পার্পল এর মোহনীয় স্বাদের ফ্রায়েড রাইস, চিকেন ফ্রাই সাথে ভেজিটেবলস এর সেট মেন্যু!

0
1009

প্রথমেই বলে রাখি আমি এক ভোজন রসিক মানুষ। ঘুরে ঘুরে খেয়ে বেড়ানোতে আমার কোনো ক্লান্তি নেই। ভাবছেন আত্মপ্রশংসা করে ফেলছি কিনা? না পাঠক, আসলে ঠিক তা নয়। এই ঘুরে ঘুরে খেয়ে টাকা উড়ানোর জন্য বাসায় মা বলুন আর ঘনিষ্ঠ মহলের বন্ধুই বলুন সবার কাছেই দ্যুয়ো পেয়ে শেষমেশ এ কথায় উপনীত হয়েছি যে আমি প্রকৃত অর্থেই একজন ‘ফুডি’ অথবা ‘খাদক’ শ্রেণির অন্তর্ভূক্ত।

সৃষ্টিকর্তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিতেই হয়। নিজেকে প্রথম শ্রেণির খাদক ভাবতে ভালোই লাগে। আমাদের ইকোসিস্টেমের ফুডচেইন তো তাই বলে! তো, এই খাদকের সবচেয়ে প্রিয় খাবার হলো ভাজা ভাত আর সাথে যদি ডাইনোসরের কোনো পিছ ভাজা থাকে আরকি! বিশ্বাস হচ্ছে না তো? খুলেই বলছি! ফ্রায়েড রাইসের সাথে হালকা ভেজিটেবল আর চিকেন ফ্রাই পেলে আমার ভেতরের যে আনন্দের আন্দোলনটা হয় তা বলতে গেলে বাংলাদেশের নিদাহাস ট্রফির শ্রীলংকার সাথের ম্যাচ জয়ের তুলনায় কোনো কিছুতেই কম হবে না বৈকি।

তো যথারীতি মাকে ফোন করে বাসায় আমার জন্য রান্না করতে মানা করেই খুঁজতে লাগলাম ভাজা ভাত ও ডাইনোসরের মাংসের দোকান। ক্ষুধাতুর দেহে যখন দেখলাম দোকানের সামনে আমারই প্রিয় খাদ্যবস্তু ফ্রায়েড রাইসের ছবি দেয়া তখন আর দেরি না করেই ঢুকে পড়লাম PURPLE নামের রেস্টুরেন্টে।

ভেতরে ঢুকেই ভালো লাগলো ইন্টেরিয়র ডিজাইন দেখে। চারদিকে বেগুনী রঙের আভাময় দেয়াল আর দেয়ালে ঝুলন্ত আমার পছন্দের কিছু মুভির পোস্টার চোখে পড়ে ভালোই লাগলো।

উপরের লাইটিংগুলোও ছিলো চমৎকার। তো খাবারের অর্ডারের জন্য মেন্যু চেয়ে নেবার আগেই সেখানকার ওয়েটার বয় মেন্যু নিয়ে হাজির। আর আমি খুঁজতে লাগলাম আমার প্রিয় খাবার।

খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেলাম সে কাঙ্ক্ষিত বস্তু। সেট মেন্যুর একটার নাম ছিলো ফ্রায়েড রাইস, চিকেন ফ্রাই উইথ ভেজিটেবলস। যথারীতি আমি আমার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই জিজ্ঞাসা করলাম যে চিকেন ফ্রাইতে মাংসের পরিমাণ কেমন হবে এবং তা যথেষ্ট হবে কিনা। হাসিমুখে তার উত্তর পাবার পর জিজ্ঞাসা করলাম কত মিনিট লাগবে খাবার সার্ভ হতে। তিনি বললেন প্রায় ১৫-২০ মিনিট। আমিও এরপর অপেক্ষায় থাকলাম খাবার আসবে বলে। একসময় চলে আসলো খাবার। এবার শুরু হচ্ছে খানাপিনার পালা।

খাবার

আসি খাবারের কথায়। প্রথম দৃষ্টিতেই ভালো লাগলো খাবার দেখে। লালচে আভার ফ্রাইড রাইসের সাথে যথেষ্ট পরিমাণ ভেজিটেবলস আর প্রমাণ সাইজের চিকেন পিস। প্রথমেই ছবি তুলে ফেললাম গোটা কয়েকখানা ।

এরপর চামচ দিয়ে হাল্কা একটু রাইস ও ভেজিটেবস তুলে নিলাম মুখে।

আহ! নিমেষেই কেমন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেলো সব! মুখের মধ্যে তখন চলছে  তখন স্যালিভা গ্ল্যান্ডের উত্তেজনা। একটু পরই তুলে নিলাম মাংসের একটা ছোট টুকরা। আহ! এই না হলে শান্তি! জোয়ার চলছে তখন পেটের মধ্যে!

একটা জিনিস লক্ষণীয় ছিলো যেটি আমার নজর এড়ায়নি। চিকেনে ময়দার পরিমাণ ছিলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। যার কারণে আমার বেশ কষ্ট করতে হয়েছে মাংস খুঁজে পেতে। কিন্তু যখন পেয়েছি তখন দেখে অবাকই হয়েছি। ভেবেছিলাম এই পুরু স্তরের ময়দার জন্য ভেতরটা ড্রাই হবে। কিন্তু আমার ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করলো যখন দেখলাম ভেতরের মাংস ছিলো ওয়েল কুকড ও জুসি।

মাংসে কামড় দিয়েই পেলাম হালকা সুন্দর একটা ঘ্রাণ। রাইসের মধ্যে সবজি ছিলো আর ডিম মেশানো ছিলো। সত্যিই খেতে মন্দ লাগেনি। তো সেই তখনই ঝটপট তুলে ফেললাম কয়েক খানা ছবি। আমি তখনও গোগ্রাসে খেয়েই চলেছি। ওয়েটার বয় নিজে থেকেই জিজ্ঞাসা করলো ড্রিংকস জাতীয় কিছু লাগবে কিনা। তখন অর্ডার করলাম একটা ছোট্ট  বোতল পানিই আমার জন্য যথেষ্ট।

দাম

রাইসের ও ভেজিটেবলসের টেস্ট এবং পরিমাণ অনুযায়ী আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো চিকেনের এই বড় পিছ সহ সেট মেন্যুটার মূল্য ছিলো মাত্র ১৩০ টাকা।

আমি এই একই খাবার খেয়ে এসেছি বহু জায়গায় কিন্তু সত্যি বলতে অনেক সস্তা পেয়েছি অন্যান্যদের তুলনায়। কথা বলে জানতে পারলাম তারা এখানকার অধিকাংশ খাবারই ডিজাইন করেছে নাগালের মধ্যে রেখে। পাশের গলিতেই বিভিন্ন কলেজের ছাত্রদের আনাগোনা। সে জন্যই তাদের মূল কাস্টোমারদের কথা চিন্তা করেই তাদের প্রতিটি মেন্যুর দাম ঠিক করেছে।

এক্ষেত্রে রেস্টুরেন্ট মালিক পক্ষকে বুদ্ধিমান বলেই মনে হলো।

পরিবেশ

পরিবেশ খুবই ভালো লেগেছে। আগেই বলছি ইন্টেরিয়রের কথা। ঢাকা শহরে এমন ছোট রেস্টুরেন্টে এই মুভির পোস্টার এর ছবি দেয়ালে টাঙানোর ব্যাপারটি আমার দারুণ লেগেছে। সোফাগুলোও করেছে লাল বেগুনী রঙের। আরেকটি কথা লাল ইটের দারুণ ওয়ালপেপার দিয়ে সাজিয়েছিলো অনেকখনি জুড়ে। আমি এরকম আইডিয়া খুব কম জায়গায় দেখেছি।

আর পার্পেল তথা বেগুনী রঙের এমন ইন্টেরিয়র তার নামের সাথেই সামঞ্জস্য করে রেখেছে। নামকরণের সার্থকতার সাথে ইন্টেরিয়র দেখতে ভালো ছিলো।

সার্ভিস

আর হ্যাঁ, তাদের ব্যবহার সত্যি খুব ভালো। সবসময় হাসি হাসি মুখ করেই প্রতিটি কথার উত্তর দিচ্ছিলো। আর বলেছিলো ১৫-২০ মিনিট লাগবে খাবার সার্ভ হতে সেখানে আমি পেয়েছিলাম প্রায় ১৭ মিনিটের মাথায়। ১০ মিনিটের কথা বলে মিথ্যা আশ্বাস দেয়নি বলে একটা বাহবা তারা পেতেই পারে। সবমিলিয়ে তাদের আন্তরিকই মনে হলো। অনেক রেস্টুরেন্টে যেয়েই টিশ্যু টিশ্যু বলে অনেকক্ষণ ডাকতে হয়েছে আমার। কিন্তু এখানে তা ঘটেনি। মনে করে তারা টেবিলে টিশ্যু দিয়ে গেছে। আমার কাছে তাদের সার্ভিস ভালো লেগেছে।

লোকেশন

আপনি যদি মিরপুর ১৪ থেকে কচুক্ষেতের দিকে হাঁটতে থাকেন তাহলে আপনার হাতের ডান দিকের রাস্তায় যখন আনন্দ রোডের গলির মুখ দেখতে পাবেন ঠিক তার আরেকটু সামনেই রেস্টুরেন্টটি। সুনির্দিষ্ট ঠিকানা যদি বলতে হয় তাহলে সেটি হচ্ছে ৭২/১ আনন্দ রোড, মিরপুর-১৪, ঢাকা-১২০৬।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here