ফুড ক্ল্যানের দুর্দান্ত অফারে মজাদার সেটমেন্যু!

0
374

সকাল থেকে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। খানিক পর পর অবশ্য বৃষ্টি বিরতি দিচ্ছে। এক ফাঁকে ভাবলাম ‘বেঙ্গল বই’ এ যাবো একটা কাজে। ব্যাস, ঠিক করে ফেললাম। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে রওনা দিলাম ‘বেঙ্গল বই’ এর উদ্দেশ্যে। তখন আকাশ মেঘলা ছিল তবে বৃষ্টি ছিল না। ‘বেঙ্গল বই’ এ কাজ শেষ করতে করতে দুপুর হয়ে গেল। ঠিক দুপুর একটা বাজে। পেটের মধ্যে ক্ষুধারা চো চো করছে। কিন্তু বেরুবার আগে দেখি বাইরে ঝুম বৃষ্টি। তাই কিছুক্ষণ বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করলাম। যখন বৃষ্টি থামলো আর কালক্ষেপণ না করে বেরিয়ে গেলাম। রিকশা নিয়ে গেলাম মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্পে। উদ্দেশ্য ছিলো ভুনা খিচুড়ি অথবা তেহারি খাবো। এমন বাদলা দিনে ভুনা খিচুড়ি এবং গরুর মাংস হলে মন্দ হয় না। কিন্তু কপাল খারাপ ছিলো বলে সেখানে দোকানপাট খোলা পাইনি। সম্ভবত সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল।

সেখান থেকে আবার একটি রিকশা নিয়ে গেলাম শ্যামলী। শ্যামলী স্কয়ারের ফুডকোর্টে আগেও বহুবার খেয়েছি। এখানে স্বল্প মূল্যে ভালো খাবার পাওয়া যায়। শ্যামলি স্কয়ারে ঢোকার সাথে সাথে একটি ছেলে হাতে চিরকুটের মতো কাগজ দিলো। ভালো করে কাগজের অর্থাৎ চিরকুট সমেত লিফলেটের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ফুড ক্ল্যান নামের এক রেস্টুরেন্টে দুর্দান্ত অফারে সেটমেন্যু পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র ১৯৫ টাকায় অনেকগুলো খাবার। ব্যস, আমি তো ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে ফুডকোর্টে গিয়ে ফুড ক্ল্যান নামের রেস্টুরেন্টটি খুঁজে বের করলাম। তারপর সেখানে বসলাম।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

শ্যামলির উদ্দেশ্যে যখন রিকশা নিয়েছিলাম তখন আমার এক কাছের বন্ধুকেও আসতে বললাম। কারণ একা একা খেতে আমার ভালো লাগে না। আমার বন্ধু খাবারের আমন্ত্রণ পেয়ে ইতোমধ্যে চলে এলো।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

ফুড ক্ল্যানে বসে একটু জিরিয়ে নিলাম। কর্মরত একজন এসে জানতে চাইলো আমাদের কি লাগবে। প্রথমত আমরা টেবিলে একটি পানির বোতল দেখতে পেলাম আর টিস্যু দেখতে পেলাম। এখানকার কর্মীরা প্রতিটি টেবিলে টিস্যু ও পানির বোতল আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে। বিষয়টা মন্দ না। তারপর আমি খাবারের সেই লিফলেট দেখিয়ে বললাম ১৯৫ টাকার সেটমেন্যু দুইটা দিন।

তারা জানিয়ে দিল, সেটমেন্যুতে কী কী থাকছে। ফ্রায়েড রাইস, ফ্রায়েড চিকেন অথবা বারবিকিউ চিকেন, চিকেন মাসালা, ভেজিটেবলস, সালাদ, গ্রিন সস, নুডলস, পাস্তা, সফট ড্রিংস, স্যুপ এবং আইসক্রীম! স্বল্প দামে এতগুলো খাবার সম্বলিত সেটমেন্যু দেখে আমার বেশ ভালো লেগেছে।

অর্ডার দেওয়া হয়ে গেলে আমি চারপাশটা ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম। যদিও ক্ষুধার্ত পেটে নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিলো। খুব ক্লান্ত লাগছিলো। কী আর করা। খাবার অর্ডারের পর তো অপেক্ষা করতেই হবে। এই ফাঁকে কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম এবং ভালো করে লক্ষ্য করলাম তাদের পরিবেশটা।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

খাবার অর্ডার করার দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যে খাবার চলে এলো। প্রথমে তারা স্যুপ এনে দিলো। আমরা তড়িঘড়ি করে স্যুপটা খেয়ে ফেললাম। আগে অবশ্য ছবি তুলে নিয়েছি। নয়তো রিভিউ লেখার রশদ একটা বাকি থেকে যেত। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো খাবার চলে এলো। এত খাবার দেখে আমার যেন ক্ষুধা আরো বেড়ে গেল। কি সুন্দর করে সাজানো।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

বিশেষ করে কলকাতার অনেক সিনেমায় আমি দেখেছি একটি বড় থালায় অনেকগুলো আইটেম দিয়ে খাবার পরিবেশন করতে। এখানেও তেমন একটা আমেজ পেলাম। বেশ রোমাঞ্চকর লেগেছে আমার কাছে। অর্ডার করার পূর্বে একজন ওয়েটার খাবারের বর্ণনায় ঠিক যেমনটা বলেছিলো ঠিক সবকিছুই রয়েছে এখানে।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

আমি এবং আমার বন্ধু খাওয়া শুরু করলাম। রাইস পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিল। চিকেনটা বেশ মজাদার ও ক্রিস্পি। ভেজিটেবলস দারুণ ছিলো। আমার বন্ধুর কাছে অবশ্য ভেজিটেবলস অনেক ভালো লেগেছে। চিকেন মাসালার স্বাদ তেমন ভালো ছিলো না। আমার কাছে মনে হয়েছে খুব সাধারণ একটা ঘরোয়া রেসিপি। রেস্টুরেন্টের চিকেন মাসালা যেমন সুস্বাদু ও মজাদার হয় এখানকার চিকেন মাসালা তেমন লাগেনি। স্যুপ বেশ স্পাইসি ও মজাদার লেগেছে। নুডলস ও পাস্তার স্বাদ মোটামুটি লেগেছে। সালাদও বেশ ভালো লেগেছে। তবে গ্রিন সস আমি ছুঁয়েও দেখিনি। কেমন একটা সবুজ পানির মতো দেখাচ্ছিলো। খাওয়ার ইচ্ছা হয়নি।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

পুরো খাবার পেট ভরে খেলাম। অবশ্য ফ্রায়েড রাইস আমি পুরোটা শেষ করতে পারিনি। খাবার একজনের জন্য যথেষ্ট ছিল বৈকি মনে হয় বেশিই ছিল। তারপর সফট ড্রিংস শেষ করলাম। সবশেষে আইস্ক্রিম দিয়ে গেল।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

অবশ্য তারা আগে জানতে চেয়েছে কোন ফ্লেভারের আইস্ক্রীম দিবে। আমরা বলেছি চকোলেট ফ্লেভারের আইস্ক্রিম দিতে। আইস্ক্রিম অল্প পরিমাণে ছিল। অবশ্য অল্প থাকাতেই ভালো হয়েছে। একসাথে এত খাবার শেষ করা যায় না।

অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও পরিবেশ

এবার চলুন জেনে নিই তাদের অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও পরিবেশ সম্পর্কে। শ্যামলি স্কয়ারের প্রতিটি খাবারের দোকান মোটামুটি ভালো। তবে তাদের প্রত্যেকটি খাবারের দোকানের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং ভিন্নতা রয়েছে। ফুড ক্ল্যানের পরিবেশ মোটামুটি লেগেছে। তেমন কোনো ভিড় ছিলো না। কয়েকটা টেবিল খালি ছিলো। বাকিগুলোতে কাস্টমার ছিলো। পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা ছিলো।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

তবে আমার মনে হয়েছে অভ্যন্তরীণ সজ্জা, আসন বিন্যাস, জায়গার প্রশস্থতা আরো ভালো থাকার দরকার ছিলো। মোটকথা তাদের অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশন, নকশা আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

সার্ভিস

তাদের সার্ভিস ভালো লেগেছে। যথাসময়ে খাবার পরিবেশন করেছে। বাড়তি কিছু লাগবে কিনা জানতে চেয়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাও ভালো লেগেছে। টেবিলে আগে থেকেই পানি থাকার কারণে আমাদের চাইতে হয়নি। তাছাড়া খাবার খাওয়ার পর আমি এবং আমার বন্ধু খানিকক্ষণ বসে বসে গল্প করলাম। কারণ এত খাবার খেয়ে আমি নড়তে পারছিলাম না! তারা বিরক্ত হয়নি কিংবা ওঠতে বলেনি। প্রায় দশ- পনেরো মিনিট পর আমরা নিজেরাই ওঠে গেছি। তারা অবশ্য আমাদেরকে ধন্যবাদ জানালো এবং পরবর্তীতে যেতে বললো।

মূল্য

ফ্রায়েড রাইস, ফ্রায়েড চিকেন, চাইনিজ ভেজিটেবলস, কাশ্মীরি সালাদ, গ্রীন সস, পাস্তা, নুডলস, স্যুপ, সফট ড্রিংস ও আইসক্রিম সম্বলিত এই সেটমেন্যুর মুল্য মাত্র ১৯৫ টাকা।

ছবিসূত্রঃ লেখক।

দুটো সেটমেন্যুর মূল্য মাত্র ৩৯০ টাকা। হাফ লিটার মিনারেল ওয়াটারসহ দাম এসেছে ৪১০ টাকা।

অবস্থান

ফুডকোর্ট, শ্যামলী স্কয়ার।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here