পিৎজা ডিলাইট ও একটি জাদুর ক্যাফে

0
374

অনেক দিন পর আবার গেলাম জাদুর ক্যাফেতে। নিজ এলাকায় কফির জন্য এই ক্যাফেটি আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয়। প্রায়ই যাওয়া হয় এখানে। তবে এবার গেলাম বেশ সময় বিরতির পর। ভেতরের সাজ-সজ্জায় কিছুটা নতুনত্বের দেখা পেলাম এবার। দেয়ালে শৈল্পিক কাজ, চারপাশে নতুন কিছু খাবার যোগ হওয়ার তালিকা। দেখে বেশ ভালোই লাগছিলো।

source: লেখিকা

এর আগে যখন এসেছিলাম জাদুর ক্যাফেতে তখন শুধুমাত্র কফি, স্যান্ডউইচ আর ছোট আকৃতির বার্গারেই আটকে থাকতে হয়েছে। তবে এবার দেখলাম বেশ কিছু নতুন খাবারও যুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে আরো কয়েক রকম বার্গার, স্যান্ডউইচ আর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘পিৎজা’।

জাদুর ক্যাফের নতুন খাবারের সাথে সাথে নতুনত্ব এসেছে ক্যাফেটির সাজেও। বাহিরের সাজ-সজ্জাতেও কিছুটা নতুনত্ব দেখা গিয়েছে। ভেতরে মাথার উপরের অংশে ঝুলতে থাকা অসংখ্য সাদা রঙের কাপ, দেয়ালে ঝুলতে থাকা নানা রঙের মুখোশ, সামনের কিছু অংশে সাজিয়ে রাখা কাপ, ছোট প্লেট সব মিলিয়ে ছোট্ট ও সুন্দর একটি ক্যাফে।

source: লেখিকা

এখানে খাবারের সাথে খুব ঘরোয়া ভাবে আড্ডা দিতে পারবেন৷ মানে, মনেই হবে না ঘর ছেড়ে বাহিরে কোথাও আছেন। এখানকার সকলেই বেশ মিশুক ও বিনয়ী। আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে, আপনি একা গেলে বা একা একা আপনার খারাপ লাগলে এদের কারো সাথে গল্প করে বেশ কাটিয়ে দিতে পারবেন সময়টা।

এখানে খেতে খেতে জানতে পারবেন কয়েকজন তরুণ ছেলে-মেয়ে কীভাবে শুরু করেছিলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে ছোট্ট একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কীভাবে কাজ করছে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গা জুড়ে আর এই জাদুর ক্যাফের থেকে আসা অর্থের ৪০ ভাগ তারা কীভাবে ব্যয় করছে সেসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদানের পেছনে।

source: লেখিকা

আমিও এবার গল্পে গল্পে দেখে নিলাম ক্যাফেতে নতুন যোগ হওয়া পিৎজার মেন্যুটি। মেন্যুতে পাওয়া ‘পিৎজা ডিলাইট’ নামক পিৎজাটি অর্ডার করলাম। অর্ডার করার প্রায় ১০ মিনিট পরই চলে এলো আমার অর্ডার করা পিৎজা ডিলাইট। ৮ ইঞ্চির এই পিৎজাটি তখন সব টেবিলে, সবার সামনেই। মানে যারা এখনে রোজ আসেন তাদের জন্য এটি একটি নতুন আকর্ষণ।

পিৎজাটি এসেছিলো ছোট্ট একটি প্লেটে। এই প্লেটেই মূলত তৈরি হয়েছে পিৎজাটি। আগেই সতর্ক করে গেলেন যাতে প্লেটে না হাত দেই। আলাদা করে ধরার হাতল না থাকায় কিছুটা অসুবিধা হলো। তবে আগেই পুরোপুরি ভালোভাবে কেটে রাখায় হাতেই তুলে নিতে পারলাম একেকটি স্লাইস।

source: লেখিকা

পিৎজাটি দেখতে খুব আহামরি কিছু নয়। চিকেন, টমেটো, ক্যাপসিকাম আর চিজের মাধ্যমে তৈরি। চিজের পরিমাণ খুব বেশি না। চিকেনের পরিমাণ বেশ ভালো। তাছাড়া টমেটো ও ক্যাপসিকাম মিলে খেতে খারাপ লাগেনি। তবে মনে হয়েছে চিজের পরিমাণ আরো বেশি হলে ভালো হতো।

খাবারের স্বাদ

source: লেখিকা

৮ ইঞ্চি পিৎজা ডিলাইটে চিকেনের পরিমাণ বেশ ভালো ছিলো। এছাড়া টমেটো ও ক্যাপসিকামের স্বাদ মিলে খারাপ লাগেনি। চিজের পরিমাণ ছিলো মোটামুটি। আরো খানিকটা চিজ হলে আরো ভালো হতো মনে হলো।

তবে, খাবারটির পরিবেশন আরো গোছালো ও সুন্দর হওয়া প্রয়োজন ছিলো। যদিও টেবিলে পিৎজাটি রেখে যাওয়ার সময় বলা হচ্ছিলো সাবধানে নিতে, প্লেটে হাত না লাগাতে, প্লেট গরম। তবুও অন্যান্য জায়গার মত আরো কিছুটা গুছিয়ে বা যথাযথভাবে পরিবেশ করা হলে তাদের নিজেদের ও যারা পিৎজাটি খাবে তাদের কারোরই সমস্যায় পড়তে হতো না।

খাবারের স্বাদ অনুযায়ী রেটিং- ১০/৭.৫

মূল্য

source: লেখিকা

৮ ইঞ্চি পিৎজা ডিলাইটের মূল্য ২৮০ টাকা। পিৎজা ও ড্রিংস (স্প্রাইট) বাবদ খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা।

সার্ভিস

বরাবরের মতই প্রশংসনীয় সার্ভিস৷ এখানকার এই বিষয়টি আমার মত সবারই ভালোলাগবে বিশ্বাস করি। ঘরোয়া পরিবেশে বসে খাওয়ার আলাদাই এক আনন্দ আছে, যা এখানে খুব ভালোভাবে অনুভব করা যায়।

পরিবেশ

source: লেখিকা

ছোট্ট, সুন্দর একটি ক্যাফে। আকারে খুব বেশি বড় নয়। একসাথে ১০ থেকে ১২ জন মানুষ খেতে পারবে এখানে। তবে কিছুটা নতুনত্ব পাবেন মাথার উপরের অংশের দেয়ালে ঝুলে থাকা সাদা রঙের অসংখ্য চায়ের কাপে। গোছালো, পরিচ্ছন্ন একটি ক্যাফে। খারাপ লাগবে না কারোই।

জাদুর ক্যাফে নামের গল্প

ক্যাফেটির মালিক এস.এম আল মাহমুদ অনিক। বহুবছর আগে নিজের একটি স্বপ্ন থেকে তার মতই আরো কয়েকজন স্বপ্নবাজ বন্ধুদের নিয়ে তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শুরু করেন। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ান তারা। যশোরে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া কাজ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায়৷

দেশের বিভিন্ন স্থানের সুবিধা বঞ্চিত শিশু, সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ান তারা। নিজেদের কাজকে আরো এগিয়ে নিতে বিভিন্ন কাজে জড়ান এখানকার স্বেচ্ছাসেবীরা। তার সূত্র ধরেই অনিক শুরু করেন এই ক্যাফেটি। এর বিশাল একটা অংশ দাঁড়াবে সেই সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কাজে।

একটি ম্যাজিকের দরকার ছিলো অনিকের। ক্যাফের নাম নিয়ে যখন ভাবছিলো, তখন জাদুর কথাই মনে পড়ে তার। সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটা জাদুর প্রয়োজন। সে ভাবনা থেকেই তার এই জাদুর ক্যাফে।

লোকেশন

দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা, ১০ তলা মার্কেটের (ইষ্টার্ণ বনবিথী শপিং কমপ্লেক্স-এর) অপর দিকের রাস্তায়। ১০ তলা মার্কেটের সামনে দাঁড়ালেই রাস্তার অপরদিকে ক্যাফেটি সহজেই চোখে পড়বে। তাছাড়া জাদুর ক্যাফের ফেসবুক পেজে গুগল ম্যাপের লিঙ্ক দেয়া আছে। ম্যাপ ফলো করেও চলে আসতে পারেন।

ফিচার ইমেজ- লেখিকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here