ব্রুজ এন্ড বাইটসের মজাদার সব খাঁটি ইতালিয়ান খাবার

0
394

সেদিন লাঞ্চের সময় নিজেকে এবং বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়ে আমি টানা ২২ জনকে আমার সাথে দুপুরে খাওয়ার প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হলাম। জীবনে নেওয়া বন্ধু নির্বাচন বিষয়ক সকল সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে করতে টের পেলাম ক্ষুধায় চোখে অন্ধকার দেখছি।

শারীরিক এবং মানসিকভাবে পর্যুদস্ত আমি বেশি দূরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। চলে যাই ব্রুজ এন্ড বাইটসে। আগেই বলে রাখি আশেপাশের অনেকগুলো দোকান থেকে এটা বেছে নেয়ার কারণটা। আগেও এখানে একদিন খেতে গিয়েছিলাম। মেন্যু খুব বেশি ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও আমি আবার এখানে যেতে চাওয়ার কারণ ছিলো শুধুমাত্র খাবারের স্বাদ।

খাবার বাছাইয়ের ব্যাপারে আমি ঝুঁকি নেই আজকাল। যে আইটেমটা আগে এখানে খাইনি সেটাই অর্ডার করি। মাঝে মাঝে বেশ ভালো কোনো আইটেম পেয়ে যাই। আবার কখনো কখনো ধরা খাই।  আজ অনেক ভেবে চিন্তে অর্ডার দিলাম চিকেন মাশরুম কানেলোনি আর একটা কোল্ড ফ্রাপে। ফ্রাপেতে আমি চকলেট ফ্লেভার (স্বাদ) নিতে চাইলে জানালো, কেবল দুইটা ফ্লেভার যোগ করা যাবে। হ্যাজেলনাট আর ক্যারামেল। আমি হ্যাজেলনাট ফ্লেভার নিতে চাইলাম।

খাবার পরিবেশন করতে এরা বেশ দেরি করে। কারো মাঝেই কোনো তাড়া নেই এমন ভাব তাদের। যারা খেতে আসছে, তারাও বসে আছে তো আছেই। বুঝলাম না ব্যাপারটা কেন এরকম। বরং উল্টোটা হওয়া উচিত ছিলো। অফিস পাড়ার দোকান। সবার মাঝে অসম্ভব ব্যস্ততা থাকবে লাঞ্চের সময়, এটাই স্বাভাবিক। যাই হোক, আমারো কোনো তাড়া ছিলো না। তাই চুপচাপ বসে খাবার আসার অপেক্ষা করতে থাকি। আরো কিছুক্ষণ পরে আমার ফ্রাপে দিয়ে গেলো।

ছবিঃ ঠান্ডা হ্যাজেলনাট ফ্লেভারড ফ্রাপে

ফ্রাপেতে চুমুক দিতে দিতে খাবারের অপেক্ষা করছিলাম। এর মধ্যে আমার ২৩ নাম্বারে অনুরোধ করা ছোট্ট বন্ধু চলে আসলো। এর কিছুক্ষণ পরে আমার কানেলোনি দিয়ে গেলো। যারা আগে কখনো চেখে দেখেননি, তাদের জন্য বলছি, কানেলোনি এক ধরনের সিলিন্ডার আকৃতির মস্ত বড় পাস্তা। এতে গোটা পাস্তাটার ভিতরে ফিলিং (পুর) ভরে দিয়ে সিলিন্ডার টাকে বেক করা হয়। পাস্তাটাকে তারপর সস দিয়ে পরিবাশন করা হয়।

যাই হোক, এখানে ফিলিং হিসাবে ছিলো মাশরুম আর চিকেন। আর সাথে ইতালিয়ান সস দিয়ে পরিবেশন করা ছিলো। আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছিলো। দেখে মনে হয়েছিলো ভালো লাগবে খেতে। কিন্তু আমার একবারেই ভালো লাগেনি খেতে। ভেতরে যথেষ্ট পরিমাণে মাশরুম আর চিংড়ি ছিলো। পাস্তাটা আমার কাছে ওভারকুকড (বেশি রান্না) মনে হয়েছিল। তাই ফিলিংটা মজা হলেও খেয়ে আনন্দ পাইনি। আমার জুনিয়রও চেখে বলেছে ভালো লাগেনি না ওর কাছেও।

ছবিঃ চিকেন মাশরুম কানেলোনি

সাথের ফ্রাপেতে একটু তিতকুটে ভাব থাকলেও খারাপ লাগেনি খেতে। কিন্তু আমি যে কোন ধরনের ঠান্ডা পানীয় আনন্দ নিয়ে খাই। তাই ফ্রাপেটার ব্যাপারে নিরপেক্ষ মন্তব্য দিতে পারছি না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে আরো বড় গ্লাসে পরিবেশন করা যেত। আর এটার স্বাদের ব্যাপারে তাদের আরেকটু উন্নতির সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি।

এরপর আরেক অলস দুপুরে আমি আবার গিয়েছিলাম সেখানে একা একা খেতে। অর্ডার করেছিলাম স্ফ্যাগেটি গাম্বেরি উইথ পোচড শ্রিম্প (চিংড়ি)। এ ধরনের আইটেমগুলোর সাথে ওরা হট (ঝাল) এন্ড সাওয়ার (টক) সস, ব্ল্যাক পেপার (গোল মরিচ) আর চিলি ফ্লেক (লাল মরিচের গুড়ো) আলাদা করে দিয়ে দেয়। যে যার স্বাদমতো নিয়ে খেতে পারে। পোচড শ্রিম্পগুলো ভালো লাগবে না। কিন্তু খুবই মজা ছিলো শ্রিম্প, পাস্তা দুইটাই। হাভানা গানটা শুনতে শুনতে স্ফ্যাগেটি খেয়ে, আগের দিনের পচা কানেলোনির দুঃখ কিছুটা হলেও কমেছে আমার।

ছবিঃ স্প্যাগেটি গাম্বেরি উইথ পোচড শ্রিম্প

এ তো গেলো বাইটসের আলাপ। সাথে নিয়েছিলাম হ্যাজেলনাট ফ্লেভারের ঠান্ডা ক্যাপাচিনো ফ্রেডো। ড্রিংকটা ভালোই লেগেছে আমার। সবকিছু পরিমাণমতো ছিলো। আজকাল দেখি বেশিরভাগ মানুষ চা প্রেমী। তাদের ভালো লাগবে কিনা বলতে পারছি না। কিন্তু আপনি কফি প্রেমী হলে নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে আপনার এই ব্রুজ আইটেমটি।

ছবিঃ হ্যাজেলনাট ফ্লেভার ঠান্ডা ক্যাপাচিনো ফ্রেডো

পরিবেশ

রেষ্টুরেন্টের ইন্টেরিয়র (অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা) সাদামাটা কিন্তু রুচিশীল। আমি কখনো ভিড় দেখিনি। হালকা ভলিউমে গান বাজতে থাকে। বসার জন্য সোফা এবং হাই চেয়ার (উঁচু চেয়ার) এই দু’ধরনের ব্যবস্থা আছে। আমার কাছে বরাবরই হাই চেয়ার সেকশনটা ভালো লাগে। জায়গাটা একটু আলাদা করা। আলাদা করা মানে মূল বসার জায়গা থেকে একটুখানি দূরে। এদিকে খুব কম মানুষই বসে। কাচের দেয়ালের ওপাশে মানুষের ব্যস্ততা দেখতে দেখতে খেতে অসাধারণ লাগে আমার।

ছবিঃ হাই চেয়ারগুলোকে বসার জন্য বেছে নিন একা খেতে গেলে

খাবার

খাবারের স্বাদের ব্যাপারে আগেই বলেছি। আর সব খাবারই একজনের জন্য পরিবেশন করা। কোনো একটা খাবার যদি দুজন বা কয়েকজন মিলে শেয়ার করে খান, তাহলে পেট ভরবে না।

সার্ভিস

সবাই বেশ প্রফেশনাল। কিন্তু সবকিছু আরেকটু ভালো হতে পারতো। এরা কখনো ন্যাপকিন বা টিস্যু দেয় না খাবার দিয়ে যাওয়ার আগে বা পরে, যা আমাকে যতবার যাই, ততবারই অবাক করে।

দাম

মেন্যুর সব খাবারের দাম যথেষ্ট বেশি। সব কিছুর সাথে আবার ১৫% ভ্যাট রাখে। আমি সব খাবারের ভ্যাট ছাড়া দামগুলো দিয়েছি।

কানেলোনি – ৩৯০টাকা

ফ্রাপে – ২৫০ টাকা

স্ফ্যাগেটি গাম্বেরি – ৪১০ টাকা

ক্যাপাচিনো – ২২০ টাকা

কোল্ড ড্রিঙ্ক- ৪০ টাকা

লোকেশন

যারা প্রথমবারের মতো যেতে চান, তাদের সুবিধার জন্য বলে দেই। গুলশান ২ এর একটু সামনেই, আগোরা আর কেএফসির ঠিক বিপরীতে। এই দোকানের নিচে একটি পোশাক দোকান রয়েছে। আর একই সাথে জবরজং করে চিটাগাং বুল এর সাথে নাম ধাম লেখা। অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে যাতে পারেন। তাই এটাও বলে দিচ্ছি, ড্রেস শপে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে আপনাকে যেতে হবে ব্রুজ এন্ড বাইটস এ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here