মালয়েশিয়া ভ্রমণে গেলে যে ১০টি বিখ্যাত খাবার না খেলেই নয়

0
957

মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন জাতির লোকজনের বসবাসের কারণে সারা বিশ্বে মালয়েশিয়ান ফুডের বিশেষ সুনাম রয়েছে। মূলত ৩টি জাতি নিয়ে মালয়েশিয়া গঠিত, আদি মালায়ু, ইন্ডিয়ান তামিল এবং চাইনিজ। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার বেশ প্রভাব রয়েছে মালয়েশিয়ায়। আর এসব কারণেই মালয়েশিয়া, ইন্ডিয়ান, চাইনিজ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা খাদ্য সংস্কৃতি নিয়ে মালয়েশিয়ান খাবার বেশ বিখ্যাত ও সমৃদ্ধ। আজকের লেখায় মালয়েশিয়ার ১০টি বিখ্যাত খাবার সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো।

১. বেনানা লিফ রাইস বা কলা পাতার ভাত

মূলত দক্ষিণ ভারত থেকে আসা ইন্ডিয়ান তামিলরা মালয়েশিয়াতে এই খাবারের প্রচলন ঘটায়। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় সর্বাধিক জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে কলা পাতার ভাত অন্যতম। আপনি মালয়েশিয়ার প্রায় সকল রেস্তোরাঁয় এই খাবারটি দেখতে পাবেন।

বেনানা লিফ রাইস বা কলা পাতার ভাত; Source: timeout.com

বর্তমানে মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে বেনানা লিফ রাইস বা কলা পাতার ভাত স্থান করে নিয়েছে। সাধারণত একটি ফ্রেশ সবুজ কলা পাতার মধ্যে সুগন্ধি চালের সাদা ভাতের সাথে, মিক্সড সবজি, মুরগির কারি বা তরকারি, টিয়ারু (তাজা দই), পেঁপেম (খাস্তা ফ্ল্যাটব্রেড) এবং শুকনো মরিচসহ বিভিন্ন আইটেম দিয়ে বেনানা লিফ রাইস বা কলা পাতার ভাত পরিবেশন করা হয়।

২. নাসি দাগাং

নাসি দাগাং মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলে একটি সুপরিচিত ব্রেকফাস্ট ডিশ। নাসি দাগাং বর্তমানে মালয়েশিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি এক প্রকার মালয়েশিয়ান ডিশ, যা মূলত সকালের ব্রেকফাস্টে পরিবেশন করা হয়।

নাসি দাগাং; Source: mtiatg.blogspot.com

রাইস বা ভাত নারিকেল এবং দুধের সংমিশ্রণে রান্না করা হয়। সাথে যে মাছের তরকারিটা পরিবেশন করা হয় সেটিও নারিকেল, দুধ এবং বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে রান্না করা হয়। এই মাছের কারি রান্নায় মূলত টুনা মাছ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৩. নাসি কান্দার

নাসি কান্দার মালয়েশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় একটি খাবার, যা মূলত দক্ষিণ ভারত থেকে আসা ইন্ডিয়ান মুসলিমদের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার ছিল। পরবর্তীতে এই খাবারটি মালয়েশিয়াতে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নাসি মানে হচ্ছে ভাত এবং কান্দার মানে হচ্ছে বাঁশের তৈরী এক প্রকার টুপি বা বাটি, যা বিক্রেতারা বহন করে থাকে।

নাসি কান্দার ; Source: justgola.com

প্রায় সকল মালয়েশিয়ান রেস্তোরায় নাসি কান্দার পাওয়া যায়। একটি সিঙ্গেল প্লেট, বিশেষ করে মেলামাইনের প্লেটে নাসি কান্দার পরিবেশন করা হয়। সুগন্ধি চালের ভাত, সাথে বিভিন্ন কারি যেমন মাছের কারি, মুরগির কারি, মাটন কারি, বিফ কারিসহ বিভিন্ন প্রকার সালাদ দিয়ে নাসি কান্দার পরিবেশন করা হয়।

৪. নাসি লেমাক

নাসি লেমাক সুগন্ধি চাল দিয়ে রান্না করা মালয়েশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। সুগন্ধি চালের সাথে দুধ এবং নারিকেল মিশিয়ে পান্ডন পাতার ভেতরে এই ভাত রান্না করা হয়। পরবর্তীতে কলা পাতা বা সিঙ্গেল প্লেটে করে এই খাবার পরিবেশন করা হয়।

নাসি লেমাক; Source: steemit.com

মালয়েশিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী সিঙ্গেল ডিম মামলেট, বিভিন্ন মাছের শুঁটকি থেকে তৈরি কারি বা সস, ভাজা বাদাম, শশাসহ বিভিন্ন সালাদ দিয়ে নাসি লেমাক পরিবেশন করা হয়ে থাকে। মূলত ব্রেকফাস্টে নাসি লেমাক খাওয়া হয়, তবে মালেশিয়ার লোকাল জনগণের নিকট এটি বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় লাঞ্চ বা ডিনারের সময়েও নাসি লেমাক খাওয়া হয়।

৫. রুটি চানাই

মালয়েশিয়ার বিখ্যাত খাবারগুলোর মধ্যে রুটি চানাই অন্যতম। এই খাবারটিও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা খাদ্য প্রণালি, যা বর্তমানে মালয়েশিয়ার সকালের নাস্তায় সর্বাধিক জনপ্রিয়।

রুটি চানাই; Source: kuali.com

রুটি চানাই এক ধরনের ফ্ল্যাটব্রেড, বিশেষ এক ধরণের ডিশে রুটি চানাই পরিবেশন করা হয়। ডিশে কয়েকটি অংশ থাকে, বিভিন্ন অংশে মাছের শুঁটকির সস, মাছ বা মাংসের কারি, বুটের ডাল, সবজি এবং ডিম দেয়া হয়।

৬. রোজাক

রোজাক মালয়েশিয়ার এক প্রকার বিশেষ ধরনের সালাদ। যা ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়শিয়াতে খুবই জনপ্রিয়। ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়াতে রুজাক নামের এক প্রকার ফল পাওয়া যায়, সেই ফল থেকে তৈরী করা হয় রোজাক।

রোজাক; Source: kuali.com

মূলত রুজাক ফল, চিনি, কাঁচামরিচ, চিনা বাদাম, বিভিন্ন প্রকার সবজি ও বিভিন্ন ধরনের মসলা মিশিয়ে রোজাক তৈরি করা হয়। এছাড়াও মাঝে মাঝে রোজাকের সাথে মুরগির কিমা করা মাংস বা ফ্রাই করা চিংড়িও দেয়া হয়।

৭. সাতায়

মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় একটি খাবারের নাম সাতায় , যা মূলত ইন্দোনেশিয়ার খাবার প্রণালি থেকে এসেছে। সাধারণত গরু, মুরগি বা ভেড়ার মাংস দিয়ে সাতায় বানানো হয়। প্রথমে বিভিন্ন ধরনের মসলার পেস্টের সাথে নরম মাংসগুলো মেশানো হয়। সাধারণত অগভীর, লেংগোরা, রসুন, আদা, ধনে, জিরা এবং হলুদ দিয়ে এই মসলার পেস্ট তৈরি করা হয়।

সাতায়; Source: nyonyacooking.com

মাংসগুলো মসলার পেস্টে ভালো করে মিশিয়ে তারপর বাঁশের কাঠি মাংসের ভেতরে ঢুকিয়ে গ্রিল করা হয়, যা খেতে খুবই মজাদার ও সুস্বাদু। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রেঁস্তোরা ছাড়াও রাস্তায় বসা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে সাতায় বিক্রয় হয়।

৮. মুরতাবাক

মুরাতাবাক মালয়েশিয়ার বিখ্যাত খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। মূলত সৌদি ও ভারতীয় মুসলিমদের নিকট হতে এই খাদ্য প্রণালীটি মালয়েশিয়ায় এসেছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার মুরাতাবাক।

মুরতাবাক; Source: cnn.com

অধিকাংশ মালয়েশিয়ান রেস্টুরেন্টে মুরতাবাক বিক্রি করা হয়। পেঁয়াজ, ডিম, রসুন ও বিভিন্ন মসলার সাথে মুরগি, ভেড়া বা গরুর মাংস মিশিয়ে মুরতাবাক বানানো হয়। মাঝে মাঝে কচি হাঁসের মাংস মুরতাবাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আরবে এই খাবারটি বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতে এই খাবারের জনপ্রিয়তা রয়েছে।

৯. বাক কুত তেহ

বাক কুত তেহ মূলত চায়নাদের খাদ্যপ্রণালী থেকে এসেছে। আক্ষরিক অর্থ করতে গেলে হাঁড়যুক্ত মাংসের চা, যা মালয়েশিয়ান চাইনিজদের নিকট খুবই একটি জনপ্রিয় খাবার। সাধারণত পশুর পাঁজরের হাড়যুক্ত মাংস দিয়ে তৈরি হয় এই খাবার।

বাক কুত তেহ; Source: asiansupermarket.com

সাধারণত হাড়ের সাথে স্টার ইনায়েজ, দারুচিনি, কুমড়া, ডাইং গুই, ফেনেল বীজ এবং তরমুজ ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত উপাদানের মধ্যে আপেল, মাশরুম, ছোয় শাখা, এবং শুকনো টুফুর টুকরা বা ভাজা টোফু পফ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। স্যুপের মতো করে বাটিতে এই খাবার পরিবেশন করা হয়।

১০. সিন্ডোল

সিন্ডোল এক প্রকার আইসিড মিষ্টি ডেজার্ট, যা  চালের আটার সবুজ জেলি, নারকেল, দুধ এবং পাম চিনির সিরাপ দিয়ে তৈরী করা হয়। 

সিন্ডোল; Source: cavinteo.blogspot.com

অতিরিক্ত হিসেবে মাঝে মাঝে মিষ্টি কাঁঠাল, মটরশুঁটি ও ডুরিয়ান যোগ করা হয়। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার সিন্ডোল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here