ঢাকা ফুড রেস্টুরেন্টের সেট মেন্যু ও কফি এক্সপ্রেসের কোল্ড কফি

0
492

আমি খেতে ভালোবাসি। সেই সুবাদে ফুড রিলেটেড সব গ্রুপ, পেজেই চোখ থাকে। ভালো রিভিউ পেলেই সুযোগ করে চলে যাই খেতে। আমার এই খাওয়াদাওয়া প্রীতিতে সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী ইলা আপা। আমাদের বিশেষ কাজ ট্রাভেল ও ফুড রিলেটেড গ্রুপের পোস্টে একে অন্যকে ম্যানশন করা ও সুযোগ করে চলে যাওয়া।

রমজান মাস চলায় বেশ কিছুদিন আমাদের সুযোগ হচ্ছিলো না বের হওয়ার। এক সকালে ইলা আপা জানালো আমরা বাহিরে কোথাও ইফতার করি এক সাথে। আমিও চট করে রাজি হয়ে গেলাম, এমন একটা সুযোগই আসলে খুঁজছিলাম।

source: লেখিকা

খুব অল্প সময়েই দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আমরা এখানেই কোথাও বসবো। নিজের এলাকা হওয়ায় সুবিধাই হলো আমার। আপার জন্যও দূরত্বটা বেশি নয়। তবে আগে থেকেই ঠিক করে নিইনি কোথায় খাবো। বিকেলে আপা আসতেই আমরা প্রথমে ঢুকলাম নেক্সাস রেস্টুরেন্টে। তবে জায়গাটি অনেক বেশিই বড় হওয়ায় আমরা বের হয়ে আসলাম। এরপর আরো কয়েকটি জায়গা ঘুরে, রেগুলার আইটেম না থাকায় আমরা গিয়ে বসলাম ঢাকা ফুডে (Dhaka Food)। কথা বলে জানলাম তাদের এখানে রেগুলার সব আইটেম পাওয়া যাচ্ছে। নিশ্চিন্ত হয়ে বসলাম তাই এখানেই।

source: লেখিকা

এখানের পরিবেশটা বেশ সুন্দর। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে কিডস জোন। বাচ্চাদের খেলনা আর দোলনার আসন। এই দোলনায় বসে বসেই শিশুরা খাবার খেতে পারবে। এখানে মোট ৫টি দোলনার আসন রয়েছে। এছাড়া ভেতরের বেশ বড় অংশ পুরোটি সাদা, সবুজ ও গোলাপি রং এ সজ্জিত।

রেস্টুরেন্টটির বেশির ভাগ অংশই বুকিং দেয়া ছিলো ইফতার পার্টির জন্য। তাই বেশ শব্দ ছিলো। এই বিষয়টি কিছু বিরক্তির কারণ হয়েছে। ওয়েটাররাও ইফতার পার্টির এরেঞ্জমেন্টে বেশি ব্যস্ত ছিলো। কিছুটা সময় নিয়ে আসলো আমাদের খাবার।

source: লেখিকা

আমরা আমাদের সুবিধার্থে অর্ডার করলাম ঢাকা ফুড রেস্টুরেন্টের মেন্যুর ৪১ নাম্বার সেট মেন্যুটি। এই সেট মেন্যুটিতে ছিলো ফ্রায়েড রাইস, চিকেন কারি, চিকেন ফ্রাই আর ভেজিটেবল। ড্রিংস ইনক্লুড না থাকায় আলাদা করে অর্ডার করলাম কোক।

ফ্রাইড রাইস, চিকেন কারি, ভেজিটেবল বেশ ভালো ছিলো স্বাদের দিক থেকে। বেশ তৃপ্তি নিয়েই খেলাম। চিকেন কারির চিকেনের টুকরোগুলো বেশ মজাদার ছিলো। তাছাড়া সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে চিকেন ফ্রাই। খুব ভালোভাবে ফ্রাই হওয়া চিকেনের উপর ও ভেতরের উভয় অংশই ছিলো দারুণ। এখনো মুখে লেগে আছে স্বাদ।

অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা

source: লেখিকা

ভেতরের সাজসজ্জা বেশ সুন্দর। দোলনা, বাচ্চাদের খেলার ব্যবস্থা, সুন্দরভাবে সাজানো চারপাশ, সুন্দর কিছু লাইটের ব্যবহার সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটি জায়গা। এমন জায়গায় বসে খেতে খেতে তৃপ্তির সাথে স্বস্তিও পাওয়া যায়।

মূল্য

source: লেখিকা

সেট ম্যেনু ৪১-এর দাম ছিলো ২৬০ টাকা। তবে রমজান মাসের বিশেষ অফার চলায় এই মেন্যু আমরা পেয়েছিলাম ২০০ টাকায়। প্রত্যেক সেট মেন্যুতে ৬০ টাকা করে ছাড়। দুইটি সেট মেন্যু ও দুইটি ড্রিংসের জন্য মোট খরচ হয়েছিলো ৪৪০ টাকা।

সার্ভিস

তারা বুকিং করা ইফতার পার্টির আয়োজন নিয়েই ব্যস্ত ছিলো। আমরা চলে যাবো কিনা জানতে চাইলেই বললেন আমরা বসতে পারি। কোনো সমস্যা নেই। তবে তারা ওই আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকাতে কিছুটা সমস্যা হলোও।

প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিরক্ত হলেও পরে আর থাকেনি সেই বিরক্তি। তারা এসে সরি বললেন আর জানালেন সমস্যাটি। তাদের কয়েকজন ওয়েটার হঠাৎ করে ছুটি নেওয়ায় এখানে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তারা জানান, এটা তাদের সবসময়ের চিত্র নয়। ক্ষমা চান সাময়িক অসুবিধার জন্য। (পরে গিয়ে অবশ্য তাদের কথার সত্যতা পেয়েছিলাম। বেশ ভালো সার্ভিস। ওয়েটারদের ব্যবহার বেশ ভালো।)

লোকেশন

দক্ষিণ বনশ্রীর ‘কে’ ব্লকে। শাপলা বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। শাপলা বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি গিয়ে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে ঢাকা ফুড রেস্টুরেন্টটি।

কফি এক্সপ্রেসের কোল্ড কফি

source: iscaffee

বেশ গরম থাকায় আমাদের ঠাণ্ডা কিছু খেতে ইচ্ছে করছিলো। ঢাকা ফুড থেকে ইফতার শেষে বের হয়ে হাঁটতে লাগলাম। ভাবছিলাম গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে কী খেতে পারি! আপা জানালো সে কোল্ড কফি খেতে চায়, আমিও সায় দিলাম। দুজনে হাঁটতে লাগলাম বাসার গলির দিকে, উদ্দেশ্য কফি এক্সপ্রেস। কফি এক্সপ্রেসে তখন বেশ ভিড়। বসার জায়গা পাওয়া যাবে না। আমরা তা নিয়ে ভাবলামও না। দুটি চকলেট কোল্ড কফি অর্ডার করে দাঁড়িয়ে রইলাম বাহিরেই। ছোট একটি কফি শপ এই কফি এক্সপ্রেস। ভেতরে সর্বোচ্চ ১০ জন মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় সব সময়ই এখানটায় বেশ ভিড় হয়।

আমাদের অর্ডার করার পর কফি পেতে সময় লাগলো ১০ মিনিটের মত। ১০ মিনিট পর কফির কাপটি হাতে পেয়ে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম দু’জনেই। এখানকার কফি বেশ ভালো চলে। বাসার সাথের গলিতে কফি শপটি হওয়ায় সুযোগ পেলেই চলে আসি এখানে। এখানের রেগুলার হট কফি ও চকলেট কোল্ড কফি আবার বেশ পছন্দ। প্রথমবার আপাকেও নিয়ে এলাম এখানে কফি খেতে। আপারও বেশ ভালো লেগেছে।

অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও পরিবেশ।

বেশ সাধারণ একটা কফি শপ। খুব বেশি সাজানো নয়। ছোট্ট জায়গা। বসার আসন কম। তবে ভেতরটা সাধারণভাবেই সুন্দর ও বেশ পরিচ্ছন্ন।

মূল্য

চকলেট কোল্ড কফির দাম ৬০ টাকা। এখানের কফির দাম শুরু হয় ৫০ টাকা থেকে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের বিভিন্ন স্বাদের কফি রয়েছে এখানে। আমাদের দুইটি চকলেট কোল্ড কফির মূল্য ছিলো ১২০ টাকা।

লোকেশন

দক্ষিণ বনশ্রী জি ব্লকে অবস্থিত ক্যাফে এক্সপ্রেস। মডেল স্কুলের গলি থেকে কিছু সামনে, সেবা ফার্মেসির পাশেই অবস্থিত। জি ব্লকের রোড নং ৯/৫।

ফিচার ইমেজ- লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here