পর্তুগিজদের একটি জনপ্রিয় খাবার বিফ ভিন্দালু রেসিপি

0
628

মাংস কিংবা গোশত বলতে আমরা সাধারণত পশুর শরীরের বিভিন্ন অংশ বুঝি; যা আমরা খাদ্য হিসেবে প্রতিনিয়ত গ্রহণ করে থাকি। গোশত শব্দটি মাংসের একটি প্রচলিত নাম। গোশত কিংবা মাংস যে নামেই ডাকুক না কেন, খাদ্য হিসেবে মাংস সুস্বাদু ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। তবে অধিক সুস্বাদু হলেও এটা খেতে হয় নিয়ম মাফিক। অতিরিক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

source: taste.com

সাধারণত যে সকল পশু-পাখি কিংবা প্রাণী থেকে আমরা মাংস সংগ্রহ করে থাকি তাদের মধ্যে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ও মুরগি উল্লেখযোগ্য। তাই আজ আপনাদের জন্য থাকছে গরুর মাংস দিয়ে তৈরি করা একটি ভীনদেশি খাবারের রেসিপি এবং একইসাথে একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক কতটুকু গরুর মাংস খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য।

গরুর মাংসের ভিন্দালু

গরুর মাংসের ভিন্দালু নামটা শুনতে কেমন অদ্ভুত লাগছে, তাই না? ভিন্দালু নামটা শুনে সাধারণ দৃষ্টিতে ভারতীয় খাবার মনে করা হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি পর্তুগিজ খাবার। ভিন্দালু শব্দটি মূলত ‘ভিনে-ই-আলুস’ এর অপভ্রংশ। অল্প পরিমাণের টক দিয়ে রান্না করা গরুর মাংসের এই রেসিপিটি পর্তুগিজদের প্রিয় খাবারের মধ্যে একটি।

source: curryflavours.com

তবে পর্তুগিজরা ভারতে আসার পরে ওখানে বসবাসকারী গোয়া অঞ্চলের লোকজনদের দ্বারা এই রেসিপির কিছু হের-ফের হয়। ফলে ভিন্দালু ভারতীয় খাবার হিসেবে বিশ্বব্যাপী আজও জনপ্রিয়তার সাথে সমাদৃত হচ্ছে।

আপনারা চাইলে যে কোনো মাংস দিয়েই এই রেসিপি রান্না করতে পারবেন। তবে গরুর মাংস যেহেতু সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে, তাই আজ আপনাদের জন্য থাকছে গরুর মাংসের ভিন্দালু রেসিপি। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কীভাবে এই রেসিপি তৈরি করবেন।

যা যা লাগবে

০ গরুর মাংস – (আধা কেজি)

০ পেঁয়াজ কুচি – (বড় সাইজের ১টি)

০ আদা – (২
ইঞ্চি)

০ রসুন – (১০-১২ টুকরো)

০ হলুদ গুঁড়ো – (১ চা চামচ)

০ ধনে গুঁড়ো – (১ চা চামচ)

০ শুকনো মরিচ – (৭-৮টি)

০ দারচিনি – (বড়
টুকরো ১টি)

০ গোল মরিচ – (১০-১৫টি)

০ ছোট এলাচ – (৩টি)

০ লবঙ্গ – (৪টি)

০ আস্ত জিরে – (১ চা চামচ)

০ আস্ত সরিষা – (১ চা চামচ)

০ লবণ – (স্বাদমতো)

০ চিনি – (আধা চা চামচ)

০ সিরকা – (১ কাপের ৪ ভাগের ১ ভাগ)

০ সয়াবিন তেল – (৩ টেবিল চামচ)

০ ধনেপাতা – (স্বাদমতো)

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে হাড় ও চর্বিসহ আধা কেজি গরুর মাংস ভাল করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। আপনারা চাইলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাংসের পরিমাণ কম-বেশি করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ বাড়িয়ে-কমিয়ে নিতে হবে।

এরপর রান্নার তেল ও ধনেপাতা বাদে ওপরে উল্লেখিত সকল উপকরণ একসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। আপনারা চাইলে এক এক করে সব উপকরণ পাটায়ও বেটে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে সময় একটু বেশি লাগবে।

এবার পরিস্কার করে রাখা মাংসের মধ্যে বেটে রাখা সব উপকরণ একত্রে মিশিয়ে ২-৩ ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। হাতে সময় কম থাকলে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখতে হবে। কেননা ঠিকঠাক মেরিনেট করে না রাখলে মাংসের মধ্যে উপকরণগুলো ঢুকবে না, ফলে খেতেও সুস্বাদু লাগবে না। তাছাড়া এই রেসিপিটি খেতে অনেকটা আচারের মতো তাই আদা ও রসুনের পরিমাণটাও একটু বাড়িয়ে ব্যবহার করতে হবে।

source: carlsbadcravings.com

এখন চুলায় একটি ননস্টিক প্যান বসিয়ে গরম করে রান্নার তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হলে এতে মেরিনেট করে রাখা গরুর মাংস ঢেলে দিয়ে ৭-৮ মিনিট নাড়তে থাকুন। এক্ষেত্রে চুলার আঁচ মিডিয়াম থাকবে। নাড়া শেষ হলে মাংসের মধ্যে দেড় কাপ গরম পানি ঢেলে দিন। পানি ফুটতে শুরু করলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৪০-৪৫ মিনিট রান্না করতে হবে অল্প আঁচে।

অবশ্য গরুর মাংস তাজা হলে রান্নার সময় ও পানি দুটোই পরিমাণে কম লাগবে। তাই সম্ভব হলে এই রান্নায় তাজা মাংস ব্যবহার করুন। রান্নার মাঝেমাঝে ঢাকনা খুলে নেড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী গরম পানি দিয়ে দিন। আধাঘণ্টা পরে মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে আপনার পছন্দমতো ঝোল দিয়ে আরো ১০ মিনিট রান্না করুন।

source: taste.com

সবশেষে ধনেপাতা ওপরে ছড়িয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে চুলা বন্ধ করে দিন। ব্যস, আপনার রেসিপি প্রস্তুত। একটি সার্ভিং ডিশে ঢেলে পরিবেশন করুন মাংস দিয়ে তৈরি করা মজাদার এই অসাধারণ রেসিপিটি। বিশেষ করে অতিথিদের সামনে পরিবেশন করার জন্য পর্তুগিজদের পছন্দের এই রেসিপিটির জুড়ি নেই।

গরুর মাংসের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

গরুর মাংস প্রাণিজ আমিষের একটি বড় উৎস। রেডমিট নামে পরিচিত এই গরুর মাংস বাঙালির রসনা বিলাসের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। যদিও বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রোগের কারণে গরুর মাংস খাওয়ার প্রতি আমাদের একধরনের ভয় কাজ করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গরুর মাংসের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের জানার গণ্ডি অনেক কম। গরুর মাংসের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে চলুন আজ তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

source: popsci.com

একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক গড়ে ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম গরুর মাংস গ্রহণ করা উচিত। এতে ভিটামিন বি৬ ও বি ১২ রয়েছে যা শরীরে শক্তি যোগায়। এছাড়া আরো রয়েছে নায়াসিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও কপারের মতো মিনারেলস যা হাড় ও দাত গঠনে ভূমিকা রাখে। এসব উপাদান বেড়ে ওঠা বাচ্চা ও টিনেজারদের শরীরের জন্য দরকারি।

অনেকে আছেন জিংকের অভাবে ভোগেন, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা। গরুর মাংসে থাকা প্রায় ২৫ শতাংশ জিংক এই চাহিদা পূরণ করে।

তাছাড়া আয়রনের শক্তিশালী উৎস গরুর মাংস যা শরীরের রক্তস্বল্পতা দূরীকরণে কাজ করে। গরুর মাংসে থাকা কনজুগেটেড লিনোনিক এসিড (CLA) ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা বয়োজ্যেষ্ঠদের শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী।

Featured Image: taste.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here