বাংলাদেশে ডোমিনো’স পিজ্জার স্বাদগ্রহণ

0
419

সারা বিশ্বব্যাপী যতো পিজ্জাপ্রেমী আছেন তাদের মধ্যে একজনও যদি বলেন “আমি কখনো ডোমিনো’স পিজ্জার নাম শুনিনি” তাহলে আমি প্রচণ্ড অবাক হবো। শুধু আমিই নই, পিজ্জাপ্রেমী সকলেরই অবাক হওয়ার কথা। পিজ্জার জগতে ডোমিনো’স একটি অতি সুপরিচিত নাম। পিজ্জাপ্রেমী সকলেই জীবনে একবার হলেও ডোমিনো’স এর পিজ্জা চেখে দেখার ইচ্ছে পোষণ করেন।

১৯৯৩ সালে আমেরিকার মিশিগানে প্রতিষ্ঠিত ডোমিনো’স পিজ্জা বর্তমানে একটি পিজ্জা চেইন শপ। সারা বিশ্বব্যাপী এর ৩৩০০০ এরও বেশি শাখা রয়েছে। পিজ্জার জগতে ডোমিনো’স এর প্রতিদ্বন্ধী খুব বেশি নেই। যখন থেকে ডোমিনো’স এর পিজ্জার ব্যাপারে জানি, তখন থেকেই খুব ইচ্ছে ছিলো এর পিজ্জা খাবো। সবসময় ভাবতাম, দেশের বাইরে কোথাও গেলে পিজ্জা খেয়ে আসবো। কিন্তু হুট করে সে সুযোগ মিলে গেলো দেশেই।

ডোমিনো’স এর পিজ্জার পরিবেশন; Source: লেখিকা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির র‌্যাঙ্গস ফরচুন স্কয়ারে ডোমিনো’স এর বাংলাদেশ শাখার যাত্রা শুরু হয়। গোল্ডেন হারভেস্ট কিউএসআর লিমিটেড ও জুবিল্যান্ট ফুডওয়ার্কসের যৌগ উদ্যোগে এই চেইন শপটি বাংলাদেশেও নিজেদের শাখার যাত্রা শুরু করে। ডোমিনো’স এর যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রচুর লোকজন মাস তিনেক লাইন ধরে পিজ্জা খেতে যায়। এতো ভিড় আমার ভালো লাগে না। তাই অপেক্ষা করছিলাম ভিড়টা একটু কমার।

অবশেষে খবর পেলাম ডোমিনো’স এ পিজ্জাপ্রেমীদের ভীড় একটু হলেও কমেছে। এটা জানার পর আর অপেক্ষা করার মানে নেই। তাই একদিন সময় করে ডোমিনো’স এ চলেই গেলাম। ভিতরে ঢুকতেই দেখি ডোমিনো’স এর কিচেন গ্রাহকদের চোখের সামনেই রাখা হয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পিজ্জা বানানো দেখলাম। পিজ্জার ক্রাস্ট তৈরি করার পদ্ধতিটি দেখতে বেশ ভালো লাগছিলো। ওদিকে ভিড় কমলেও একবারে খালি ছিলো এমন নয়। কোনো টেবিলই খালি ছিলো না। সেজন্য অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে পিজ্জা বানানো দেখলাম।

লাইভ কিচেন; Source: লেখিকা

অবশেষে একটি টেবিল খালি হলো। একজন ওয়েটার আমাদের সেখানে বসার ব্যবস্থা করে দিলেন। টেবিলটি আমার পছন্দ হলো। একবারে কাঁচ দেয়াল ঘেঁষা। রেস্টুরেন্টে আমার এমন জায়গাতে বসতেই ভালো লাগে। ডোমিনো’সটি দুই তলা বিশিষ্ট। পে ফার্স্ট পদ্ধতিতে নিচের তালায় অর্ডার করতে হয়। তারপর ওপরতলা থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়। সবই সেল্ফ সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত।

আমরা নিচ তলায় পিজ্জা অর্ডার করে টোকেন নিয়ে ওপরতলা চলে এসেছিলাম। নিচতলায়ও বসার জায়গা আছে, তবে সেখানে কোলাহল বেশি। ওপরতলাটিও নিরিবিলি তা নয়, তবে নিচতলা থেকে আরামদায়ক পরিবেশ। আমরা রেগুলার সাইজের একটি পিজ্জা মার্গারিটা এবং একটি স্পাইসি চিকেন পিজ্জা অর্ডার করেছিলাম। প্রায় ১৫ মিনিট পর পিজ্জাগুলো তৈরি করা শেষ হয়। আমরা পিজ্জা দুটো নিয়ে এসে খাওয়া শুরু করি। এবার চলে যাই পিজ্জার স্বাদের ব্যাপারে।

লোভনীয় পিজ্জা; Source: লেখিকা

পিজ্জা মার্গারিটা

পিজ্জা মার্গারিটা একবারেই সাধারণ ধরনের একটি পিজ্জা। এটি তৈরি করতে শুধুমাত্র মোজোরেলা চিজ ব্যবহার করা হয়। টপিঙে কিছুই থাকে না। পিজ্জাটির ক্রাস্টটি একদমই বাংলাদেশি স্টাইলে তৈরি পিজ্জার মতো নয়। যে-কেউ খেয়ে পার্থক্যগুলো বুঝতে পারবেন। পিজ্জাটি বেশ কড়া করে বেক করা। ক্রাস্টের ওপরের অংশটি খানিকটা পোড়া পোড়া স্বাদযুক্ত।

পিজ্জা মার্গারিটা; Source: লেখিকা

এই প্রথমবার কোনোরকম টপিং ছাড়া পিজ্জা খেয়েছিলাম। সেজন্য পিজ্জা মার্গারিটা খেতে বেশ অদ্ভুত লেগেছে। অবশ্য ভালো লাগেনি- এমন নয়। খেতে ভালোই লেগেছিলো। তবে সস আর মেয়োনিজের অনেক অভাববোধ করেছিলাম। সাথে যাওয়া বন্ধুটিকে মজা করতে করতে বলছিলাম, “আরেকবার পিজ্জা খেতে এলে সস আর মেয়োনিজ নিয়েই তবে আসবো।”

স্পাইসি চিকেন

ডেমিনো’স এর স্পাইসি চিকেন পিজ্জাটি খেয়ে খুবই তৃপ্ত হয়েছিলাম। এই পিজ্জাটির টপিঙেও খুব বেশি উপাদান ছিলো না। টপিঙে ছিলো স্পাইসি চিকেন, ওনিয়ন এবং ক্যাপসিকাম। টপিংয়ে এতো কম উপাদান দিয়েও পিজ্জাটি খুবই মজাদার করে তৈরি করে ডোমিনো’স এর শেফগণ। চিকেনের পরিমাণ পর্যাপ্তই ছিলো। যেহেতু স্পাইসি চিকেন, তাই বেশ ঝালও ছিলো।

স্পাইসি কিচেন; Source: লেখিকা

এই পিজ্জাটির ক্রাস্টটিও ছিলো বেশ মজাদার। একইসাথে পাতলা এবং পুরু ছিলো স্পাইসি চিকেনের ক্রাস্টটি। ক্রাস্টটের মধ্যেই তাদের নিজস্ব সামান্য পরিমাণে একটি সসের লেয়ার দিয়ে স্বাদ আরো বাড়িয়ে তুলেছিলো। দেশি স্টাইলে তৈরি পিজ্জা খেতে খেতে কেউ বিরক্ত হয়ে গেলে অবশ্যই ডোমিনো’স এ ঢু্ঁ মারা উচিত। পিজ্জার প্রকৃত বা খাঁটি স্বাদ পেতে বাংলাদেশে ডোমিনো’স অন্যতম সেরা একটি পিজ্জা শপ।

রেটিং এবং মূল্য

পিজ্জা মার্গারিটা – ৬/১০; ১৪৯/-
স্পাইসি চিকেন – ৮/১০; ২৬৯/-

মূল্যতালিকা; Source: লেখিকা

প্রতিটির পিজ্জার মূল্যের সাথেই ভ্যাট এবং এস.ডি. যুক্ত হয়। তাই পিজ্জার মূল্য একটু বেশি।

পরিবেশ

গ্রাহকেরা পিজ্জা খেতে আসছেন। এসেই লাইভ কিচেনে পিজ্জা তৈরি করা দেখছেন। এটিই ডোমিনো’স পিজ্জার সবচেয়ে সুন্দর দিক। আমার তো পিজ্জা খাওয়ার চেয়েও বানানো দেখতে বেশি ভালো লাগছিলো। পিজ্জা তৈরির প্রক্রিয়াটি দেখা বেশ উপভোগ্য ব্যাপার। লক্ষ্য করেছিলাম আমার মতো অনেকেই মনোযোগ দিয়েই পিজ্জা বানানো উপভোগ করছেন।

দো’তলার অংশবিশেষ; Source: লেখিকা

ডোমিনো’স এর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বা পরিবেশ খুব আহামরি কিছু নয়। একবারেই সাধারণভাবে সাজানো এই পিজ্জা শপটি। দেয়ালে তাদের নিজস্ব লোগো খোদাই করা। এছাড়াও নিজেদের বিভিন্ন স্বীকৃতির ছবি ইত্যাদি টানানো। বসার চেয়ার, টেবিলও একবারেই সাধারণ। খুব আয়েশি রেস্টুরেন্ট মনে হয় না। ডোমিনো’স এর পরিবেশটিকে একবারেই প্রাণখুলে আড্ডা দেয়ার পরিবেশের মতো মনে হয়।

শুরু থেকেই বেশকিছু স্প্যানিশ এবং ইংরেজী গান বাজছিলো। গানগুলো শুনতেও বেশ ভালো লাগছিলো। একই সাথে চারদিকে গ্রাহকদের কোলাহল। নিচতলা থেকে ওপরতলাটিতে বসতে বেশি ভালো লাগে। লাইভ কিচেনটিও ওপরতলাতেই।

লোকেশন

র‌্যাঙ্গস ফরচুন টাওয়ার, প্লট নং – ৩২, রোড নং – ২, ধানমণ্ডি।

Feature Image: লেখিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here