মিস্টার মানিক ফুডস এর সুস্বাদু চিকেন নাচোস, দুই ধরনের উইংস, গামি বিয়ার ও মিল্কশেক

0
527

ওজন বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে আমার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ভ্রুক্ষেপ করলেই তো বিপদ! খাওয়া-দাওয়ায় লাগাম টানতে হবে যে! দরকার হলে ওজন মাপাই বন্ধ করে দেব কিন্তু খাওয়া-দাওয়ায় লাগাম টানা অসম্ভব! খেয়েছি, খাচ্ছি, খাব। যা আছে কপালে, ভুঁড়ি না হয় হলো অকালে! কিন্তু আমি একা একা খাওয়ার মাঝে কোনো আনন্দ পাই না। খেতে খেতে কারও সাথে কথা না বললে পেট ভরে খাওয়ার পরও মনে হয় যেন ঠিক তৃপ্তি পেলাম না। তাই আমার ফুডি পার্টনার বান্ধবীকে ফোন করলাম। আমাকে মানিক ফুডের সাথে সেই প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। তারপর বাকিটা ইতিহাস। এখন আমিই তাকে বারবার মানিক ফুডস-এ নিয়ে গিয়ে আমার খাবার সাবাড় করার ক্ষমতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই!

জায়গাটা যেমন

মি. মানিক ফুডস-এর স্পেসটাকে ছোট বললে মনে হয় অন্যায় হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, মাঝারি সাইজের একটা ফ্লোরের পুরোটা নিয়েই তাদের ডেরা। গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকলে শুরুতেই চোখে পড়বে ক্যাশ কাউন্টার। হাতের ডান পাশে দেখা যাবে কয়েকটা টেবিল-চেয়ার আর কিছু সোফা সিট সুন্দর করে সাজানো। বাম পাশে থাকা বসার জায়গাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। বাম পাশে সোজা এগোলে বেশ লম্বালম্বি একটি স্পেস পাওয়া যাবে। অনেকগুলো টেবিল ও বসার জন্য সুন্দর আরামদায়ক ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। আর যদি সোজা না এগিয়ে আবার হাতে বামে অর্থাৎ ক্যাশ কাউন্টারের ঠিক উল্টো পাশে ঢোকা হয় তাহলে সেখানেও টিপটপ পরিবেশে বসার ব্যবস্থা চোখে পড়বে।

মানিক ফুডস-এর ভেতর থেকে রাস্তার ভিউ; সোর্স: গুগল ম্যাপ

হলুদ রংকে মানিক ফুডস তাদের সিগনেচার কালার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে পুরো ফ্লোর জুড়ে দেয়ালে হলুদ রঙের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। তবে শুধু সাদামাটা হলুদ করে দেয়ালকে অনাকর্ষণীয় করে ফেলেনি কর্তৃপক্ষ। বরং বিভিন্ন খাবারের মজার মজার কার্টুন এঁকে দেয়ালকে করেছে দৃষ্টিনন্দন। খাবারপ্রেমীরা যেন আরাম করে ভোজন করতে পারে সেজন্য ভেতরের পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণতীত।

খাবার ও তার স্বাদ

প্রতিটি টেবিলেই মানিক ফুডসের মেনু কার্ড রাখা আছে। তাতে চোখ বুলিয়ে দুইজনের জন্য বেশ কয়েকটা আইটেম অর্ডার করলাম। এক প্লেট চিকেন নাচোস, চার পিস মিস্টার উইংস, চার পিস বাফেলো উইংস, এক গ্লাস গামি বিয়ার ও ভ্যানিলা ফ্লেভারে এক গ্লাস মিস্টার শেক।

এখানে উল্লেখ করা দরকার, মিস্টার মানিকে ‘পে ফার্স্ট’ ও ‘সেলফ সার্ভিস’ সিস্টেম। অর্থাৎ, অর্ডার করার সময়ই আপনাকে কাউন্টারে গিয়ে পুরো পেমেন্ট করতে হবে। পেমেন্ট করার পর ওরা আপনাকে একটি টোকেন কার্ড দেবে। আপনার খাবার রেডি হলে টোকেনে থাকা নাম্বার অ্যানাউন্স করবে কাউন্টার থেকে। নিজের নাম্বারের ডাক পড়লে তখন আপনাকে কাউন্টারে গিয়ে খাবার নিয়ে আসতে হবে। খাবার আনা নেয়া ও অর্ডার নেয়ার জন্য কোনো ওয়েটার নেই।

যা-ই হোক, প্রায় ২৫ মিনিট পর আমাদেরকে নাম্বারটা কাউন্টার থেকে ঘোষণা করা হলো। আমি দ্রুত গিয়ে খাবারগুলো টেবিলে নিয়ে এলাম। তারপর ওদের বেসিনে গিয়ে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে এলাম ভাল করে। লক্ষ্য করেছি, অনেকেই এসব জায়গায় হাত না ধুয়েই খেতে শুরু করে দেন। যেটা খুবই অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা একটা ব্যাপার।

খাওয়া-দাওয়ার শুভ সূচনা করলাম নাচোসের মাধ্যমে। মানিকের চিকেন নাচোস এর আগে বেশ কয়েকবার খেয়েছি। সেই সুবাদে আমার জিহ্বা জানে, এখানকার নাচোস কতটা সুস্বাদু ও মুখরোচক। বরাবরের মতো এবারও স্বাদের কোনো হেরফের হয়নি। যতবারই নাচোস মুখে নিয়েছি তৃপ্তিতে চোখ বুজে এসেছে। আহা! এ যেন অমৃত! যেমন মচমচে, তেমনি চিজি, সাথে চিকেন তো আছেই! সবাইকে এখানকার নাচোস জীবনে একবার হলেও চেখে দেখার পরামর্শ রইল।

জিভে লেগে থাকার মতো অতুলনীয় স্বাদের চিকেন নাচোস; সোর্স: সাঈম শামস্

নাচোস খেতে খেতে মিস্টার উইংসের দিকে মনোযোগ দিলাম। এটা অনেকটা চিকেন ফ্রাইয়ের মতো। তবে তেলটা একটু বেশি বলে মনে হলো। স্বাদটাও ঠিক পছন্দসই নয়। তবে সাথে থাকা টমেটো ক্যাচাপ দিয়ে উইংস মুখে নেয়ার পর বেশ মজা লেগেছে। তাই মিস্টার উইংস খাওয়ার সময় অবশ্য ক্যাচাপ বা সস লাগিয়ে খাবেন।

মিস্টার উইংস ও সসে মাখানো লোভনীয় বাফেলো উইংস; সোর্স: সাঈম শামস্

তৃষ্ণাবোধ করায় গামি বিয়ার পান করলাম এক চুমুক। বুঝলাম এই বিয়ারের পেছনে টাকা খরচ করার চেয়ে সাধারণ কোনো সফট ড্রিঙ্কস বা মিল্কশেক নিলেই ভাল করতাম। বান্ধবীও গামি বিয়ার পান করে একই মতামত দিল। তাই সবমিলিয়ে গামি বিয়ার নট রিকমান্ডেড।

অগত্যা মিস্টার শেক দিয়েই তৃষ্ণা নিবারণ করে নজর দিলাম বাফেলো উইঙ্গসে। বাফেলো শুনে ভেবেছিলাম মহিষের কিছু হবে হয়তো! কিন্তু এটাও চিকেন। তবে বেশ ভেজা ভেজা। বিভিন্ন মসলা ও সস দিয়ে মুরগীর ডানায় মাখা অত্যন্ত সুস্বাদু একটা আইটেম। এটা খেয়ে খুব তৃপ্তি পেয়েছি। আগে জানা থাকলে চার পিস মিস্টার উইঙ্গসের বদলে আরও চার পিস বাফেলো উইংস অর্ডার করতাম! বাফেলো উইংস খাদ্যপ্রেমীদের মন জয় করে নেবার মতো একটি খাবার। কেউ চাইলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

হালকা নীলাভ গামি বিয়ার ও সাদা রঙের সুস্বাদু মিস্টার শেক; সোর্স: সাঈম শামস্

ভ্যানিলা ফ্লেভারের মিস্টার শেক ছিল কলিজা ঠাণ্ডা করে দেয়ার মতো। চকোলেট, আইসক্রিম আর বরফকুঁচির মিশ্রণে মিস্টার শেক এক গ্লাস শেষ করে আরেক গ্লাস খাওয়ার জন্য মনটা আঁকুপাকু করছিল। কিন্তু চাইলেই কি সব হয়? বাজেট বলেও তো একটা ব্যাপার আছে!

মূল্য

খাওয়া-দাওয়া হলো শেষ এবার বিলের ব্যাপারে আসা যাক।

চিকেন নাচোস = ১৯০ টাকা।

মিস্টার উইংস (৪ পিস) = ১৪০ টাকা

বাফেলো উইংস (৪ পিস) = ১৪৯ টাকা।

গামি বিয়ার = ১৩৫ টাকা

মিস্টার শেক (ভ্যানিলা) = ১৮০ টাকা

+ভ্যাট ১৫%

মোট খরচের পরিমাণ ৯১৪ টাকা।

রেটিং রঙ্গ

মূল্য ও স্বাদ বিবেচনা করে রেটিং দিচ্ছি।

চিকেন নাচোস: ১০/১০

মিস্টার উইংস: ৬/১০

বাফেলো উইংস: ৮/১০

গামি বিয়ার: ৪/১০

মিস্টার শেক: ৮/১০

পরিবেশ: ৯/১০

সার্ভিস: ৭/১০

ঠিকানা ঠাওর

দেশের যে প্রান্তে থাকুন না কেন, মিস্টার মানিকে পৌঁছুতে হলে আপনাকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আজমপুর বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে। রবীন্দ্র স্মরণী ধরে কয়েক মিনিট হাঁটলেই হাতের ডান পাশে, একদম রাস্তার সাথেই মিস্টার মানিকের ভবন দেখতে পাবেন। আর যদি হাঁটতে না চান তাহলে রিকশা নেবেন, বলবেন রবীন্দ্র স্মরণী রোডের ৪ (চার) নম্বর বাড়িতে যাবেন। ২ মিনিটের মধ্যে রিকশাওয়ালা আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। তবে দূরত্ব সামান্য হলেও ১০ টাকার নিচে ভাড়া নেবে না। তাই পায়ে হেঁটে যাওয়াটাই সবদিক থেকে উত্তম। একটু হাঁটাহাঁটি শরীরের জন্যেও ভাল।

মিস্টার মানিক ফুডস সকাল ১১ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে সাপ্তাহিক কোনো বন্ধ নেই। তাই সপ্তাহের যেকোনো দিন নিশ্চিন্তে চলে আসতে পারেন।

এই নাম্বারে (০১৯৮০-৫৩৫৩৬২) কল দিয়ে সিট/স্পেস বুকিং করতে পারবেন যদি আপনার কোনো বড় আয়োজন পরিকল্পনায় থাকে। আপনাদের সুবিধার্থে মিস্টার মানিকের পূর্ণাঙ্গ অফিসিয়াল ঠিকানাটা দিচ্ছি: মিস্টার মানিক ফুডস উত্তরা, হাউজ-৪, রোড: রবীন্দ্র সরণী, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here