জনপ্রিয়তা ও ক্ষতিকর প্রভাব

0
1721

‘গোলা আইসক্রিম’ নামটির সাথে আমরা প্রায় সবাই কম-বেশি পরিচিত। অনেকের হয়তো শৈশবের রঙিন একটি অংশ ছিলো এই গোলা আইসক্রিম। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, বেগুনী সহ আরো কত রঙের মিশেলে পাওয়া যায় এই গোলা! গরমকালে এই আইসক্রিমটি বেশি দেখা যায়।

মূলত একটি বিশেষ মেশিনের সাহায্যে বরফ গুঁড়ো করে, সেই বরফের গুঁড়োকে হাতে চেপে বিশেষ কোনো আকৃতি দিয়ে তার উপর বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করে তৈরি করা হয় গোলা আইসক্রিম। তারপর ছোট্ট পলিথিন কিংবা প্লাস্টিকের গ্লাসে দেয়া হয় খাওয়ার জন্য।

গোলা আইসক্রিম; source: লেখিকা

ব্যবহার করা হয় কাঠি। সে কাঠির সাহায্যে ধরে খাওয়া হয় গোলা।

এই গোলা আইসক্রিম আমরা কেউ খেয়েছি, কেউ এড়িয়ে গেছি নানা কারণে। চলুন জেনে নেয়া যাক গোলা আইসক্রিম সম্পর্কিত জানা-অজানা কিছু তথ্য।

গোলা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ ও গোলা আইসক্রিম তৈরির প্রক্রিয়া

মেশিনে গুঁড়ো করা হচ্ছে বরফ; source: লেখিকা

গোলা আইসক্রিম তৈরির মূল উপকরণ বরফ। সাধারণত বিশেষ একটি মেশিনের মাধ্যমে বরফ গুঁড়ো করা হয়। কেউ কেউ মোটা কাপড়ে মুড়ে শক্ত কাঠের সাহায্যে বাড়ি দিয়ে দিয়ে গুঁড়ো করে থাকে বরফ। এই গুঁড়ো করা বরফই গোলা আইসক্রিম তৈরি করার প্রধান উপকরণ। বরফ ছাড়া গোলা আইসক্রিম তৈরি করা সম্ভবই নয়।

গুঁড়ো করা বরফ হাতে চেপে বিশেষ কিছু আকৃতি দেয়া হয়। কখনো গোল আকৃতি, কখনো চেপ্টা কিংবা ডিম্বাকৃতি। বিশেষ কিছু স্থানে গোলা আইসক্রিমকে বিশেষ আকৃতি দেয়ার জন্য কিছু সামগ্রী ব্যবহার করা হয়৷ যেসব সামগ্রীর বিশেষ আকৃতির ভেতর বরফের গুঁড়ো দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু আকৃতি তৈরি করা হয়।

রং মেশানো হচ্ছে গোলা আইসক্রিমে; source: লেখিকা

সেসব আকৃতির মধ্যে রয়েছে চাঁদ, তারা ইত্যাদি। আকৃতি তৈরির আগে বরফের মাঝামাঝি ছোট আকারের কাঠি দেয়া যায়। যেন সেই কাঠি ধরে সহজেই খাওয়া যায় গোলা আইসক্রিম।

বরফের গুঁড়োগুলোকে আকৃতি দেয়া হয়ে গেলে আসে গোলা আইসক্রিমকে আকর্ষণীয় করার পর্ব। বিভিন্ন রং ছড়িয়ে গোলা আইসক্রিমকে রঙিন করে তোলা হয়। এটিই মূলত গোলা আইসক্রিমকে সবার কাছে প্রিয় ও আকর্ষণীয় করে তোলে।

গোলা আইসক্রিমের স্বাদ

বরফ ও রং মিশিয়ে তৈরি গোলা আইসক্রিম; source: লেখিকা

গোলা আইসক্রিমের স্বাদ কেমন তার উদাহরণ কিছুটা এমন হতে পারে ‘বরফ গলা পানি ও সাধারণ খাবার রং একসাথে খেতে যেমন লাগবে’ তেমন। জি, প্রায় অধিকাংশ জায়গাতেই খুব সাধারণভাবে তৈরি করা হয় গোলা আইসক্রিম। বরফ এবং ফুড কালার; এর বেশি কিছুই নয়। অনেক জায়গায় ফুড কালারের থেকেও নিম্নমানের রং ব্যবহার করা হয় গোলা আইসক্রিমকে রঙিন করে তুলতে।

গোলা আইসক্রিমের জনপ্রিয়তা

শিশুদের কাছে জনপ্রিয় গোলা আইসক্রিম; source: লেখিকা

স্বাদে যেমনই হোক, গোলা আইসক্রিমের জনপ্রিয়তা অনেক। যদিও পূর্বের মত গোলা আইসক্রিমের দেখা পাওয়া যায় না। তবে এর জনপ্রিয়তা একেবারেই কমে যায়নি। তরুণ, কিশোররা গোলা আইসক্রিম বেশ পছন্দ করলেও গোলা আইসক্রিমের বেশি জনপ্রিয়তা শিশুদের কাছে। মূলত, শিশুরা রঙিন বিষয়গুলোর প্রতি সহজে আকৃষ্ট হয় বলেই হয়তো।

গোলা আইসক্রিম যে স্থানগুলোতে বেশি পাওয়া যায়

হাতে বরফ চেপে তৈরি হচ্ছে গোলা; source: লেখিকা

আমাদের দেশ ছাড়া আরো অনেক দেশেই গোলা আইসক্রিম পাওয়া যায় এবং গোলা আইসক্রিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের অনেকগুলো অংশে। কলকাতাসহ ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলের মানুষ গোলা আইসক্রিম খুবই পছন্দ করেন। গোলা আইসক্রিমের প্রতি তাদের আলাদা এক ভালোবাসা কাজ করে।

আমাদের দেশে পূর্বের তুলনায় গোলা আইসক্রিম অনেক কম দেখা যায়। তবে অনেক বেশি গোলা আইসক্রিম দেখতে পাবেন পুরান ঢাকার জিনজিরা কিংবা মান্দাইল এলাকার দিকে। মূলত শিশুদের স্কুলের সামনে গোলা আইসক্রিমের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো বেশি দেখা যায়।

গোলা আইসক্রিমে ব্যবহৃত রং

গোলা আইসক্রিমে ব্যবহৃত রং; source: লেখিকা

গোলা আইসক্রিম তৈরির জন্য যে রং ব্যবহার করা হয় তা মূলত চিনির রস। এই চিনির রস বাজারের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান থেকে সংগ্রহ করে থাকে বিক্রেতারা। যেমন, রসগোল্লা বিক্রি শেষ হলে যে অবশিষ্ট রস থাকে তা দিয়েই চিনির রস তৈরি করা হয়। মিষ্টির দোকান থেকে পাওয়া না গেলে, বিক্রেতারা নিজেরাই চিনির রস তৈরি করে নেয়।

চিনির সাথে বিভিন্ন রং মিলিয়ে, জ্বাল দিয়ে রংগুলো তৈরি করেন তারা। প্রায়ই দেখা যায় এই উপকরণটি তৈরি করতে যে রং ব্যবহার করেন তারা তার কোনটিই খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহারের উপযোগী কোনো ফুড কালার নয়। এগুলো খুবই সাধারন মানের রং।

আমাদের দেহে গোলা আইসক্রিমে ব্যবহৃত রঙের ক্ষতিকারক প্রভাব

গোলা আইসক্রিম; source: লেখিকা

গোলা আইসক্রিমে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরনই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মূলত নিম্নমানের রং, অস্বাস্থ্যকর পানি দিয়ে তৈরি বরফ আর তার মিশ্রণে তৈরি করা হয় গোলা আইসক্রিম। আর এই নিম্ন মানের রং ও অস্বাস্থ্যকর বরফের মাধ্যমে তৈরি আইসক্রিম খেয়ে শিশুরা ডায়রিয়া, আমাশয়, কিডনির পীড়াসহ নানা প্রকার জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

শুধু তাই নয়, গোলা আইসক্রিমে ব্যবহৃত রাসায়নিক রং খাওয়ার ফলে কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও পাকস্থলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে বড়দের তুলনায় শিশুদের ঝুঁকি বেশী থাকে। তাই শিশুদেরকে এই বিষাক্ত মজাদার খাবার থেকে দূরে রাখার জন্য সকলের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা উচিত।

ফিচার ইমেজ- লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here