চট্টগ্রামের ক্রাশ ক্যাফের জনপ্রিয় চিকেন চাপ

0
955

“ক্রাশ ক্যাফে” ঢাকাবাসী হয়েও চট্টগ্রামের রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে পরিচিত নাম। চট্টগ্রামের পরিচিতদের থেকে তো ক্রাশ ক্যাফের চিকেন চাপের কথা শুনেছিই, ফেইসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও থেকেও পরিচিত নাম ক্রাশ ক্যাফে। এর আগে চট্টগ্রাম ট্যুরে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও ক্রাশ ক্যাফেতে যাওয়া হয়নি। তাই এবার আর সুযোগটা ছাড়িনি।

আমরা ক্রাশে চিকেন চাপ খেতে তিনজন বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম। এরমধ্যে একজনের চট্টগ্রাম শহরের রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে ক্রাশ ক্যাফে সবচেয়ে প্রিয়। সেই বন্ধুর থেকে ক্রাশ ক্যাফের চিকেন চাপের এতো প্রশংসা শুনেছি যে, খাওয়ার আগেই প্রত্যাশা জন্মেছিলো অনেক। আর সেই প্রত্যাশার পুরোটাই মিটেছিলোও।

ক্রাশ ক্যাফেতে চিকেন চাপের একটি প্যাকেজ। এক পিস চিকেন চাপ, একটি এরাবিক ব্রেড এবং এক গ্লাস কোল্ড ড্রিঙ্ক। মাস দুয়েক আগ পর্যন্তও এই একটি আইটেমই ছিলো ক্রাশ ক্যাফেতে। স্থানীয় বন্ধুরা জানায়, শুধু চিকেন চাপ থাকলেও প্রতিদিনই রেস্টুরেন্টিতে ভিড় লেগেই থাকে। সম্প্রতি ক্রাশ ক্যাফে চিকেন চাপের সাথে আর দুটি সেট মেন্যু খাবার আইটেমে নিয়ে এসেছে।

চিকেন চাপের প্যাকেজ; Source: লেখিকা

আমি ক্রাশ ক্যাফের যে শাখাটিতে গিয়েছিলাম তা চট্টগ্রামের ফিনলে স্কয়ারে অবস্থিত। এটি ফিনলে স্কয়ারের ফুড স্কয়ারে অবস্থিত, আলাদা নিরিবিলি রেস্টুরেন্ট নয়। আর চিকেন চাপের ক্রেতা অধিক হওয়ায় সবসময়েই ভিড় থাকে। আমরা গিয়ে পছন্দমতো জায়গাই পাইনি। তবে ওয়েটাররা যথেষ্ট আন্তরিক। পছন্দমতো না হলেও উনারা সাথে সাথেই একটি টেবিলে বসার ব্যবস্থা করে দেন।

বসার পরেই টেবিলে নতুন রাখা মেন্যু থেকে আমরা জানতে পারি শুধু চিকেন চাপ নয়, এখন সেট মেন্যুও পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের আর কিছু দেখার দরকার ছিলো না। বসেই তিনটি চিকেন চাপের অর্ডার করে দিই। সেদিন পতেঙ্গা ঘুরে এসেছিলাম। দুপুরে তেমন কিছু খাওয়া হয়নি বলে, প্রচণ্ড ক্ষুধা ছিলো। এজন্যই অপেক্ষার সময়টা খানিকটা দীর্ঘ ছিলো।

তবে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় নেয়নি। দশ মিনিটের মধ্যেই আমাদের গরম গরম চিকেন চাপ আর এরাবিড ব্রেড পরিবেশন করে। খাবার পেয়েই আমরা একরকম হামলে পড়ি। মুখে দেয়ার পরেই টের পাই ক্রাশ ক্যাফের চিকেন চাপ কেন এতোটা বিখ্যাত। স্বাদের এবং গুণমানের দিকে কোনোরকম ছাড় দেয় না ক্রাশ ক্যাফের কর্তৃপক্ষ।

ক্রাশ ক্যাফের চিকেন চাপ; Source: লেখিকা

প্রথমেই বলি এরাবিক ব্রেডের ব্যাপারে। চিকেন চাপের সাথে আমি সবসময়ই নান বা তন্দুরি খেয়েছি। ক্রাশ ক্যাফেতে প্রথমবার অন্যরকম কিছু খেলাম। এরাবিক ব্রেডটি কিছুটা পরোটার মতো। তবে পরোটা নয়। অনেক শর্মাতে এমন রুটি ব্যবহার করে। তুলতুলে আর নরম এরাবিক ব্রেড খেয়ে মনে হচ্ছিলো, চিকেন চাপ আসলে শুধু এরাবিক ব্রেড দিয়েই খাওয়া উচিৎ।

ক্রাশ ক্যাফের চিকেন চাপটি দেখতেই বেশ লোভনীয়। এতোটা জুসি যে দেখলেই কখন খাওয়া শুরু করবো, মাথায় ঘুরতে থাকে। সাধারণত চিকেন চাপ এতোটা জুসি হয় না। এই জুসিনেসটাকে ক্রাশ ক্যাফের চিকেন চাপের বিশেষত্ব বলা যায়। চাপের মাংসের পিসের ওপর রেস্টুরেন্টের নিজস্ব বিশেষ ধরনের সসের প্রলেপ, স্বাদ বাড়িয়ে দেয় প্রায় দ্বিগুণ।

মাংস একদমই শক্ত লাগেনি আমার কাছে। বেশ নরম একই সাথে ভাজাও একদম ঠিকঠাক। এতো ভালো করে ভাজা যে, লেগ পিসের হাড্ডিটা পর্যন্ত চিবিয়ে খেতে পেরেছিলাম। চাপের জুসিনেস ছাড়াও ওপরে পোড়া পোড়া একটি ভাবও ছিলো। তবে পোড়াভাবটা অতিরিক্ত নয়, চাপে যতটুকু মানানসই ততটুকুই।

চিকেন চাপ; Source: লেখিকা

ক্রাশ ক্যাফের চিকেন চাপটি বেশ ঝাল। একবারেই ঝাল খেতে না পারলে খাওয়ার আগে একটু চিন্তা করে নেবেন। আমিও তেমন ঝাল খেতে পারি না। তবে এই চিকেন চাপটি ঝাল না হলেই বোধহয় ভালো লাগবে না। শুধু ঝালই নয়, সস ব্যবহার করায় টক-মিষ্টি ফ্লেভারও পাবেন। টক-ঝাল-মিষ্টি তিনটি স্বাদ মিলিয়েই খেতে দারুণ এই চিকেন চাপের স্বাদ।

চাপের সাথে গার্লিক মায়ো সস ছিলো আর অল্প সালাদ। ক্রাশ ক্যাফের খারাপ দিক বলতে সস দেয়ার ব্যাপারটা শুনেছি এবং দেখেছিও। খুবই অল্প পরিমাণে সস দেয় চাপের সাথে। আবার চেয়ে নিলেও পরিমাণটা বাড়ায় না। আমাদের যতটুকু সস দিয়েছিলো তাতে খাওয়া হয়নি, আবার বলে নিতে হয়েছিলো। কিন্তু সসটি বেশ মজাদার। আর এজন্যই আমার মতো সসপ্রেমী যেকেউ চাপের আগেই সস খেয়ে শেষ করে ফেলবেই।

ফিনলে স্কয়ারের ফুড স্কয়ার; Source: লেখিকা

রেটিং

ক্রাশ ক্যাফের চিকেন চাপ একটি পুরো প্ল্যাটার। সে হিসেবে রেটিং দিতে গেলে এরাবিক ব্রেড এবং চিকেন চাপের একসাথেই দিচ্ছি। আমি মজাদার এই চিকেন চাপের প্ল্যাটারটিকে ৯/১০ এর কম দিতেই পারলাম না।

মূল্য

এক পিস চিকেন চাপ, একটি এরাবিক ব্রেড এবং এক গ্লাস পছন্দসই কোল্ড ড্রিঙ্কসহ এই প্ল্যাটারটির মূল্য মাত্র ১৪০ টাকা। আর আলাদা করে একটি এরাবিক ব্রেডের নিতে চাইলে আপনাকে আরো অতিরিক্ত ২০ টাকা গুনতে হবে।

মূল্যতালিকা; Source: লেখিকা

পরিবেশ

যেকোনো ফুড স্কয়ারের পরিবেশ যেমন হয়, ক্রাশ ক্যাফের ফিনলে স্কয়ারের শাখাটির পরিবেশও তেমনই। অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট পাশাপাশি, সবগুলোর বসার জায়গা কাছকাছিই। খোলা জায়গা হওয়ায় কোলাহল বেশি। মোটামুটি সব রেস্টুরেন্টেই গান বাজছে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য ঠিকঠাক জায়গা।

এছাড়াও ক্রাশ ক্যাফের চকবাজারে আরো দুইটি শাখা রয়েছে। তবে নতুন শাখাটিতে চাপ পাবেন না। পুরনো শাখাটির পরিবেশও বেশ সাধারণ। জায়গাও অনেক কম। ওয়েটারদের ব্যবহার বেশ ভালো। তবে রেস্টুরেন্টটির সার্ভিস আমার কাছে এতোটা ভালো লাগেনি। ক্রেতা প্রচুর, সেজন্যই আরেকটু প্রফেশনাল হওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়।

লোকেশন

ফিনলে স্কয়ার – ফিনলে স্কয়ারের পাঁচ তলার ফুড স্কয়ারে ক্রাশ ক্যাফের শাখাটি অবস্থিত।

চকবাজার – ১৬৫, চটেশ্বরী রোড, চকবাজার, চট্টগ্রাম।

Feature Image: লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here