বারকোড ক্যাফের মজাদার খাবার এবং অসাধারণ ডেকোরেশন

0
493

গুলশান ১ এর দিকে কাজে গিয়ে দুপুরে খাবার সময় হয়ে গেলে আমি বেশির ভাগ সময়ে বারকোড ক্যাফেতে চলে যেতাম। বারকোড ক্যাফে গুলশান থেকে বনানীতে নিয়ে যাবার পরে আমার মতো দুঃখ আর কেউ পেয়েছেন কিনা আমি জানিনা। প্রাথমিক শোক কাটিয়ে উঠে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি বনানীর বারকোড থেকে ঘুরে আসবো।

যেই ভাবা সেই কাজ। লাঞ্চ আওয়ারে পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা নিয়ে চলে গেলাম বনানীর বারকোডে। অনেক কিছু খেয়ে ফেলবো এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা অর্ডার দিলাম থিক থাই স্যুপ, পিৎজা স্যান্ডউইচ, একটি টি বোন স্টেক মিল, আর ড্রিঙ্কস। প্রায় ২০ মিনিট পরে সবার আগে স্যুপ দিয়ে গেলো। তারও বেশ খানিকক্ষণ পরে পিৎজা স্যান্ডউইচ, আর এর ৫ মিনিট পরে স্টেক মিল দিয়ে গেলো। খাবার শুরু করার অনেক পরে, অনেক বার চাওয়ার পর ড্রিঙ্কস দিয়েছে। টেবিলে ছুরি, চামচ, কাটা চামচ কম ছিলো। সেটাও ২-৩ বার চাওয়ার পর দিয়ে গেলো।

বারকোডের থিক থাই স্যুপ আমার সবসময়ের প্রিয় একটি আইটেম। এতে প্রচুর পরিমাণে চিংড়ি আর চিকেন দেওয়া থাকে। আমি সবসময় অনেক আগ্রহ নিয়ে ওদের কাছে অতিরিক্ত পেপার নিয়ে ইচ্ছামতো মিশিয়ে খেতাম। এবার চাওয়ার পরে ওরা আমাকে ওদের সিগনেচার বা নিজস্ব কাঠের পেপার সেকারটা দেয়নি বলে আমার মন খারাপ হয়েছে অনেক।

ছবিঃ থাই স্যুপ

এরপর আমি মনোযোগ দিলাম পিৎজা স্যান্ডউইচের দিকে। নামেই খাবারের পরিচয়। একই সাথে পিৎজা আর স্যান্ডউইচ। প্রতি কামড়ে টের পাওয়া যায় কী পরিমাণ চিজ আর চিকেন আছে এতে। ৪টি স্লাইস করে দেয়। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় একাই আমি ৪টি স্লাইস খেয়ে ফেলি। কিন্তু বাকিরা দেয় না। তাই এক স্লাইস নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

এরপরে আসি টি বোন স্টেক মিল এর কথায়। বারকোডের সব খাবারই আমাদের বেশ ভালো লাগে। আর দামও রাখছে মোটামুটি ঠিকঠিক; টি বোন স্টেক মিল এর দাম অন্যান্য জায়গায় যেমন তার কাছাকাছি।

ছবিঃ টি বোন স্টেক মিল

কিন্তু আমরা খুবই হতাশ হয়েছি স্টেকটা খেয়ে। স্টেক এর মাংস একেবারেই জুসি ছিলো না। খুবই শুকিয়ে যাওয়া, নিরস মাংস ছিলো। স্টেকটার মাংসে প্রচুর পরিমাণে চর্বি ছিলো। আর মাংসটা ওয়েল কুকড (ভালোভাবে রান্না করা) লাগেনি আমার কাছে। সাথে সাইড হিসেবে ছিলো ফ্রাইড রাইস, স্যটেড ভেজিটেবল আর জ্যাকেট পটেটো / ম্যাশড পটেটো। আমরা জ্যাকেট পটেটো বেছে নিয়েছিলাম। যারা প্রথমবারের মতো জ্যাকেট পটেটো চেখে দেখতে চান, তাদের জন্য বলে রাখছি, সোজা বাংলায় এটা চিজ দেওয়া সেদ্ধ আলু। সবার কাছে ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু আমাদের ভালোই লেগেছিলো।

রাইসটা খুব বেশি পানসে মনে হয়েছে। ভেজিটেবলটার স্বাদ ভালো ছিলো খেতে। কিন্তু সব মিলিয়ে টি বোন স্টেক মিলে পেট, মন কো্নোটাই ভরেনি।

ছবিঃ সুন্দর পরিবেশন, মজাদার খাবার

পাস্তাটা অনেক বেশি চিজি  ছিলো। পাস্তায় চিকেন আর মাশরুমের কোনো কমতি ছিলো না। কিন্তু পাস্তা পরিমাণে অনেক কম ছিলো। আরেকটু বেশি থাকলে আমার ভালো লাগতো।

ছবিঃ পাস্তা

ওদের আরো একটি আইটেম আমার খুব ভালো লেগেছে। সেটা হলো ওদের কোল্ড কফি। অনেক গরমে ঘেমে নেয়ে গিয়ে ঠান্ডা কফির গ্লাসে চুমুক দিতে বেশ লাগে আমার। কফির দাম আমার ঠিকমতো মনে নেই। কিন্তু ১৫০-১৮০ টাকার মধ্যে আমার যতদূর মনে আছে।

ছবিঃ কোল্ড কফি

দাম

থিক থাই স্যুপ – ১৮০ টাকা

পিৎজা স্যান্ডউইচ – ৪১৫ টাকা

টি বোন স্টেক মিল – ৯২০ টাকা

ওভেন বেকড চিকেন ব্রেস্ট পাস্তা – ৩৬০ টাকা

বারকোডের একটা ব্যাপার আমার খুব ভালো লাগে। সেটা হলো তাদের কো্নো হিডেন চার্জ (খাবারের দামের বাইরে অন্য কোনো অজানা দাম) নেই। অনেক দোকানেই মেন্যুতে কিছু লেখা থাকে না, কিন্তু বিল দিতে গিয়ে দেখি ১৫-২৫% পর্যন্ত ভ্যাট, সার্ভিস চার্জ যোগ করা।

পরিবেশ

বারকোডের সবগুলো শাখার ইন্টেরিয়র ডিজাইনই (অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা) অনেক সুন্দর। হোক উত্তরা শাখা, গুলশান শাখা (এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে) অথবা বনানী শাখার। বনানী শাখার দ্বিতীয় তলায় বসার ব্যবস্থা আছে। আপনি নিচ তলায় বসতে না চাইলে ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে চলে যেতে পারেন দোতলায়। দোতলায় উন্মুক্ত বসার জায়গার পাশাপাশি চার কোণায় চারটি রুমও আছে। অনেক মানুষ এক সাথে গিয়ে কারো অসুবিধা না করে হৈ চৈ করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন এর যেকোনো একটি রুম। যারা বাহিরে খেতে গিয়ে দলবেঁধে সেলফি বা প্রোফাইল ফটো তুলতে পছন্দ করেন, তাদের জন বেশ ভালো একটি জায়গা হতে পারে বারকোড ক্যাফে। জায়গায় জায়গায় সুন্দর সুন্দর পেইন্টিং (ছবি) আর মহান ব্যক্তিদের উক্তি টানানো। লাইটিংও (আলোক বিন্যাস) বেশ সুন্দর।

সার্ভিস

সার্ভিস খুবই ধীরগতির। আমি বরাবরই বারকোডের সার্ভিস নিয়ে বিরক্ত। ভেবেছিলাম নতুন জায়গা, হয়তো এখানে ব্যাপারটা অন্যরকম হতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি এখানেও একই। প্রথমত, এরা প্রচুর সময় নেয় যেকোনো অর্ডার পরিবেশন করতে। দ্বিতীয়ত, এদের বারবার বলার পরও এরা টিস্যু বা চামচ দিয়ে যায় না। এটা আমি যতবার গিয়েছি, ততবারই লক্ষ্য করেছি। সার্ভাররা সবাই বেশ উদাসীন।

কোনো কথা অনেকবার বললেও কর্ণপাত করে না। আর অর্ডার নিয়ে গোলমাল তো আছেই। এ নিয়ে যতবার গিয়েছি, ততবারই কোনো না কোনো গড়বড় করেছে এরা অর্ডার নিয়ে। সেদিন আমি একটা পিৎজা স্যান্ডউইচ পার্সেল নিয়েছিলাম। অনেকবার চাওয়ার পরও তারা আমাকে বক্সটা নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের প্যাকেট দিতে রাজি হলেন না। সার্ভিসের ব্যাপারে তাদের আরো অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

লোকেশন

বনানী শাখার বারকোড ক্যাফেতে যেতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে বনানীর ২১ নম্বর রোডে। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ দিয়ে সোজা গিয়ে কেএফসি পর্যন্ত যাবেন। তারপর দেখবেন হাতের বাঁয়ে একটি রাস্তা চলে গিয়েছে। সেই রাস্তা ধরে আগালে রাস্তার শেষ মাথায় হাতের ডানে চোখে পড়বে বারকোড ক্যাফে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here