ডেমরার আলম’স রেস্তোঁরার কিছু বৈকালিক নাস্তা

0
721

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে অবস্থিত হলেও, কিছু এলাকা ঢাকার একদম বাইরের। ঢাকার পরিবেশ আর সেসব এলাকার পরিবেশ অনেক আলাদা। তেমনই একটি এলাকা হলো ডেমরা। ঢাকার যান্ত্রিকতার ছোঁয়া এখানে বেশ কম, আবার অধিকাংশ জায়গাই একবারেই গ্রামের মতো। এরমধ্যে কিছুটা উন্নত অংশ হলো, ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার।

ডেমরার এই অংশটুকুকে শহরায়নের অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এদিকে বেশ কিছু রেস্টুরেন্টেও রয়েছে। এমনকি রয়েছে তিনটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টও। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্রেতা পায় “আলম’স রেস্তোঁরা।” যদিও ক্রেতাদের কাছে আলম’স রেস্তোঁরা ছাড়া আর তেমন কোনো বিকল্প নেই। থাকলে এতো ক্রেতা আলম’স রেস্তোঁরায় খেতে যেতো কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

রেস্টুরেন্টটির দোতালার অংশবিশেষ; Source: লেখিকা

অবশ্য সন্দিহান বলার যথেষ্ট কারণ আছে। খাবারের মান এবং স্বাদও তেমন ভালো না, আর আলম”স রেস্তোঁরার স্টাফদের ব্যবহারই যেকোনো ক্রেতার কাছে হতাশাজনক। যাইহোক, এদিকে তেমন আর কোনো বিকল্প না থাকায় আমরাও মাঝেমধ্যে আলম’স রেস্তোঁরাতেই বসি। আসলে খাবারের স্বাদ নয়, উদ্দেশ্য থাকে কিছুক্ষণ বসতে পারা। এছাড়া এদিকে বসারও তেমন জায়গা নেই।

একদিন বিকেলবেলা ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে কিছু কাজ সেরে বুঝলাম বেশ ক্ষুধা পেয়েছে। সাথে আরো দুইজন থাকায় আলম’স রেস্তোঁরাতেই বসতে হলো। আমাদের বসার ১০ সেকেন্ডও পেরোয়নি, এরমধ্যে একজন ওয়েটার এসে অর্ডার নিতে হাজির। এই ব্যাপারগুলো প্রচণ্ড বিরক্তিকর। আমরাও সময় নিলাম না। বিকেলের নাস্তা সেরে নিতে চিকেন বার্গার, হালিম, গ্রিল-নান, মোঘলাই পরোটা অর্ডার করলাম।

খাবারের অর্ডার নিতে যেমন তাড়া, খাবার দিতেও তাদের তেমনই তারা তাড়া। ফলে বেশিরভাগ খাবারই ঠিকমতো গরম হয় না। ঠাণ্ডা খাবারের স্বাদ পাওয়া যায় না। আমরা অর্ডার করার ৩-৪ মিনিটের মধ্যেই সবগুলো আইটেমই একজন ওয়েটার দিয়ে যান। এবার খাবারের ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা করছি।

চিকেন বার্গার

চিকেন বার্গার; Source: লেখিকা

আলম’স রেস্তোঁরার চিকেন বার্গার দেখেই আমার ছোটবেলায় এলাকার দোকান থেকে যেসব বার্গার খেতাম, সেগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। বনরুটির মধ্যে এক পিস চিকেন ফ্রাই। সাথে এক টুকরো শসা আর খানিকটা সস। বার্গারের বানেও আজকাল কোথাও বনরুটি ব্যবহার করে, তা দেখতে হলে যেতে হবে আলম’স রেস্তোরায়।

ভেতরে দেয়া চিকেন ফ্রাইয়েরও অবস্থা ভয়াবহ। কোনোমতে মুরগির মাংস ভেজে বনরুটির মধ্যে দিয়ে দেয়া। এরপর বার্গারটি একদমই গরম হয়নি। ওভেনে গরম করে এনেছিলো, নাকি তাওয়ার উপর দিয়ে গরম করে নিয়ে এসেছিলো এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে। এমন একটি বার্গার খাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমরাও বার্গারটি খেতেও পারিনি।

হালিম

হালিম; Source: লেখিকা

আলম’স রেস্তোঁরার হালিম আমি আগেও খেয়েছি। আমার হালিম অর্ডার করার ইচ্ছে ছিলো না। সাথের একজনের হালিম খেতে ইচ্ছে করায় হালিম নেয়া। আমি শুধু এক চামচ খেয়ে দেখেছিলাম, স্বাদ আগের মতোই আছে কিনা। খেয়ে মনে হয়েছিলো স্বাদ আরো বাজে হয়েছে।

হালিমে বরাবরই অতিরিক্ত ঝাল দেয়। কাঁচামরিচের ঝাল হলেও খেয়ে নেয়া যায়, শুকনো মরিচের গুঁড়োর ঝাল। এতো ঝাল যে মুখে দেয়া যায় না। এক বাটি হালিমে তিন টুকরো মাংসও পাওয়া যায় না। আমার কাছে মনে হয়, হালিমের শস্য হিসেবে শুধু চালই ব্যবহার করে। আমার মনে হয় না, এই হালিম একবার খাওয়ার পর কেউ দ্বিতীয়বার খেতে চাইবে।

গ্রিল-নান

গ্রিল-নান; Source: লেখিকা

আলম’স রেস্তোঁরার একমাত্র গ্রিলই আমার খেতে ভালো লাগে। তাই ওদিকে গেলে গ্রিল আর নান খাওয়ার চেষ্টা করি। সেদিনও নিজের জন্য একপিস কোয়ার্টার গ্রিল আর একটি নানরুটি নিয়েছিলাম। আলম’স রেস্তোঁরার গ্রিলের স্বাদ আহামরি না হলেও খেতে খারাপ না।

গ্রিলের মাংসটুকু বেশ ভালোভাবেই ভাজা হয়। পুরোটা মাংসই অনায়াসে খেয়ে নেয়া যায়। আবার গ্রিল বেশ ঝালও হয়। গ্রিলের সাথে দেয়া সসটি বেশ মজাদার। নানরুটি একবারেই সাধারণ মানের। তবে নানরুটির স্বাদও বেশ ভালো।

মোঘলাই পরোটা

মোঘলাই পরোটা; Source: লেখিকা

মোঘলাই পরোটা, মুঘল ঘরানার এই খাবারটি সময়ের সাথে সাথে তার আসল স্বাদ হারিয়েছে। আদি স্বাদযুক্ত মোঘলাই পরোটা তো কোথাও পাওয়া যায়ই না, বরং বিচিত্র স্বাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আলম’স রোস্তোঁরার মোঘলাই পরোটাও এমনই। বিচিত্র ধরনের এক স্বাদ।

মোঘলাই পরোটার উপরের অংশটুকু পোড়া। ভেতরের অংশটুকু কাঁচাই রয়ে গিয়েছিলো। ডিমের পরিমাণ খুবই কম। পরোটার টুকরোতে দেয়ার পর ডিম পাওয়া যায় না বললেই চলে। সবমিলিয়ে এই মোঘলাই পরোটার স্বাদও ভালো নয়।

রেটিং

চিকেন বার্গার – ৬০ টাকা
হালিম – ৬০ টাকা
গ্রিল এবং নান – ৮০ টাকা, ২০ টাকা
মোঘলাই পরোটা – ৪০ টাকা

মূল্য

চিকেন বার্গার – ৬০ টাকা
হালিম – ৬০ টাকা
গ্রিল এবং নান – ৮০ টাকা, ২০ টাকা
মোঘলাই পরোটা – ৪০ টাকা

পরিবেশ

রেস্টুরেন্টটির বাইরের অংশ; Source: লেখিকা

যদিও আলম’স রেস্তোঁরার পরিবেশ খুব ভালো নয়, তবুও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার অনুযায়ী ক্রেতাদের জন্য সস্তায় খাবার খাওয়া এবং কিছুক্ষণ বসতে পারার এরচেয়ে ভালো জায়গা নেই। সেজন্য সারাক্ষণই ভীড় লেগেই থাকে। আলম’স রেস্তোঁরাটি দুই তলা। নিচ তলায় বসে সাধারণ সব খাবার আইটেম খাবারের আইটেম, উপরতলায় বসতে হলে চাইনিজ আইটেম।

নিচ তলাতেই ভীড় হয় বেশি। স্থানীয় লোকজনের ভীড়ই থাকে বেশি। শীতের দিনেও ভেতরে বসলে গরম অনুভুত হয়। উপর তলাটিতে কিছুটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টের আদল রয়েছে। আবছা আলোর সাথে বিশাল বড় একটি জায়গায় সারি সারি টেবিল সাজানো। উপর তলায় এসি থাকলেও ওয়েটারদের না বললে এসি চালান না। সাধারণ কাঠের চেয়াল টেবিল হওয়াও বসেও আরাম পাওয়া যায় না।

সার্ভিস

আলম’স রেস্তোঁরার খাবারের স্বাদ কোনোরকম চলে বলা যায়, তবে এর সার্ভিস খুবই বাজে ধরণের। চাইনিজ আইটেম ছাড়া কোনো খাবার উপরতলায় বসে খেলে খাবারের মূল্য বেশি রাখে। ওয়েটারদের প্রয়োজনে ডাকলে পাওয়া যায় না। কোনো রেস্টুরেন্টের ওয়েটারদের যতটুকু পেশাদারিত্ব থাকা উচিৎ, তাদের ততটুকু নেই।

লোকেশন

স্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা, ঢাকা।

Feature Image: লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here