ক্যাফে কাঠমুন্ডুর সেট মেন্যু ও চিজি পাস্তা

0
583

ঢাকার খিলগাঁও এলাকা জুড়ে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। আগে বেইলি রোড জুড়ে যে ভিড় দেখা যেতো, তার সবটাই উঠে এসেছে খিলগাঁওয়ে। খিলগাঁও সি ব্লক এলাকার রাস্তার দু’পাশ জুড়ে চোখে পড়ে নানা নামের, নানা রকম সজ্জার রেস্টুরেন্টগুলো। আড্ডা দেওয়া, কাজের ফাঁকে খাওয়ার পর্ব সাড়া কিংবা আমার মতো শুধুই ভোজনরসিক যারা তাদের ভিড়টা ব্যাপক এ জায়গাটিতে।

সেদিন ছোট ভাইকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম বিকেলের পর। উদ্দেশ্য বাহিরে কোথাও ইফতার করা। চলে গেলাম খিলগাঁও এলাকায়। রমজান মাস হওয়ায় প্রায় সব জায়গাতেই রেগুলার খাবারগুলো বাদ দিয়ে যোগ করেছে ইফতারের আইটেম। চাচ্ছিলাম ইফতার আইটেম এড়িয়ে অন্য কিছু খেতে। বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ঘুরে গিয়ে বসলাম ‘ক্যাফে কাঠমুন্ডু’ তে।

source: লেখিকা

দুটি ফ্লোরে বিভক্ত এই রেস্টুরেন্টটি। একেবারেই ছোট্ট জায়গা। নিচতলায় তিনটি কর্ণার বসার। এই তিনটি কর্ণারে মোট ১৪ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এক কর্ণারে ছোট্ট একটি ঘর রয়েছে আলাদা, এটিকে মূলত তারা অফিস বলেন। যেখানে রেস্টুরেন্টের মালিক থাকেন। নিচের ফ্লোরের ছোট্ট জায়গা এড়িয়ে সামনেই উপরে যাওয়ার লোহার সিঁড়ি (সিঁড়ির পাশেই তাদের কিচেন)। উপরের ফ্লোরে দুটি আলাদা জোন রয়েছে। খুব অল্প জায়গার ভেতর জোন দুটিকে ভাগ করা হয়েছে। একটি স্মোকিং জোন ও একটি ননস্মোকিং জোন।

স্মোকিং জোনের কর্ণারটি একেবারেই ছোট ও সেখানে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাকি কর্ণারটিতে বসার ব্যবস্থা বেশ ভালো। এ অংশটি নিচতলার অংশের থেকে বড়।

source: লেখিকা

 রেস্টুরেন্টের পরিবেশ ঘুরে দেখে আমরা নিজেদের জন্য সুবিধাজনক জায়গা খুঁজে বসে পড়লাম। খাবারের মেন্যু খুঁজে অর্ডার করলাম একটি সেট মেন্যু ও পাস্তা। তাদের মেন্যুর ৩৩ নম্বর পাস্তা ও ৪০ নম্বর সেট মেন্যু। পানীয়ের জন্য নিলাম পানি, কোক এবং লাচ্ছি।

মাগরিবের আজান হওয়ার ৫ মিনিট আগে গরম গরম খাবার পরিবেশন করলো তারা। আমাদের অর্ডার করা খাবারের বাইরে রমজান মাস উপলক্ষ্যে তাদের তরফ থেকে দুটি ড্রিংস ছিলো আমাদের দুজনের জন্য। সেট মেন্যুতে ছিলো- ফ্রাইড রাইস, চিলি চিকেন, ফ্রাইড চিকেন, ফ্রাইড প্রন (২ পিস), ভেজিটেবল ও ড্রিংস। পাস্তায় ছিলো চিজি চিকেন পাস্তা (আমাদের লাচ্ছিটা নেয়া হয়েছে সব শেষে)। মাগরিবের আজান হতেই আমরা আমাদের খাবারের পর্বটি শুরু করে দিলাম। খাবারের স্বাদ বেশ ভালো ছিলো।

খাবারের স্বাদ

ক্যাফে কাঠমন্ডুর খাবারের মান যথেষ্ট ভালো ছিল। প্রতিটি খাবারের পরিবেশনও ভালো লেগেছে আমার।

সেট মেন্যু

source: লেখিকা

স্বাদ, পরিমাণ সব মিলিয়ে ফ্রাইড রাইস বেশ ভালো ছিলো। একই কথা চিলি চিকেনের ক্ষেত্রেও। ফ্রাইড চিকেনের উপরের অংশটা বেশিই মুখে লাগছিলো, যে কারণে কিছুটা খারাপ লেগেছে খেতে। তবে ভেতরের চিকেনের অংশটা মোটামুটি ভালো ছিলো।চিকেন ভালোভাবে সেদ্ধও হয়েছে।

ফ্রাইড প্রন ভীষণ মুচমুচে ও মজাদার ছিলো। এই সেট সেন্যুর বাজে অংশ ছিলো তাদের ভেজিটেবলটা। কোনোরকম স্বাদ টের পাইনি ভেজিটেবলে। মনে হয়েছে কিছু সবজি শুধুমাত্র পানিতে আধা সেদ্ধ করে একটি বাটিতে তুলে পরিবেশন করেছে। এ কারণে অনেকটা মন খারাপ হয়েছে।

চিজি চিকেন পাস্তা

source: লেখিকা

প্রথমে দেখে খুব আহামরি কিছু লাগেনি। তবে স্বাদের দিক থেকে বেশ ভালো ছিলো। উপর থেকে না বোঝা গেলেও, চামচের ব্যবহার করতেই পাস্তা ও চিকেনের মিশেল ভালোই চোখে পড়লো। গলে যাওয়া চিজের পরিমাণ ছিলো মোটামুটি রকমের।

পুরো পাস্তার স্বাদ বেশ ভালো ছিলো। পাস্তার ভেতরে শুকনো মরিচের ছোট ছোট টুকরো ছিলো, যা কিছুটা বিরক্তির কারণ হয়েছে। তাছাড়া পাস্তা ভালোভাবে সেদ্ধ ছিলো ও ভেতরে চিজ সহ অন্যান্য উপকরণ বেশ ভালোভাবে ঢুকেছিলো। সব মিলিয়ে স্বাদ নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট।

লাচ্ছি

source: লেখিকা

লাচ্ছি খুব কম খাওয়া হয় পুরান ঢাকা ছাড়া। এর প্রধান কারণ পুরান ঢাকা ছাড়া লাচ্ছির আসল স্বাদটা পাইনা অন্য কোথাও। তবে ক্যাফে কাঠমুন্ডুর লাচ্ছির স্বাদ বেশ ভালো ছিলো।

দাম

সেট মেন্যু ৪০ (২৪০ টাকা)

source: লেখিকা

সেট মেন্যুতে যুক্ত থাকা সব খাবার, খাবারের স্বাদ ও পরিমাণ সব মিলিয়ে দামটাকে ‘মোটামুটি’ পর্যায়েই রাখলো। খিলগাঁও এলাকায় অসংখ্য রেস্টুরেন্ট রয়েছে, সে তুলনায় এখানকার সেট মেন্যুর দাম তুলনামূলক কম মনে হয়েছে। যদিও এর থেকে কম দামেও সেট মেন্যু পাওয়া যায়। তবে পরিমাণ ও স্বাদ বিবেচনা করলে দাম ঠিকই আছে।

চিজি চিকেন পাস্তা (২২০ টাকা)

source: লেখিকা

চিজি চিকেন পাস্তায় চিজ, চিকেন ও পাস্তার মিশ্রণ বরাবর ছিলো। এটি বেশ ভালো লেগেছে। স্বাদের দিক থেকেও পাস্তা বেশ ভালো ছিলো। তবে দামের সাথে তুলনা করলে দাম অনুযায়ী পাস্তা পরিমাণে কম ছিলো।

লাচ্ছি (৭০ টাকা)

লাচ্ছির স্বাদের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে।

পরিবেশ

source: লেখিকা

ছোট্ট রেস্টুরেন্ট। পরিবেশ সাধারণ লেগেছে। ভেতরে ঢোকার পথে ছোট্ট একটা কাঠের সাঁকো রয়েছে। সেটি প্রবেশ পথের মুখে। ভেতরে ঢুকেই ছোট্ট সরু গলি, গলি থেকে সামনে এগিয়ে বাম দিকে মূল অংশ। গলিতে নীল আলোর ব্যবস্থায় একটু ভিন্ন পরিবেশ তৈরি করেছে। এই বিষয়টি ভালোলেগেছে। তবে ভেতরের অংশটি খুব ছোট, এটি কিছুটা গুমোট ভাব তৈরি করে।

সার্ভিস

রেস্টুরেন্টের মালিক উপস্থিত ছিলেন। রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে জানিয়েছেন। বাহিরের অংশে যে কাজ চলছে বিষয়টি ঠিক ধরতে পারিনি, তারাই জানিয়েছেন। প্রত্যেক ওয়েটারের ব্যবহার বেশ ভালো। খাবার সময়মতো দিয়েছে। যেকোনো কথা বিনয়ের সাথে শুনছিলেন।

রেস্টুরেন্টের মালিক খাবারের স্বাদ ও সার্ভিস সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। ভেজিটেবল ভালো না লাগার কথা জানাই তাকে। তিনি এরকমটা হওয়ার কিছু কারণ জানান। বলেন, এরপর থেকে বিষয়টি ভালোভাবে খেয়াল রাখবেন। ছোট করে বলতে গেলে, ক্যাফে কাঠমুন্ডুর সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি ভালো লেগেছে তা হলো তাদের সার্ভিস।

লোকেশন

খিলগাঁও সি ব্লক এলাকা। বাড়ি নম্বর ৬৮১। ‘চায়ের বাড়ি’ থেকে কিছুটা সামনে আগালেই চোখে পড়বে ছোট্ট এই রেস্টুরেন্ট ‘ক্যাফে কাঠমুন্ডু’। তাছাড়া সহজে খুঁজে পেতে গুগল ম্যাপের সাহায্যও নিতে পারবেন।

৬৮১/সি, মালিবাগ চৌধুরী পাড়া, খিলগাঁও, ঢাকা-১২১৯।
ফোন- ০১৭০৬০০১৪৩০

ফিচার ইমেজ- লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here