দৃষ্টিনন্দন অ্যারাবিয়ান মাস্টারের ব্ল্যাক কফি ও সেট মেন্যু

0
494

সেদিন গিয়েছিলাম বারডেম হাসপাতালে। সিনিয়র ভাইয়ের আত্মীয়ের রক্তের প্রয়োজন ছিলো। সন্ধ্যায় রক্ত দিয়ে আমি ও আমার সাথের দুই সিনিয়র ভাই উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাঘুরি করছিলাম শাহবাগ মোড় থেকে টিএসসির দিকে। দেশ দুনিয়ার ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শেষে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে আমরা লালবাগে যাবো রয়েল রেস্টুরেন্টে খেতে। ওখানকার খাবারের মান ও গুণের প্রশংসা শুনে ততক্ষণে জিভে জল এসে গিয়েছিলো। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো আমরা অনেকটা পথ হেঁটে এসেছিলাম কোনো রিক্সা পাইনি বলে। অনেক কষ্টে পলাশীর মোড় থেকে রিক্সা নিয়ে নামলাম লালবাগ চার রাস্তার মোড়ে। সেখান থেকে কয়েক কদম আগাতেই পেলাম রয়েল রেস্টুরেন্ট। ভেতরে গিয়ে কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম সেটি বন্ধ কিনা। আসলে আমরা গিয়েছিলাম ইফতারের পর রাতের ডিনার করতে। সেখানে অর্ডার করার সময় জানতে পারলাম তাদের খাবার প্রায় সব শেষ হয়ে গিয়েছে।

দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রস্থান করলাম সেখান থেকে। তারপর লালবাগের তিন মাথার মোড়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো এরাবিয়ান মাস্টার  নামের এক রেস্টুরেন্ট। এর বাইরের আউটলুক দেখে প্রলুব্ধ হয়ে ভেতরে ঢুকলাম। রেস্টুরেন্টটি ছিলো দোতলা বিশিষ্ট। ভেতরে প্রবেশ করতেই নিচতলায় অবস্থানরত কর্মচারীরা বললেন উপরে গিয়ে বসতে। লোহার সিড়ি পেরিয়ে রেস্টুরেন্টের দোতালায় গিয়ে বসলাম। সিড়ি দিয়ে উপরে যেতে যেতেই রেস্টুরেন্টটির নামের সাথে পুরোনো এরাবিয়ান নাইটসের কিছু দৃশ্য মাথায় তড়িৎ গতিতে খেলে গেলো। দোতালায় উঠতেই ভেতরের পরিবেশ দেখে খুব অবাক হলাম। খুবই সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন ইন্টেরিয়র। পরিবেশ ছিলো খুবই গোছানো, পরিষ্কার ঝকঝকে। দেয়ালে বিভিন্ন নকশা ছিলো। যা আমাদের প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিলো। সেখানে এসির ব্যবস্থাও ছিলো।

রেস্টুরেন্টটির ইন্টেরিয়র; Source: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

এবার আসি অর্ডারের পালায়। পেটে তখন ক্ষুধার জোয়ার। ক্ষুধার্ত পেটে আমরা তিনজন মেন্যু দেখে খাবার ঠিক করছি। আগেই বলে রাখি আমার সেট মেন্যুর প্রতি দূর্বলতা বেশি। তাই পুরো মেন্যুটি একবার পড়ে সেই সেট মেন্যুতেই গিয়ে চোখ আটকালো। আমার সাথের দুই বড় ভাই বার্গার খাবেন নাকি রাইস জাতীয় খাবার খাবেন তা নিয়ে বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের অর্ডার করা খাবারের মেন্যুগুলো ছিলো ফ্রায়েড রাইস-ক্রিস্পি চিকেন-ভেজিটেবলস, ফ্রায়েড রাইস-বিফ চিলি-ভেজিটেবলস ও একটি ব্ল্যাক কফি।

খাবার পেতে কতক্ষণ সময় লাগবে তা জানতে চাইলে সার্ভকারী ১৫ মিনিটের কথা বললেন। আমরাও তার কথা মতো অপেক্ষায় রইলাম খাবার আসবে বলে। এই ফাঁকে নিজেরা নানাবিধ প্রসঙ্গে কথা বলে সময়ক্ষেপণ করছিলাম। এর ফাঁকে ফাঁকে টেলিভিশনের চলমান একটা প্রোগ্রামেও চোখ বুলিয়ে নিলাম। অপেক্ষা করতে করতে ততক্ষণে প্রায় ২২ মিনিট হয়ে গিয়েছে। আমরা প্রায় অধৈর্য্য হয়ে উঠেছি। অনেক্ষণ পর সিড়ি দিয়ে উঠে আসা একজন ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলাম খাবার দিতে আর কতক্ষণ লাগবে। জিজ্ঞাসা করতেই বললেন যে তাদের খাবার প্রায় রেডি হয়ে গিয়েছে আর দুই থেকে তিন মিনিট লাগবে।

অবশেষে এলো খাবার। এদিকে আমার ততক্ষণে ক্ষুধায় মুখবিবরে লালা ঝরে পড়ছিলো। খাবার চোখে পড়তেই ভালো লাগলো ডেকোরেশন দেখে। আমি নিয়েছিলাম রাইস-ক্রিস্পি চিকেন-ভেজিটেবল এর মেন্যুটি।

ফ্রাইড রাইস- ক্রিস্পি চিকেন-ভেজিটেবলের মেন্যু; Source: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

এবার আসি খাবারের স্বাদের কথায়। তাদের ফ্রায়েড রাইসের টেস্ট ছিলো এভারেজ। তবে ভেজিটেবল ছিলো পরিমাণে অল্প যা দিয়ে আপনি পুরো রাইসের অর্ধাংশ খেতে পারবেন কোনোমতে। ওদের চিকেনটা ছিলো যথেষ্ট ক্রিস্পি। উপরের ক্রাঞ্চি অংশটুকু সরিয়ে হালকা কামড় দিতেই চিকেনের জুসিনেসটা খুব একটা অনুভব করতে পারলাম না।

তবে আমার রুচি অনুযায়ী বলতে হবে চিকেনের টেস্টও ঠিক এভারেজ ছিলো। আমার কথা তো হলো। এবার আমার সাথের দুই বড় ভাইদের কথা বলি। এক বড় ভাই নিয়েছিলেন রাইস-বিফ চিলি অনিয়ন-ভেজিটেবলের মেন্যুটি। তার ভাষ্যমতে, খাবারটি ছিলো খুবই নিম্নমানের। আমার কাছে অবশ্য এতটা খারাপ লাগেনি। হ্যাঁ, তার রুচি ভিন্ন বলে তার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো। তবে কেন খারাপ লাগলো তা খুলে বলছি।

বিফ চিলি অনিয়নের সেট মেন্যুর বিফ চিলি অনিয়ন; Source: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

বিফ চিলি অনিয়নের সেট মেন্যুর ভেজিটেবলস; Source: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

বিফ চিলি অনিয়নের পুরো সেট মেন্যুটি। Source: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

তার ফ্রায়েড রাইসটা আমার ফ্রায়েড রাইসের তুলনায় ঠান্ডা ছিলো। খেতে ভালো লাগেনি। হালকা শক্ত শক্ত হয়ে গিয়েছিলো। আর বিফ চিলি অনিয়নের টেস্ট ও ছিলো এভারেজের নিচে। তিনি দু:খজনক ভাবে পুরো খাবারটি শেষ করতে পারেননি। অন্য ভাই নিয়েছিলেন ব্ল্যাক কফি। তার বহুদিনের খাওয়া এই অতিপরিচিত ব্ল্যাক কফির স্বাদ এক্সপেক্টেড ছিলো একটু কড়া স্বাদের হবে। তিনি প্রথম চুমুকেই প্রচন্ড হতাশ হয়েছিলেন। অতিরিক্ত চিনির ফলে পুরো জিনিসটাই খারাপ লেগেছিলো ভাইয়ার কাছে।

খারাপ লাগা সেই ব্ল্যাক কফি! Source: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

খাবার

আমাদের তিন জনের মধ্যেই একটা নেগেটিভ ইমেজ তৈরি হয়েছে তাদের খাবারে। তাই বলবো সবমিলিয়ে খাদ্যমান এভারেজের নিচে। আমার নিজস্ব মতামত এই যে, মালিকপক্ষের উচিৎ তাদের খাবারের প্রতি আরেকটু যত্নশীল হওয়া।

মূল্য

কষ্ট লেগেছে যখন জানলাম এই অখাদ্য খাবার খেয়ে তার উপরে ভ্যাট দিতে হবে। নিচের ছবিতে খাবারের দাম ও ভ্যাটসহ মোট মূল্য দেওয়া রয়েছে। আমাদের তিনজনের মনে হয়েছে খাবারের মানের সাথে এই মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

খাবারের মূল্যমান; Source: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

পরিবেশ

তাদের ইন্টেরিয়র ছিলো দৃষ্টিনন্দন। বসার সোফাগুলোও ছিলো আরামদায়ক। এই ব্যাপারে একজন কাস্টমার হিসেবে আমাদের এই রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে বাহবা দিতেই হবে।

ইন্টেরিয়রের একাংশ; Source: নিজস্ব মোবাইল Xiaomi Y1 Lite

সার্ভিস

তাদের সার্ভিস আমাদের ভালো লাগেনি কেননা তারা শুরুতেই আমাদের তাদের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিয়েছে। যখন খাবার পাবার আশায় অনেক্ষণ অপেক্ষায় ছিলাম তখন দোতালায় এমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না যে আপডেট জানবো কেন এত দেরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে তাদের যথেষ্ট উন্নতির জায়গা রয়েছে।

স্থান

১/২, লালবাগ রোড, লালবাগ ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here