চকবাজারে ফেন্সি’র দুই টকের ফুচকা ও স্পেশাল চটপটি

0
973

পুরান ঢাকায় রয়েছে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী ভ্রমণের স্থান। পাশাপাশি অসংখ্য রকম খাবারের জন্যও পুরান ঢাকা বিখ্যাত। পুরান ঢাকার অলিগলি জুড়ে পাওয়া যায় নানা স্বাদের মজাদার খাবার। এসব খাবার অনেকেরই প্রিয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ঘুরে বেড়াতে আসেন পুরান ঢাকায়। মজাদার খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন। পুরান ঢাকার খাবারের সুনাম শোনেনি এমন মানুষের সংখ্যাটি নেহাত হাতেগোনা। আমার তো ভীষণ প্রিয় একটি জায়গা পুরান ঢাকা।

ঘোরাঘুরির কিংবা খাওয়া দাওয়ার জন্য পুরান ঢাকার কোনো জুড়ি নেই। আমি তো সুযোগ পেলেই চলে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে। এবারের খাওয়া দাওয়ার গল্পে থাকছে পুরান ঢাকার ব্যস্ততম স্থান, চকবাজার।

source: লেখিকা

প্রায় সময়ই চকবাজারের পথ ধরে যাওয়া হয় সোয়ারীঘাটের দিকে। এবার সুযোগ করে চেখে দেখলাম চক বাজারের ফেন্সি চটপটির দুই টকের ফুচকা ও স্পেশাল চটপটি (ফেন্সির ফুচকা ও চটপটির ঝাল ঝাল স্বাদের পর আপনারা পান করতে পারেন জনপ্রিয় নূরানী কোল্ড ড্রিংসের লাচ্ছি কিংবা লেবুর শরবত)।

‘ফেন্সি চটপটি’তে ফেন্সি কোনো ডিজাইন খুঁজতে গেলে ‘আকাশ থেকে পড়া’ একটা ব্যাপার ঘটে যাবে আপনার সাথে। রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি ফুড ভ্যান, সেই ফুড ভ্যানের গায়ের কাঠে খুবই কমদামি রঙে লেখা ‘ফেন্সি চটপটি’। এটুকু পড়েই নাক কুঁচকে নিতে পারেন অনেকেই, তবে স্বাদের দিক থেকে হতাশ হতে হবে না।

স্ট্রিট ফুডের মধ্যে ফুচকা সবচেয়ে জনপ্রিয়। স্ট্রিট ফুডগুলো ছোট আকারের ফুড ভ্যান বা ফুড ট্রাকে খাবার তৈরি করলেও স্বাদের দিক থেকে পিছিয়ে নেই বড় কোনো রেস্টুরেন্টের থেকে। ফেন্সির ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই।

source: লেখিকা

যারা বড় বড় হোটেল রেস্টুরেন্ট ঘুরে, খেয়ে অভ্যস্ত তাদের কাছে জায়গাটি কেমন লাগবে জানি না, তবে আমার জন্য এটি একদম আলাদা একটি অভিজ্ঞতা। চকবাজার ভীষণ ব্যস্ত একটি স্থান।

প্রয়োজনীয় প্রায় সব সামগ্রীই এখানে পাইকারি মূল্যে বিক্রি হয়। সে সূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীদের আনাগোনা এখানে। লোক আর শোরগোলে পূর্ণ এই জায়গাটি। হাঁটাও বেশ কঠিন এখানকার রাস্তায়। সেই ব্যস্ততার মাঝে চোখে পড়বে এই ছোট্ট ফেন্সির দোকানটি।

দোকানটি শুধুমাত্র চটপটি আর ফুচকা পাওয়া যায়। অসংখ্য মানুষ ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকে এই ফুচকা ও চটপটি খেতে। অনেকের সাথে যোগ দিলাম আমিও। এই প্রচণ্ড ভিড়ে সময় নষ্ট না করে অর্ডার করে ফেললাম তাদের ফুচকা ও চটপটি দুটোই।

source: লেখিকা

ছোট্ট খাবারের ভ্যানটি ঠাসা চটপটি ও ফুচকা তৈরির উপকরণে। ফুচকা ও চটপটি তৈরি করেন এক মামা। তার কাজে সাহায্য করেন আরো দুইজন। একজনকে দেখলাম ক্রমাগত ডিম আর আলুর খোসা ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে। অন্যজন মামার তৈরি করা ফুচকা ও চটপটির প্লেট এগিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতাদের কাছে।

এখানে আপনি কোথাও বসার সুযোগ পাবেন না। খাবারের প্লেটটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েই খেতে হবে। একটু লক্ষ্য করলে অবাক হবেন, বিক্রেতা কী দ্রুততার সাথে একের পর এক প্লেট ফুচকা কিংবা চটপটি তৈরি করে যাচ্ছেন!

প্রথমে বললাম আমাকে স্পেশাল চটপটি দিতে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমার চটপটির প্লেটটি হাতে পেয়ে গেলাম। সেদ্ধ বুটের ডাল, পেঁয়াজ কুচি, কাচা মরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, বিভিন্ন ধরণের মসলা, সেদ্ধ আলু কুচি, সেদ্ধ ডিম কুচি ও তেঁতুলের টকের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে এই মজাদার চটপটি।

source: লেখিকা

অন্যান্য সব জায়গাতেও এই উপকরণগুলো ব্যবহার করা হয় চটপটি তৈরিতে৷ তবে এখানকার চটপটি অন্যান্য জায়গার তুলনায় আলাদা হওয়ার মূল কারণ এখানকার আলাদা কিছু মসলা। যা তাদের খাবারের স্বাদটিকে ভিন্নতা দেয়। টকের স্বাদটাও কিছুটা আলাদা এখানকার। আর এই চটপটিতে ডিমের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় এর নাম ‘স্পেশাল চটপটি’।

চটপটির পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। তাই পুরোটা শেষ করতে পারলাম না। কিছু জায়গা বাঁচিয়ে রাখলাম ফুচকার জন্য৷ এতদূর এসে এই খাবারটির স্বাদ মিস করে যেতে ইচ্ছে করছিল না। চটপটির প্লেটটি ফিরিয়ে দিতে দিতে অর্ডার করলাম ফুচকা।

ফুচকা রেডি হতেও খুব বেশি সময় লাগল না। খুব দ্রুতই নিজের প্লেটটি হাতে পেয়ে গেলাম। ফুচকার স্বাদ বাড়িয়ে দিয়েছে সাথে দেয়া টক। এই টক সাদা রঙের।

source: লেখিকা

টক তৈরি করা হয়েছে বোরহানি, তেঁতুল, মরিচ ও কিছু মসলা মিশিয়ে। এই টক একেবারেই আলাদা। এরপর এই টক শেষ করে চাইলাম তেঁতুলের টক। আপনি চাইলেই দুটো টকই নিতে পারেন এক প্লেট ফুচকার সাথে।

খাবারের স্বাদ

খুব আহামরি ধাঁচের নয়। তবে মজাদার ও অন্যান্য জায়গার ফুচকা, চটপটির চেয়ে অনেকটা আলাদা। ফুচকা এবং চটপটি কোনোটিই খারাপ লাগবে না আশা করি। বিশেষ করে যারা এ ধরনের স্ট্রিট ফুড খেতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে ভাল লাগবে।

রেটিং

ফুচকা: ৭/১০
চটপটি: ৮/১০

মূল্য

ফুচকা ও চটপটি দুটোই প্রতি প্লেট ৩০ টাকা। পরিমাণ অনুযায়ী দাম খুবই কম। এক প্লেট ফুচকা ও এক প্লেট চটপটি বাবদ খরচ হয়েছে মাত্র ৬০ টাকা।

পরিবেশ

রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি দোকান। প্রচণ্ড ভিড়ের এলাকা। হইচই, মানুষের চলাচল। যারা পুরান ঢাকায় অভ্যস্ত নন তাদের কাছে খুবই অস্বস্তিদায়ক পরিবেশ হতে পারে৷ বসারও কোনো ব্যবস্থা নেই। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খেতে হবে। হইচই শুনতে হবে। আরাম করে দাঁড়ানোর সুযোগও কম।

লোকেশন

১১৮ চকবাজারে যেতে হবে প্রথমে। গলির ভেতরের দিকে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে খুঁজলেই পাবেন ‘এ, রহিম এন্ড সন্স’ এর কসমেটিকস আর খেলনার দোকানটি। এই দোকানটির সামনেই দাঁড়িয়ে থাকে ফেন্সির চটপটি নামক ছোট্ট, সাধারণ ফুড ভ্যানটি। আরো সহজে খুঁজে পেতে, চক বাজারে পৌঁছে ‘৪ নম্বর’ দোকানটি খুঁজে নেবেন।

ফিচার ইমেজ- লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here