জেনে নিন আমের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে

0
1364

ফলের রাজা আম খুব মজাদার। এটি খুব জনপ্রিয় ফল। সব বয়সের মানুষের কাছে এই ফল ব্যাপক জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য। ঋতুবৈচিত্রের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এদেশে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন লোভনীয় ফলের আগমন ঘটে। জ্যৈষ্ঠ মাসের আগমন ঘটে পাড়ায় পাড়ায়  পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে দিয়ে। বৈশাখ মাসেই আমের ধুম পড়ে যায়। পুরো জ্যৈষ্ঠ জুড়ে থাকে এর পূর্ণতা।

সারা পৃথিবীতে আমের সুনাম ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। পৃথিবীতে ৩৫ প্রজাতির আম রয়েছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে বেশ কয়েক প্রজাতির আম পাওয়া যায়। জনপ্রিয় ফল আম শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতাও। আম শুধুমাত্র তার স্বাদের জন্য জনপ্রিয় নয়, এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও জনপ্রিয়। জেনে নিন ফলের রাজা আমের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

পুষ্টিগুণ

আমে ভিটামিন এ, সি, বি৬, কে, ফলিক অ্যাসিড, উচ্চ প্রোটিন, আঁশ, পটাশিয়াম আছে। আমে ফ্যাটের পরিমাণ খুব অল্প। আমে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপার, বিটা ক্যারোটিন, জিয়াজ্যান্থিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ৭০ কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট, ০.৫ গ্রাম চর্বি, ০.২৭ গ্রাম খাদ্য আঁশ, ১.৮০ গ্রাম ফোলেট, ০.১২৪ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লোভিন, ০.০৫৭ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.০৫৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২৭.২৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ, ১.১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন কে, ২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১০ মিলিগ্রাম কপার, ৯ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি রয়েছে।

আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা

মজাদার ফল আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। আমের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে জেনে নিন।

আম পুরো দেহের রক্ষণাবেক্ষণ করে

আমের পুষ্টি উপাদান অনেক। আম খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। কারণ আমে ফসফরাস, পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম আছে। তাই উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য আম বিশেষ উপকারী ফল। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আমের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ভিটামিন সি,এ, বি, রিভোফ্লোবিন, নায়াসিন, থায়ামিন থাকার কারণে অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূর হয় এবং শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

Photo: GreenBlender

আমে থাকা ভিটামিন এ যৌন চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং সেক্স ক্রোমজোমের কার্য প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। আমে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে পুষ্টির যোগান দেয় এবং শরীরকে ভাল রাখে। হার্টের সমস্যা, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যা, ক্যানসার সহ নানা রোগ উপশমে আমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ক্যানসার প্রতিরোধ

জনপ্রিয় ফল আম ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ আমে রয়েছে উচ্চ পেকটিন আঁশ। আম শরীরে ফ্যাট জমতে দেয় না। এমনকি আমে খুব অল্প ফ্যাট আছে। আমে বিদ্যমান পেকটিন মূত্রথলির ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

Photo: Fruteria de Valencia

ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গবেষণা করে জানিয়েছেন আমে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আম খেলে স্তন ক্যানসার, ত্বক ও কোলন ক্যানসার থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। আমে থাকা ক্যারোটিন, এস্ট্রাগ্যালিন, ফিসেটিন, গ্যালিক অ্যাসিড ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ওজন বাড়াতে সাহায্য করে

সুস্বাদু ফল আম ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। ১৫০ গ্রাম আমে মাত্র ৮৬ ক্যালরি আছে যা সহজে হজম হয়। যাদের ওজন অনেক কম তাদের জন্য আম উপকারী। তবে আমে ফ্যাটের পরিমাণ অল্প। এতে ক্ষতিকর ফ্যাট নেই। আমের জুস, মিল্কশেক, পাকা আম খেলে ওজন বাড়বে।

হাড় গঠনে আম

হাড় গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম খুব উপকারী। আর আমে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। হাড়, দাঁত গঠনে ও সুরক্ষায় আমের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

Photo: medicalnewstoday.com

প্রতিটি মানুষের আম খাওয়া উচিত। কারণ দাঁতের সুরক্ষার সাথে সাথে হাড়ের জন্য আম বেশ উপকারী ফল।

কর্মশক্তি বৃদ্ধি

আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কর্মশক্তি বৃদ্ধি করে। আম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে আম খাওয়া উচিত নয়। এতে ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

কোলেস্টরেলের মাত্রা কমায়

আমে থাকা উপাদানসমূহ কোলেস্টেরেলের মাত্রা কমায় এবং দেহকে সুস্থ রাখে। আমে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি, পেকটিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আঁশ থাকার কারণে আম খেলে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে।

Photo: A Natural Farm

আম খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাছাড়া অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে যে ঘাম বের হয় তাতে শরীরের সোডিয়াম কমে যায়। কাঁচা আম সোডিয়াম পূরণ করে।

হজমে সাহায্য করে

আম হজমে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটি দূর করায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে। আমে থাকা বায়োটিক উপাদান যেমন স্টার্চ, এলডিহাইড ইত্যাদি ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। আম হজমক্রিয়া উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রক্তশূন্যতা দূরে রাখায় সহায়ক

আম এমন একটি ফল যা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। কারণ আমে রয়েছে যথেষ্ট আয়রন অর্থাৎ লৌহ। এই উপাদানটি রক্ত গঠনে সহায়তা করে। এছাড়া আম খেলে দূর্বলতা, গর্ভবতী মায়েদের মর্নিং সিকনেস, বমি বমি ভাব দূর হয়। আম ভ্রুণ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

ত্বকের যত্নে আম

আপনি হয়ত এটি জেনে অবাক হতে পারেন। আম ত্বকের যত্নে ভূমিকা রাখে। আম ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

Photo: Indian Makeup and Beauty Blog

আপনি যদি বেশি করে আম খান তাহলে কিছুদিনের মধ্যে আপনার ত্বক ও মুখ মসৃণ ও সুন্দর হবে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

বয়সের ছাপ দূরীকরণ

আমে রয়েছে ভিটামিন এ, সি যা শরীরের ভেতরে কোলাজেন প্রোটিন তৈরি করতে সহায়তা করে। কোলাজেন রক্ত শোধন ও টিস্যু গঠনে কাজ করে। আম ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা দূর করে বয়সের ছাপ দূরীকরণে সহায়তা করে। বয়সজনিত কারণে পেশি দূর্বল হয়ে গেলে তার ভঙ্গুরতা দূর করতে সাহায্য করে আম।

মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে

আম পড়ালেখায় মনোযোগী করতে ভূমিকা রাখে। কারণ এতে অধিক পরিমাণে গ্লুটামাইন নামক প্রোটিন রয়েছে যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here