মুখরোচক তবে স্বাস্থ্যকর নয় যেসব খাবার

0
880

খাবার দেহে শক্তি ও পুষ্টির সঞ্চার করে। আর এই খাবার খেয়ে মানুষ বেঁচে থাকে। খাবার থেকে যেসকল পুষ্টি উপাদান মানুষ পায় তা থেকে শারীরিক ও দৈহিক কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হয়, মানসিক ও জ্ঞানীয় বিকাশ ঘটে। অনেক খাবার আছে যা বেশ দামী হলেও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। সেসব খাবারগুলোকে অস্বাস্থ্যকর খাবার বলে। অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলো সাধারণত বেশ মুখরোচক। তবে এই খাবারগুলো শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। এসব খাবার খেলে নানাবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেমন ওজন বাড়ে, হার্টের সমস্যা দেখা দেয়, উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, অপুষ্টিজনিত নানা রোগ হতে পারে, ডায়াবেটিস হতে পারে ইত্যাদি। আপনি জানেন কি সেসব অস্বাস্থ্যকর খাবার কোনগুলো? নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে জেনে নিন সেসব খাবার সম্পর্কে যেগুলো মুখরোচক হলেও স্বাস্থ্যকর নয় ।

ক্রিমি সালাদ ও মেয়নেজ

দামী রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে খাবারের সাথে ক্রিমি সালাদ ও মেয়নেজ না হলে অনেকের চলে না। খাবারকে অধিকতর সুস্বাদু করে তোলায় ক্রিমের বিকল্প নেই। তবে সুস্বাদু হলেও এটি স্বাস্থ্যকর নয়। ক্রিমি সালাদ ও মেয়নেজ খাবারকে সুস্বাদু করে ঠিকই তবে এইগুলো স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

১ চামচ মেয়নিজে ৮৮ ক্যালরি রয়েছে যা ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ওজন বৃদ্ধি আপনার জন্য মঙ্গলজনক নয়। অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেলে অন্যান্য রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকবে। অস্বাস্থ্যকর খাবারে কার্বোহাইড্রেট ও কোলেস্টেরল অতিরিক্ত পরিমাণে থাকে।

গরুর মাংস

অনেকেই দুপুরের খাবার গরুর মাংস ছাড়া কল্পনা করতে পারে না। তারা সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন গরুর মাংস খেতে চায়। অথচ গরুর মাংসে কোলেস্টেরল ও ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি। গরুর মাংস মুখরোচক খাবার হলেও এটি সবসময় স্বাস্থ্যকর নয়। এতে সর্বোচ্চ পরিমাণের ফ্যাট থাকে। সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন গরুর মাংস খেলে শরীর অল্প দিনেই মেদবহুল ও স্থূল হয়ে যাবে। এবং শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমা হলে আপনার ওজন তো বাড়বেই, সেই সাথে নানা রোগ আপনাকে স্বাগতম জানাবে। তাই স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী থাকতে চাইলে অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে বা কম খেতে হবে।

অ্যালকোহল

আপনার শরীর ও পাকস্থলীর জন্য অ্যালকোহল মারাত্মক ক্ষতিকর। আপনার পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থানে এটি থাকতে পারে। জেনে রাখুন, আপনার সবচেয়ে প্রিয় খাবারটি আপনাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খুব নীরবে নীরবে আপনার ক্ষতি করছে।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

অ্যালকোহলে ক্ষতিকর অনেক পদার্থ থাকে যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে ফ্যাটের পরিমাণ সর্বাধিক। বিয়ার, হুইস্কি ইত্যাদি নিয়মিত খেলে আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তাই আজ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য, সুস্থভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য অ্যালকোহলকে ‘না’ বলুন।

আইসক্রিম

বর্তমান পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যার আইসক্রিম পছন্দ না। ছোট বড় সকলেই এটি পছন্দ করে। অনেকে সারা বছর ফ্রিজে আইস্ক্রিম রেখে দেয়। প্রায় প্রতিদিন একটু একটু করে আইস্ক্রিম খায়। আইস্ক্রিম খুব মুখরোচক ও সুস্বাদু খাবার। তবে এতে রয়েছে প্রচুর ফ্যাট। কারণ আইস্ক্রিম তৈরিতে অনেক চিনি ব্যবহার করা হয়। আর চিনি শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

অতিরিক্ত আইস্ক্রিম খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আজ থেকে সচেতন হন। যথাসম্ভব আইসক্রিমকে এড়িয়ে চলুন। নয়ত অল্প দিনেই আপনি মেদবহুল হয়ে যাবেন এবং বুড়িয়ে যাবেন। তাছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস সহ নানাবিধ রোগ হওয়ার ভয় থেকে যাবে।

মিল্কশেক

মিল্কশেক তৈরিতে প্রচুর চিনি দেওয়া হয়। এতে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটও মেশানো হয় স্বাদ বৃদ্ধির জন্য। মিল্কশেক হতে পারে আপনার প্রিয় পানীয়। তবে জানেন কি এই প্রিয় পানীয়টি আপনার শরীরের জন্য হুমকি স্বরুপ? কারণ মিল্কশেক তৈরিতে অনেক কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করা হয় স্বাদ বৃদ্ধির জন্য।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

কৃত্রিম উপাদানের মিশেলে এটি মুখরোচক খাবার হলেও স্বাস্থ্যকর হয় না। তাই রেস্টুরেন্টে কিংবা বাসায় মিল্কশেক পান করা থেকে বিরত থাকুন। বাসায় মিল্কশেক তৈরি করলে অল্প চিনি ও কোনো প্রকার কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার না করে তৈরি করুন। তাহলে খাবারটি স্বাস্থ্যকর হবে।

বেকারির ব্রেড

আপনি কি বেকারির বিভিন্ন শস্যের তৈরি ব্রেডের উপর নির্ভর করেন? তাহলে জেনে রাখুন বেকারিতে যেসকল ব্রেড তৈরি হয় তা স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। এই খাবারগুলোতে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি দেওয়া হয়।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

স্বাদ বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানও দেওয়া হয়। বিভিন্ন শস্যের তৈরি ব্রেড শরীরে রক্তচাপের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরের ক্ষতি করে।

সেদ্ধ শিমের বিচি

যদিও শিমের বিচি স্বাস্থ্যকর খাবার তবুও বেকড বা সেদ্ধ শিমের বিচি স্বাস্থ্যকর নয়। তবে আপনি যদি বাসায় সেদ্ধ করে শিমের বিচি খান তা স্বাস্থ্যকর।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

বাজারে বয়ামে প্রক্রিয়াজাতকৃত যেসব শিমের বিচি পাওয়া যায় সেগুলো স্বাস্থ্যকর নয়। তাই ওগুলো না কেনাই উত্তম।

টিনজাত পণ্য

অনেকে সময় সাশ্রয়ের জন্য টিনজাত খাবার কেনে। তবে জেনে রাখা ভালো, টিনজাত খাবার স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ টিনজাত পণ্যে প্রিজারভেটিভস, লবণ থাকে যা সোডিয়াম বৃদ্ধিতে সহায়ক।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

টিনজাত পণ্য সাধারণ মানুষ, শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই টিনজাত পণ্য এড়িয়ে চলা ভাল।

ডোনাট

ডোনাট অনেকের প্রিয় খাবার। আপনি জানেন কি ডোনাট তৈরিতে কী ব্যবহার করা হয়? ডোনাট তৈরিতে চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, মিহি ময়দা, কার্সিনেজোনিক রাসায়নিক ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

এই উপাদানগুলো ডোনাটের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে। তবে প্রতি একটি ডোনাট খেলে ৩০০ ক্যালরি বৃদ্ধি পায়।

সয়া সস

আপনি হয়তো সয়া সসকে অনেক উপকারী ও স্বাস্থ্যকর ভাবেন। তবে সয়া সস তা নয়। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও কিছু ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে।

ছবিসূত্রঃ foodofy.com

এটি বিভিন্ন মারাত্মক রোগ এমনকি ক্যান্সারের দিকে আপনাকে নিয়ে যেতে পারে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here