জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি খাবার

0
781

জাপানের অসাধারণ এবং খুবই আলাদা নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্য আছে। জাপানের রয়েছে হাজার রকমের খাবার। জাপানের কোনো রেস্তোরায় গেলে কোনটা রেখে কোনটার স্বাদ নিবেন, হয়ত বুঝতেই পারবেন না। কোন কোন খাবারের স্বাদ আগে নেয়া উচিত, সেটা বুঝতেই জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু খাবারের তালিকা জানাচ্ছি আপনাদের।

১. সুশি/সাশিমি

জাপান বললেই যে খাবারের ছবি মাথায় আসবে সবার আগে, সেটা সম্ভবত সুশি আর সাশিমি। সারাবিশ্বে সমানভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করা জাপানের একটা খাবার সুশি। চাল, ভিনেগারের মিশ্রণ (লবণ আর চিনি দিয়ে বানানো), বিভিন্ন ধরনের মাছ, তরকারি আর সীউইডসহ হরেকরকমের উপাদান দিয়ে বানানো হয় মজাদার এই খাবার। চপস্টিক দিয়ে একটুকরো তুলে সয়া সস আর ওয়াসাবিতে ডুবিয়ে মুখে দিলেই পাওয়া যাবে অতুলনীয় এই স্বাদ। সুশিতে বিভিন্ন রকমভেদ আছে। নিগিরি সুশি, মাকি সুশি, ওশি সুশি, তেমাকি সুশি এগুলো অন্যতম।

সুশি; Source: triplelights.com

সাশিমি মূলত কাঁচা মাছ যেটা ওয়াসাবি নামক খুব ঝাল জাপানি একটা চাটনি, সয়া সস আর শুধুমাত্র একটুকরো মূলা দিয়ে পরিবেশন করা হয়।

২. রামেন

রামেন এই মুহূর্তে জাপানের খুব জনপ্রিয় একটা খাবার। এটা গমের তৈরি এক বাটি লুডলস, সয়া সস অথবা মিসো স্যুপের সাথে বিভিন্নরকমের উপাদান মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

রামেন; Source: triplelights.com

সহজলভ্য রামেনে এক টুকরো শুয়োরের মাংস, সবুজ পেয়াজ, সী উইড আর ডিমের সাথে দেয়া হয়। এই খাবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে স্যুপ। রামেনের মধ্যে সুকেমেন রামেনটা সবচেয়ে বেশি আলাদা।

৩. তেম্পুরা

তেম্পুরা জাপানের একটা ফ্রাইড স্ন্যাকস। যেটা বানানো হয় সীফুড এবং তরকারি দিয়ে। এছাড়াও বিভিন্ন পাখি এবং মাছ দিয়েও তেম্পুরা বানানো হয়। বানানোর আগে সয়া সস, আদা আর চিনি দিয়ে হালকা আঁচে ভেজে নেয়া হয়। আর প্রায় যেকোনো তরকারি দিয়ে এটা তৈরি করা যায়।

তেম্পুরা; Source: triplelights.com

তবে খেয়াল রাখতে হয়, যাতে টুকরোগুলো এক কামড়ে খাওয়া যায়। যদিও এটা তেলে ভাজা, তারপরও নজর রাখা হয় যাতে খুব বেশি তৈলাক্ত না দেখায়। তেম্পুরা তেতসুয়ু নামের বিশেষ ধরনের সসের সাথে পরিবেশন করা হয়। এই সস কনসোমে, সুইট সেইক, সয়া সয়া, আদা, মূলা আর বিভিন্ন রকম মশলার সংমিশ্রণে তৈরি হয়।

৪. কারে রাইসু (ভাত-তরকারি)

সহজ, মজাদার এবং জনপ্রিয় এই তিনটি শব্দ যদি কোনো খাবারের ব্যাপারে বলা যায় সেটা হবে কারে রাইসু। এটা শুধুমাত্র ভাতের সাথে তরকারি হলেও স্বাদটা পুরোপুরি আলাদা। এটা রান্নার সময় বিভিন্ন রকমের মাংস আর সবজি ব্যবহার করা হয়। সাধারণ সবজিগুলো হলো পেঁয়াজ, গাজর, মিষ্টি আলু।

কারে রাইসু (ভাত-তরকারি); Source: triplelights.com

আর এই রেসিপিতে মুরগি, শুয়োর, গরু এবং মাঝে মাঝে হাঁসের মাংস দেওয়া হয়। খাবারে ঝালের মাত্রার উপর তিনটা স্তর থাকে ঝাল ছাড়া, অল্প ঝাল, খুব ঝাল।

৫. অকোনোমিয়াকি

এটা মূলত আটা, মিষ্টি আলু আর ডিমের একটা মিশ্রণ। তবে আপনি যদি চান, তাহলে যেকোনো কিছু যোগ করতে পারবেন। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সবুজ পেঁয়াজ, গরুর মাংস, চিংড়ি, অক্টোপাস, সবজি, মোচি আর পনির। এটা একটা তাওয়াতে রান্না করা হয়।

অকোনোমিয়াকি; Source: triplelights.com

রাঁধুনি টেবিলে এসে ভোজন রসিকদের সামনেই তৈরি করে এ মজাদার খাবার। আর ক্রেতা চাইলেই নিজে উপাদানগুলো দেয়ার ব্যাপারে রাঁধুনিকে সাহায্য করতে পারেন। যেহেতু এটা প্রস্তুতের সময় দুই পাশ থেকেই রান্না করা হয়, তাই যখন কাজ শেষ হয়, তখন কিছুটা চাপ আর মজার মুহূর্ত সৃষ্টি হয়।

৬. শাবু শাবু

শাবু শাবু ঢাকনা বদ্ধ পাত্র রান্না করা বিভিন্ন সবজি আর মাংসের মিশ্রণ। এই খাবারটা রান্না করার জন্য বিভিন্ন রকমের মাংস আর সীফুড ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে নরমগুলো। আর সাথে থাকে তরকারি, টফু এবং নুডলস।

শাবু শাবু; Source: triplelights.com

এটা খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে আপনি এক টুকরো মাংস বা সবজি নিবেন, তারপর সেটা গরম পানি বা কনসোমেতে ডুবিয়ে রাখবেন। তারপর রান্না হয়ে গেলে তিলের সসে একবার চুবিয়ে অল্প একটু ভাত দিয়ে খেয়ে নিবেন। খেতে বেশ মজাদার ও সুস্বাদু মনে হবে!

৭. মিশো স্যুপ

এই স্যুপটা প্রায় প্রতিটা খাবারের সাথেই সাইড ডিশ হিসেবে পরিবেশন করা হয়। এই স্যুপটা বানানো হয় মিশো (গাঁজানো সয়া বীন) এবং দাশি নামের কনসোমের মিশ্রণে। এই স্যুপের মধ্যে আপনি টফু, ওনিয়ন ওয়াকানে সীউইড এবং মাঝে মাঝে মিষ্টি আলু, গাজর আর মূলার টুকরো খুঁজে পাবেন।

মিশো স্যুপ; Source: triplelights.com

এটা কখনোই মূল খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয় না। এটা সবসময় এক বাটি ভাত কিংবা অন্য কোন খাবারের সাথে পরিবেশিত হয়।

৮. ইয়াকিতরি

শুরুর দিকে এই খাবার তৈরি করা হতো মুরগি দিয়ে। তবে ইদানীং মুরগি ছাড়াও শুয়োর, গরু আর মাছ দিয়েও এই খাবার তৈরি হয়।

ইয়াকিতরি; Source: triplelights.com

এই খাবারটা মাংস আর সবজিকে একসাথে করে গ্রিলে রান্না করা হতো, তারপর তেরিয়াকি সসে চুবিয়ে খাওয়া হয়। এটা জাপানের বহুল প্রচলিত ফাস্ট ফুড।

৯. ওনিগিরি

এটা জাপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ন্যাকস। অনিগিরি হচ্ছে ভাতের তৈরি বল, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাবারের সাথে অল্প আঁচে রান্না হয়। যার ফলে এর স্বাদ কখনো মুরগি, কখনো তরকারি, মাছ কিংবা শুয়োরের মাংসের মতো লাগে।

ওনিগিরি; Source: triplelights.com

এটা মাঝে মাঝে সীউইড কিংবা ডিম দিয়ে পেঁচানো থাকে। কখনো কখনো শুধুমাত্র সস, তরকারি কিংবা ফুরিকাকে দিয়ে মেশানো থাকে।

১০. উদন

উদন হচ্ছে গমের আটা দিয়ে বানানো একধরনের পুরু নুডলস। এটি সাধারণত কনসোমের সাথে সয়া সস আর মিরিন দিয়ে পরিবেশন করা হয়। বেশিরভাগ সময় এর সাথে পেঁয়াজ দেয়া হয়।

উদন; Source: triplelights.com

এটি ঠাণ্ডা বা গরম, দুই ভাবেই খাওয়া যায়। জাপানে দ্রুত কিছু খেয়ে নিতে চাইলে, উদন হচ্ছে সবচেয়ে ভালো পছন্দ।

ফিচার ইমেজ- triplelights.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here