জেনে নিন উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ সকালের খাবার সম্পর্কে

0
7959

সকালের খাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। কারণ প্রায় অধিকাংশ মানুষ যারা অফিস, আদালত, স্কুল প্রতিষ্ঠানে যায় তারা বাসা থেকে কেবল সকালের খাবার খেয়ে যায়। তাই সকালের খাবার স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর হওয়া উচিত। কারণ সকালে পুষ্টিকর খাবার না খেলে শরীর দূর্বল হয়ে যায়, মাথা ঘোরে এবং নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে আবার সকালের খাবার খেতে চায় না। এটি খুবই ভয়ঙ্কর।

কেউ কেউ সকালে শর্করা জাতীয় খাবার বেশি খেয়ে থাকে। সকাল বেলা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। কারণ দেহ গঠন, ক্ষয় পূরণ, চামড়ার পুরুত্ব বৃদ্ধি, নখের গঠন, শক্তি বৃদ্ধি পায় প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে। যারা ডায়েট করতে চায়, তাদের উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুব প্রয়োজন। সকালে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে সারাদিন সুস্থ ও সুন্দর থাকা যায়। আপনি কি জানেন উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কোনগুলো? নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে জেনে নিন উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ সকালের খাবার সম্পর্কে।

এক বাটি সিরিয়াল ও দুধের মিশ্রণ

সকালে যদি উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে চান তাহলে এক বাটি সিরিয়াল ও দুধ মিশিয়ে খান। সিরিয়াল বা শস্য খুব উপকারী খাবার। আবার দুধও পুষ্টিকর খাবার। শস্যসমূহে প্রচুর প্রোটিন থাকে। কিছু কিছু শস্যে ১৩ গ্রাম প্রোটিন ও ১০ গ্রাম অন্যান্য উপাদান থাকে। অন্যান্য শস্যে ৭ গ্রাম প্রোটিন, ৭ গ্রাম ফাইবার বা আঁশ থাকে। এছাড়া সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন ই ছাড়াও বেশ প্রোটিন থাকে। আপনি যদি ডায়েট করতে চান তাহলে সকালের নাস্তায় ওটস খেতে পারেন দুধ দিয়ে মিশিয়ে। শস্য জাতীয় খাবারের আঁশ মস্তিষ্কে গ্লুকোজ সঞ্চালন করে। শস্যে থাকে ভিটামিন বি, যা নার্ভস সিস্টেমকে ভালো রাখে।

Photo: Quora

ওটস শস্য জাতীয় খাবারের মধ্যে অন্যতম। শস্য জাতীয় খাবার খেলে আপনার ক্ষুধা লাগবে না, অনেক সময় ধরে পেট ভরা থাকবে এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাবে না।বাজারে প্রক্রিয়াজাত ওটস পাওয়া যায়। ওটস এ ভিটামিন ই, এ, বি, পটাশিয়াম ও জিংক রয়েছে। ওটস খুব পুষ্টিকর একটি খাবার। আপনি যদি সন্তানদের প্রতিদিন সকালে ওটস খেতে দেন তাহলে তারা সারাদিন কর্মচঞ্চল এবং সুস্থ থাকবে। এছাড়া ওটস মস্তিষ্ককে সচল ও শক্তিশালী রাখে।

ডিম ও চিজের মিশেলে রোল

ডিম অনেক পুষ্টিকর খাবার। এটি বাচ্চাদের জন্য যেমন উপকারী তেমন সব বয়সী মানুষের জন্য উপকারী। ডিমে উচ্চ প্রোটিন আছে। প্রতিদিন সকালে ডিম ও চিজের মিশেলে তৈরি রোল নিজেও খেতে পারেন, সন্তানদেরও খেতে দিতে পারেন। যাদের ওজন বেড়ে যাবার ভয় আছে তারা নিঃসন্দেহে এই পুষ্টিকর খাবারটি খেতে পারেন।

Photo: Delish.com

এটি খেলে আপনার ওজন বাড়বে না বরং সারাদিন আপনি থাকবেন কর্মক্ষম। রোলে অন্যান্য সবজি, শিমের বীচি, টমেটো ইত্যাদি দিতে পারেন। শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন থাকে। আপনার শিশুরা শাকসবজির তরকারী খেতে না চাইলে তাকে শাকসবজির রোল খেতে দিতে পারেন।

টোস্ট এবং জেলি

টোস্টে জেলি কিংবা বাটার মিশিয়ে সকালের নাস্তায় খেতে পারেন। এটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। সকাল বেলা এই খাবারটি আপনাকে সুস্থ রাখবে। শিশুদের কাছেও এটি ভালো লাগবে। শিশুরা জেলি এবং বাটার ভালবাসে। তাই তাদের এই খাবারটি খেতে দিতে পারেন।

Photo: arrested by grace

দুই টেবিল চামচ আলমন্ড বাটার, পিনাট বাটার আপনার খাবারে ৮ গ্রাম প্রোটিন বাড়িয়ে দিবে। কারণ বাটারে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। পিনাট বাটারে অনেক চিনি যুক্ত করা থাকতে পারে। আপনি কেনার সময় প্যাকেটের গায়ের উপাদানসমূহ ও পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্য জেনে নিন।

দই

সকালের নাস্তায় দই আদর্শ খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমূল্যের প্রোটিন। টক দই শরীরের জন্য খুব ভালো। এটি জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশিতে উপশমকারী দাওয়াই হিসেবে কাজ করে। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং হজমে সাহায্য করে। দইয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে, যা কোলন ক্যানসার, ত্বকের ক্যানসার, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। দইয়ে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, রিভোফ্লোবিন, ভিটামিন বি৬, বি৫, বি১২। টক দই রক্ত পরিশোধনে সহায়তা করে।

 

Photo: Live LCHF

যাদের উচ্চরক্তচাপ আছে তারা নির্ভেজালে টক দই খেতে পারে। টক দই শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। টক দই ওজন কমাতেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তবে মাঝে মাঝে মিষ্টি দইও খেতে পারেন। তবে মিষ্টি দইয়ে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

ওটমিল ও পানি

ওটমিল উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। সকালের নাস্তায় আপনি ওটমিল খেতে পারেন। ওটমিল যেকোনো সুপারশপে কিনতে পাওয়া যায়। ওটমিল পানি কিংবা দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

Photo: NDTV Food

একটি বাটিতে প্রয়োজন মতো ওটমিল নিয়ে তাতে পানি বা দুধ মিশিয়ে কয়েক টুকরা আপেলের স্লাইস ছেড়ে মজাদার করে প্রস্তুত করতে পারেন। উক্ত খাবারে চাইলে বাদামও মেশাতে পারেন। খাবারটি দেখতেও সুন্দর লাগবে, খেতেও বেশ সুস্বাদু হবে।

বাসায় তৈরি মাফিন

সকালের নাস্তায় মাফিন খেতে পারেন। এটি আদর্শ খাবার। প্রতি মাফিনে ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে। বেকারি থেকে কিনে আনা মাফিন বা কেকে তেমন পুষ্টিগুণ থাকে না। তাই আপনি বাসায় কলা ও ওটমিলের সমন্বয়ে মাফিন তৈরি করুন।

Photo: SparkRecipes – SparkPeople

বাজারে যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলোতে ফ্যাট, ক্যালরি, চর্বি সব বেশি থাকে। আপনি যদি বাসায় তৈরি করেন তাহলে খাবারটি স্বাস্থ্যকর হবে।

কলার তৈরি রেসিপি

সকালের নাস্তা থেকে অধিক প্রোটিন পাওয়ার জন্য আপনি খেতে পারেন কলা দিয়ে তৈরি রেসিপি। এই খাবারটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে।

Photo: Smile Sandwich

কলা, ওটস বা অন্যান্য শস্য, চিজ ইত্যাদির মিশেলে খাবার প্রস্তুত করতে পারেন। কোটাজ চিজে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন এ রয়েছে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here