ভীন্নধর্মী চিকেন রেসিপি ও মুরগির মাংস সংরক্ষণ করার টিপস

0
771

মাংসের মধ্যে মুরগির মাংসই সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মত। নিয়মিত আমরা কারণে-অকারণে মুরগির মাংস খেয়ে থাকি। আবার কারো কারো কাছে মুরগির মাংসের গ্রহণযোগ্যতা এতটাই বেশি যে, খাবারের তালিকায় মুরগির মাংস না থাকলে ঠিকঠাকভাবে তাদের তিনবেলার খাবার গ্রহণ করাই অসমাপ্ত রয়ে যায়! একইসাথে যেকোনো মাংসের গুণাগুণ ও সহজলভ্যতা তুলনা করলে মুরগির মাংসই খাবারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবে।

source: youtube

যেহেতু মুরগির মাংস সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর তাই সব বয়সী মানুষই সহজে খেতে পারে। কিন্তু মুরগির মাংসের এই একঘেয়েমি রান্না খেতে খেতে কি আপনি বিরক্ত? তাহলে এই রেসিপি আপনার জন্য!

আপনার হাতে একটু সময় বেশি থাকলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন রেসিপিটি। ভীন্নধর্মী এই রেসিপিটি আপনার হাতের কাছে থাকা সহজ কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় বলে যে কেউ যেকোনো সময় এটি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মেহমানদের আপ্যায়ন করার ক্ষেত্রে এই রেসিপির জুড়ি নেই। নিচে ভীন্নধর্মী মজাদার মুরগির মাংসের রেসিপিটির সাথে মুরগির মাংস সংরক্ষণের ঘরোয়া সহজ কিছু টিপসও দেয়া হল।

রেসিপিটির জন্য যা যা লাগবে

০ এক কেজি মুরগির মাংস (ছোট করে কেটে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে)

০ আদা বাটা (১ চা চামচ)

০ রসুন বাটা (১ চা চামচ)

০ পেঁয়াজ বাটা (১ চা চামচ)

০ হলুদ গুঁড়া ( হাফ চা চামচ)

source: myuntangledlife.com

০ লাল মরিচের গুঁড়া ( ১ চা চামচ)

০ জিরে গুঁড়া ( ১ চামচের একটু বেশি)

০ ধনে গুঁড়া (দেড় চা চামচ)

০ লবণ (স্বাদমতো)

০ সয়াবিন তেল (দেড় চা চামচ)

০ টক দই ( ২ টেবিল চামচ)

০ পেঁয়াজ কুচি ( বড় সাইজের ১ টি)

০ টমেটো কুচি (২ টি)

০ কয়েকটি কাঁচা মরিচ (মাঝখানে কেটে ফালি করে নিতে হবে)

০ তেজপাতা (৩টি – মাঝখানে ছিঁড়ে নিতে হবে ফ্লেভারের জন্য)

০ দারুচিনি (৪টি)

০ এলাচ (৪টি)

পানি ঝরিয়ে ছোট করে কেটে রাখা মুরগির মাংসের সাথে প্রয়োজনীয় সব মসলা পরিমাণমতো (টকদই, টমেটো কুচি, পেঁয়াজ কুচি ও কাঁচা মরিচ বাদে) দিয়ে সব একসাথে ভালভাবে মিশিয়ে ১৫ মিনিটের মতো ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মেরিনেট করে রাখতে হবে। হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে এমনভাবে মেশাতে হবে যেন মাংসে সব মসলা ঠিকঠাকভাবে ঢুকে যায়।

source: NorthShore University HealthSystem

প্রস্তুত প্রণালী

★ একটা বড় সাইজের প্যানে ১ টেবিল চামচ সয়াবিন তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হলে আস্ত গরম মসলাগুলো দিয়ে দিন। পেঁয়াজ কুচি দিয়ে লাল করে ভাজুন।

★ পেয়াজ হালকা লাল হয়ে এলে এতে টমেটো কুচি দিয়ে দিন। নেড়ে নেড়ে ভেজে নিন এক মিনিটের মতো। আপনারা চাইলে নিজেদের সুবিধার্থে আস্ত টমেটোর বদলে ক্যানে রাখা টমেটো পেস্ট কিংবা ক্যাচাপও ব্যবহার করতে পারেন। এ পর্যায়ে মাঝখানে ফালি করে রাখা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন। ঝালটা নিজেদের স্বাদমতো রাখতে পারেন। নেড়ে নেড়ে রান্না করুন। সব উপাদান নরম হয়ে এলে এতে টক দই দিয়ে দিন। টক দই অবশ্যই ফেটিয়ে রাখতে হবে। ফেটিয়ে না রাখলে রান্নার সময় তা ফেটে ফেটে যাবে। অল্প আঁচে নেড়ে নেড়ে এক মিনিটের মতো রান্না করুন।

এরপর এতে এক চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ আদা, রসুন ও পেয়াজ বাটা এবং ১ চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ হলুদ, লাল মরিচের গুঁড়া ও গরম মসলার গুঁড়ার সাথে স্বাদমতো লবণ দিয়ে দিন। গরম মসলা দেয়াতে মাংসের ফ্লেভারটা ভাল আসবে। সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দেবার পরে সামান্য পরিমাণ পানি দিয়ে ২-৩ মিনিটের মতো ভালভাবে কষিয়ে নিন। পানি দেবার ফলে বাটা মসলা পুড়ে যাবে না। রান্না যেভাবে করুন না কেন মাংস মেরিনেট করে রাখলে স্বাদটা সবমসময়ই ভাল আসে। তাই অবশ্যই মাংস মেরিনেট করে রাখতে চেষ্টা করবেন।

source: www.onceuponachef.com

★ মসলার উপরে তেল ভেসে উঠলে মেরিনেট করে রাখা মাংস এ পর্যায়ে মসলার মধ্যে ঢেলে দিন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে উচ্চতাপে কষিয়ে নিন ২-৩ মিনিট। ঢাকনা খুলে দেখবেন মাংস থেকে পানি ঝরতে শুরু করেছে আস্তে আস্তে। নেড়েচেড়ে আবার ঢেকে রাখুন কিছুক্ষণ। দেখবেন, মাংস থেকে সবটুকু পানি বেরিয়ে তেলের ওপরে উঠে এসেছে এবং মাংস প্রায় ৫০ ভাগের মতো সেদ্ধ হয়ে এসেছে।

এভাবে নেড়ে নেড়ে রান্না করলে দেখবেন মুরগির মাংসের কালারও সুন্দর এসেছে। এরপর ১ কাপ পরিমাণ সাধারণ পানি মেরিনেট করে রাখা পাত্র ধুয়ে মাংসে দিয়ে দিন। নেড়েচেড়ে ভালভাবে পানির সাথে মাংস মিশিয়ে নিন। মেশানোর পরে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। চুলার তাপ কিন্তু উচ্চ থাকবে। উচ্চ তাপে বেশ কিছুক্ষণ রান্না করুন। এবার ঢাকনা খুলে দেখতে পাবেন মাংস সেদ্ধ হয়ে গেছে অনেকটাই এবং মাংসের ওপরেও তেল ভেসে উঠতে শুরু করেছে।

ভালভাবে নেড়েচেড়ে চুলা থেকে নামিয়ে মনের মতো করে পরিবেশন করুন ভাতের সাথে। ভীন্নধর্মী এই মুরগির মাংসের রেসিপিটি রান্না করতে একটু বেশি সময় লাগলেও খেতে কিন্তু দারুণ সুস্বাদু হয়। বিশেষ করে মেহমানদের আপ্যায়ন করার জন্য মুরগির মাংসের একটি চমৎকার রেসিপি। তাই হাতে সময় থাকলে আজই ট্রাই করুন এই রেসিপিটি।

মুরগির মাংস সংরক্ষণের ঘরোয়া কিছু টিপস

০ মুরগির মাংস ফ্রিজে এক মাসের বেশি সংরক্ষণ করা উচিত না। এতে মাংসের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং গুণগত মান কমতে থাকে। তবে ফ্রিজের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইটে এক মাসের বেশি সময় সংরক্ষণ করা যায়।

০ সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. শাকিল মুরগির মাংস সংরক্ষণ প্রসঙ্গে বলেন- মুরগির মাংস অবশ্যই বড় বড় টুকরা করে তেল, রক্ত ও পানি পরিষ্কার করে পলিথিন ব্যাগে কিংবা অ্যালুমিনিয়াম ফুয়েলে রাখতে হবে। ছোট ছোট টুকরায় চর্বি, পানি ও রক্ত জমে থাকতে পারে। ফলে মাংসে ব্যাকটেরিয়া সহজেই আক্রমণ করতে পারে।

source: iStock

০ ডা. শাকিল আরো বলেন- যেই তাপমাত্রায় মাংস সবসময় বরফ হয়ে থাকবে ফ্রিজে সেই তাপমাত্রা সেট করে রাখতে হবে। আর মাংসে তারিখ কিংবা সময় সেট করে রাখলে মাংস সংরক্ষণ করতে সুবিধা হবে। ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে মাংস বের করা যাবে না। এতে ফ্রিজে বাতাস ঢোকার সম্ভাবনা থাকে। ফলে মাংসে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা বেড়ে যায়। এতে মাংসের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।

০ আপনারা চাইলে রান্না করা মাংস ফ্রিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তিন-চারদিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। তবে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখতে চাইলে এয়ার টাইট ছোট ছোট পাত্রে রাখতে হবে। ফ্রিজে রাখা মাংস বারবার বের করে গরম করা যাবে না। এতে মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হবে।

ওপরে বর্ণিত উপায়ে মুরগির মাংস সংরক্ষণ করে রাখলে স্বাদ ও পুষ্টির দিক হেরফের হবার সম্ভাবনা থাকে না এবং নিজেদের পছন্দমতো রেসিপি অনুসরণ করে যেকোনো বেলার খাবারের তালিকায় রাখা যায়।

Feature Image: Tao Belly

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here