কাজী ফুড আইল্যান্ডের গ্যারেজ-১৯ এ উপভোগ করলাম অসাধারণ সেট মেন্যু

0
506

অনেক দিন ধরেই বাইরের খাবার খাওয়া হচ্ছিলো না। আমার মতো খাদক সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য যা খুবই অপমানজনক। মিরপুর এলাকাবাসী হওয়ায় প্ল্যান ছিলো ইফতার শেষে কাছেই কোথাও খেতে যাবো। কিন্তু চিন্তা করছিলাম কোথায় যাবো। চিন্তায় চিন্তায় কপালে যখন ভাঁজ পড়া শুরু হয়েছে, ঠিক তখনি রেহাই পেলাম অসাধারণ এক খবরে। পাঠকসমাজের প্রতি বিনীত অনুরোধ, কে এই উদ্ধারকার্য সম্পন্ন করলো তা নিয়ে আপাতত গবেষণা না করাই ভালো। রোজা রমজানের দিন বলে কথা! তো গেলাম কাজী ফুড আইল্যান্ডে কালশিতে।

গিয়েছিলাম আমরা তিন জন। ঢোকার পর কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। দেখি নিচের সব দোকানে অন্ধকার। ভেবেছিলাম বুঝি সব বন্ধ হয়ে ইফতারের পর। কাজী আইল্যান্ডে ঢুকেই কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হলো। এত খাবারের দোকানের কারণে উপযুক্ত খাবার আর দাম ঠিকঠাক মত খোঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছিলো। তার উপর পুরোটা একচক্কর দেবার পর ঠিক করলাম আজ ফ্রায়েড রাইস, চিকেন ফ্রাই, আর চাইনিজ ভেজিটেবলস এর সেট মেন্যুই খাবো। ঘুরতে ঘুরতে আমার সাথের এক সঙ্গী ততক্ষণে বারবিকিউ চিকেনের এক কম্বো সেট মেন্যু অর্ডার দিয়েছে। সেটার দাম ছিলো ১৭০ টাকা। এদিকে টাকার কথা শুনে পকেটে হাত দিয়ে পরীক্ষা করে নিলাম মানিব্যাগ বেচারা কি সুস্থ সবল আছে কিনা। তার সুস্থতার খবর দেখে খুশি মনে খোঁজাখুঁজি তখনো চালিয়ে যাচ্ছি। সবগুলো দোকানের সেট মেন্যু ততক্ষণে মুখস্থ।  সবশেষে এক দোকানে এসে চোখ আটকে গেলো। আসলে খাবার না খেয়ে সঠিক ফুডকার্ট ও সঠিক খাবারের মেন্যু নির্বাচন করাটা এক প্রকারের বাজির মতোই।

বাজি ধরলাম। ফুড কার্টের নামটি GARAGE 19। প্রথমেই চোখ পড়লো তাদের সেট মেন্যুগুলোর দিকে। বেছে নিলাম তাদের সেট মেন্যু -১। জিজ্ঞাসা করলাম মাংসের পরিমাণ কেমন হবে। ফুডকার্টের ভাই বললেন, কেএফসি স্টাইলে রান্না করা আমাদের চিকেনটি যথেষ্ট ক্রিস্পি ও সাইজে বড় হবে। যেই কথা সেই কাজ। আগে পে করে অর্ডার দিয়ে বসলাম অপেক্ষা করতে। দোকানী বললেন, প্রায় ১০-১৫ মিনিট লাগবে।

গ্যারাজ-১৯ ফুডকার্টের ফ্রন্টভিউ; ছবিসূত্রঃ নিজস্ব মুঠোফোন Xiaomi Y1 Lite

১০ মিনিট ফুরোয়, ১৫ মিনিট ফুরোয়, ততক্ষণে ২০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করে ফেলেছি। আর ধৈর্য ধরতে না পেরে গেলাম সেখানে। দোকানী বললেন আর মাত্র ২-৩ মিনিট লাগবে। ততক্ষণে ক্ষুধার পক্ষে এক বিশাল আন্দোলন শুরু হয়েছে পেটের মধ্যে। তবে একটিই সান্ত্বনা ছিলো খাবার ভালো যেন হয়।

পুরো সেট মেন্যুর এক ছবিতে; ছবিসূত্র: নিজস্ব মুঠোফোন Xiaomi Y1 Lite

অবশেষে আসলো সেই খাবার। প্রথম দৃষ্টিতে ভালো লাগলো।

খাবার খাওয়া তখন শুরু করেছি। এক চামচ রাইস নিলাম সাথে খানিকটা ভেজিটেবলস। মুখে দিয়েই শান্তি পেলাম। ঘ্রাণটা ছিল মোহনীয়। ফ্রেশ একটা অনুভূতি পেলাম। চিকেনটা ভেতরে কেমন সিদ্ধ হয়েছে সেটার একটা কৌতূহল ছিলো। হাত দিয়ে আলতো করে মোচড় দিতেই দেখি জুসি মাংস। হালকা ধোঁয়া উড়ছে সেখান থেকে। একটু অংশ মুখে নিতেই মুখের রসের মধ্যে মিশে গেলো। খুবই টেস্টি!

আমার খাবার খাওয়া দেখে এদিকে আমার বন্ধুর লোভাতুর দৃষ্টি গিয়ে পড়লো আমার প্লেটের উপর। এ কেমন বিচার! হাত থেকে চামচ কেড়ে নিয়ে সব কিছুই খাওয়া শুরু করেছে! কোন থামাথামি নেই। আমি অগত্যা সস দিয়ে আলু ভক্ষণ করা শুরু করলাম। আলুময় জীবন!

কিন্তু সত্যি বলতে আলুটাও ভালো ছিলো খেতে। উপরে হাল্কা ক্রাঞ্চি ছিলো আর ভেতরটা সুন্দরভাবে সেদ্ধ। উপরের স্পাইসি অংশ টুকুতে সস দিয়ে ডুবিয়ে ডুবিয়ে খেতে খেতে জীবনটা ভালোই বোধ হচ্ছিলো।

ক্রিস্পি ওয়েজেস; ছবিসূত্রঃ নিজস্ব মুঠোফোন Xiaomi Y1 Lite

এদিকে আমার আরেক বন্ধু অন্য এক ফুড কার্ট থেকে ফায়েড রাইস আর বারবিকিউ চিকেন অর্ডার করেছিলো। বেচারা যেই না মুখে দিয়েছে চিকেন তার খাওয়ার রুচিই নাকি চলে গিয়েছে। হাস্যকর হলেও সত্য এই যে, তার ফ্রায়েড রাইস ছিলো খুবই ড্রাই আর টেস্ট ছিলো কলেজ ক্যান্টিনের লেভেলের নিম্ন মানের। আমি অনেক জায়গায় সেট মেন্যু খেয়েছি।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে চেখে বলতে পারি আমি গ্যারাজ ১৯ এর যে সেট মেন্যুটি খেয়েছি সেটি এভারেজ টেস্টের একটু উপরেই হবে। আর সাথে যেহেতু কোল্ড ড্রিংস ছিলো তাতে আমার একটুও খারাপ লাগেনি পুরো খাবারটি খেতে। বলতে গেলে আয়েশ করেই খেছি। আমি অর্ডারের সময় বলেছিলাম তাদের চিকেনের ব্রেস্টের পিছ দিতে। তারা সেটিই দিয়েছিলো।

উপরে ক্রিস্পি হলেও ভেতরে জুসি ও ফ্রেশ ব্রেস্ট চিকেন; ছবিসূত্রঃ নিজস্ব মুঠোফোন Xiaomi Y1 Lite

শেষে ছোট একটা হাড় পেয়েছি। ফায়েড রাইসের পরিমাণ আমার কাছে যথেষ্টই মনে হয়েছে। কেননা আমার একলার পেট তো ভরেছেই সাথে আমার বন্ধুরও আংশিক পূর্ণ হয়েছে। ইফতার করে বেরিয়েছিলাম তাই বলে ভাববেন না অল্প খাওয়ার পরও পেট ভরেছে কিনা। সেই সন্দেহ নিতান্তই ভুল। আমি যে লেভেলের খাদক তাতে আমি এই সেট মেন্যু আরো একটু খেলেও খেতে পারতাম। কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের প্রোটিন নেবার পর আর খাওয়ার ইচ্ছে হলো না তাই বলছি। আমার খাবারের মেন্যুর অবস্থা দেখে আমার সেই বারবিকিউ অর্ডার দেওয়া বন্ধু রীতিমত ঈর্ষন্বিত হয়েছিলো। আর আমার যে বন্ধু আমার থেকে নিয়ে খেতে শুরু করেছিলো সে নিজেই একটু পর যেয়ে আমার সেট মেন্যুটাই অর্ডার দিয়ে এসেছিলো। মূল্য অনুযায়ী খাবারের প্রাচুর্য আর টেস্ট বিচারে এটি সেরাই বলতে হবে।

খাবার

যেহেতু আমি ও আমার বন্ধু খুব মজা করেই খাবার শেষ করেছি তাই আমার খাবারের ক্ষেত্রে তাদের প্রশংসা করতেই হবে।

দাম

সেট মেন্যুটির দাম ছিলো ১৬০ টাকা। আমার কাছে অনেক রিজনেবল মনে হয়েছে। ফ্রায়েড রাইস, চাইনিজ ভেজিটেবলস, ওয়েজেস, সস, ড্রিংক্স সবমিলিয়ে দাম অনুযায়ী ভালোই লেগেছে।

সেট মেন্যুর মূল্য; ছবিসূত্রঃ নিজস্ব মুঠোফোন Xiaomi Y1 Lite

স্থান

১৬৭/৪০, মাটিকাটা, কালশী রোড, মিরপুর ডিওএইচএস ও ইসিবি চত্বরের মাঝামাঝিতে, মিরপুর, ঢাকা-১২০৬। কাজী আইল্যান্ডের নিচ তালায় একটু ভেতরের দিকে মাঝামাঝিতে গ্যারাজ-১৯ এর ফুড কার্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here