঙ হয়েছে এতে।

থাই স্যুপ; ছবিসূত্র: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

চামচ ডুবিয়ে স্যুপটি যখন মুখে পুরে নিলো তখন তার কাছে জানতে চাই স্যুপ কেমন লেগেছে। সে তার নিজস্ব মন্তব্য করার আগে আমাকে বললো টেস্ট করার জন্য। আমি মুখে নিয়ে দেখলাম স্যুপটি অনেক পাতলা হয়েছে। ঝালের পরিমাণও কম ছিলো। ঝাল আরেকটু বাড়াবার জন্য আমরা মরিচের সস খুঁজছিলাম। ওয়েটারকে দুইবার করে বলার পরও সে দিতে দেরি করছিলো। আরো একবার যখন বলেছি তখন সে এনেছে। স্যুপটি আরো ঘন হলে মনে হয় আরো সুস্বাদু হতো।

স্যুপে চিকেনের পরিমাণ আরো থাকা উচিৎ ছিলো। তবে এর টেস্ট খুব একটা আহামরি ধরনের সুস্বাদু ছিলোনা। মধ্য থাইল্যান্ড থেকে উৎপন্ন হওয়া এ খাবারের কতই না রকমফের! কেউ রান্না করে শুধু চিকেন দিয়ে। কেউ চিংড়ি যোগ করে এতে। আবার কেউবা বিভিন্ন সবজি যেমন মাশরুম যোগ করতেও ভোলেনা। আমাদের থাই স্যুপটিতে মাশরুম ছিলো অল্প পরিমাণে। চিংড়ি অবশ্য খুব বেশি পাইনি। যদি আপনি দাম অনুযায়ী চিন্তা করে থাকেন তাহলে বলতে হবে খাবারের মান এভারেজ। ইতোমধ্যেই আমার মাংসখানা চলে এসেছে। এত বড় টুকরা দেখে  ভালো লাগলো।

ক্রিস্পি চিকেন ফ্রাই; ছবিসূত্র: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

খাওয়া তখন শুরু করেছি। গরম ছিলো বলে একবার কামড় দিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো ঠান্ডা করার জন্য। বসে বসে উপরের ক্রাঞ্চি অংশটুকু খাচ্ছিলাম। খারাপ লাগেনি মোটেই। একটু ঠান্ডা হতেই আবার কামড় বসালাম। তখন থেকেই বুঝলাম আসলেই চিকেনটি খেতে ভালো লাগছে। ব্লগের জন্য তখন ছবি তুলছিলাম ভেতরের জুসিনেসটা বোঝানোর জন্য। মাংসে মশলার পরিমাণ ও লবণের পরিমাণ পারফেক্ট ছিলো। উপরের ক্রাঞ্চি অংশটুকুও আটা আটা লাগেনি।

সুন্দরভাবে রান্না হওয়া চিকেন ফ্রাই; ছবিসূত্র: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

আজকে আমরা যে চিকেন ফ্রাই খাচ্ছি তা সর্বপ্রথম এসেছিলো স্কটল্যান্ড থেকে। তারা তৎকালীন সময়ে মশলাবিহীন চিকেনকে ডিপ ফ্রাই করতো চর্বির ভেতর ডুবিয়ে। ইতোমধ্যেই পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দারা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী লবণ-মশলাসহ মাখনে অথবা পাম তেলে ভাজা শুরু করেছিলো। স্কটিশদের ডুবো তেলে ভাজা ও পশ্চিম আফ্রিকার লোকদের মশলার প্রথা মিলিয়ে নতুনভাবে এই চিকেন ফ্রাই এর রান্না শুরু করেছিলো তখনকার আফ্রিকান দাসরা। ক্রমেই এ খাবারের প্রক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকান-আমেরিকানদের মাঝে। পুরো দক্ষিণ আমেরিকায় এটি তখন জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

আজকের এই চিকেন ফ্রাই খেতে খেতে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেলো। মাংস খেতে খেতে সস প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিলো। ওয়েটার ছেলেটাকে বলতেই সে আরেকটি সসের মিনি প্যাকেট কেটে দিয়ে গেলো। চিকেনের প্রশংসায় তখন আমি পঞ্চমুখ। আমার বন্ধুও আমার চিকেন থেকে খানিকটা কামড়ে নিয়ে টেস্ট বাডকে পরীক্ষা করলো। সে পরীক্ষায় তার স্যালিভা গ্ল্যান্ড লালা গ্রন্থি ভালোই উত্তেজিত হয়েছে বলে মনে হলো। আমাকে অবাক করে দিয়ে সে তার ভরাপেটে আরো একটি চিকেন ফ্রাই অর্ডার করতে বললো।

একই ভাবে আরো এককটি ব্রেস্টের পিস অর্ডার করে নিজেদের মতো গল্প করছিলাম। প্রায় মিনিট সাতেকের মাথায় ওর খাবার চলে এসেছে। অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম ওর চিকেনের সাইজ আরো বিশাল। ও নিজেও অবাক! খেয়ে দেখতেই বুঝতে পেলো চিকেন ফ্রাই আসলেই ভালো এখানের।

বিশাল সাইজের চিকেন ফ্রাই; ছবিসূত্র: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

খাবার

স্যুপটি এভারেজ টেস্টের হলেও চিকেন ফ্রাই ছিলো অসাধারণ। স্যুপের ক্ষেত্রে তাদের উন্নতির যথেষ্ট জায়গা রয়েছে।

পরিবেশ

রেস্টুরেন্টটির ভেতরের পরিবেশ ছিলো বেশ চমকপ্রদ! লাইটিং, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সব মিলিয়ে ভালো ছিলো।

মুল্য

স্যুপটির দাম ছিলো ১০০ টাকা ও প্রতি পিস চিকেন ফ্রাই এর দাম ছিলো ৯০ টাকা করে।

স্থান

মিরপুর ১৪ থেকে কচুক্ষেত বাজার যেতেই পুলপাড় চোখে পড়ে। সেখানে নওফা প্লাজার ২য় তলায় রেস্টুরেন্টটি অবস্থিত। আরো বিস্তারিত বলতে গেলে ১১০৩, রূপায়ন নওফা প্লাজা, কচুক্ষেত রোড, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা-১২০৬।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here