মুমিন ফুডস এর হাল্ক বার্গার ও মিল্কশেক!

0
368

আমরা মোটামুটি সবাই বিভিন্ন সুপারহিরোর সাথে পরিচিত। কেউ মার্ভেল কমিক্সের হিরোদের ভক্ত আবার কেউ ডিসি’র। নিরীহ সিনেমাপ্রেমীরা অবশ্য সবার পক্ষে থাকে। কোনো দলাদলিতে তারা নেই। প্রশ্ন হতে পারে, ফুড ব্লগে কেন সিনেমা নিয়ে কথা বলছি? কারণ আজ যে খাবার নিয়ে কথা হবে তার নামকরণটাই করা হয়েছে একজন সুপারহিরোর নামানুসারে! মার্ভেল কমিক্সের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় চরিত্র হাল্ক।

যারা হাল্ককে চিনতেন না সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাভেঞ্জারর্স ইনফিনিটি ওয়ার এর সুবাদে তারাও চিনে গেছেন নিশ্চয়ই? সবুজ রঙের বিশালদেহী এক হিরো হাল্ক! হাল্কের গায়ের রং আর দানবীয় আকৃতিতে মাথায় রেখে ফুডপ্রেমীদের জন্য নতুন বার্গার এনেছে মুমিন ফুডস। নাম আর বার্গার বানে সবুজ রং দেখে আমার প্রচণ্ড কৌতূহল হলো। লেখালেখি নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও সময় বের করে কৌতূহল মেটাতে একাই চলে গেলাম উত্তরায়।

জায়গাটা যেমন

খাবারের প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বরাবরের মতো এবারও আমি জায়গার ব্যাপারে কিছু তথ্য জানাব। মুমিন ফুডস যে পরিমাণ স্পেস নিয়ে গড়ে উঠেছে, সেটাকে খুব বড় না বলা গেলেও মাঝারি বলা চলে। সুন্দর, সাজানো, গোছানো ভেতরের ইনটেরিয়র। পুরো দেয়াল জুড়ে রং-বেরঙের প্রজাপতি দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।

মুমিন ফুডস-এর দৃষ্টিনন্দন ইনটেরিয়োরের একাংশ; সোর্স: সাঈম শামস্

সেই সাথে বাহারি রঙের আলোকসজ্জার উপস্থিতি অন্দরে যোগ করেছে বাড়তি সৌন্দর্য। গ্রাহকরা যেন আয়েশ করে পছন্দের খাবার গ্রহণ করতে পারে সেজন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। হাত-মুখ ধোয়ার জন্য তিনটি বেসিনও রয়েছে বাম পাশের ভেতরের অংশে। সবমিলিয়ে মুমিন ফুডস-এর ভেতরের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা বেশ প্রশংসনীয়।

খাবার ও তার স্বাদ

এখানকার প্রতিটি টেবিলেই মেনু কার্ড রাখা আছে। তাতে চোখ বুলিয়ে নিজের জন্য একটা হাল্ক বার্গার আর এক গ্লাস ভ্যানিলা ফ্লেভারড মিল্কশেক অর্ডার করলাম। উত্তরার অধিকাংশ ফুডশপের মতো মুমিন ফুডস-এও ‘পে ফার্স্ট’ ও ‘সেলফ সার্ভিস’ সিস্টেম। অর্থাৎ, অর্ডার করার সময়ই আপনাকে কাউন্টারে গিয়ে পুরো পেমেন্ট করতে হবে। পেমেন্ট করার পর ওরা আপনাকে একটা টোকেন কার্ড দেবে। আপনার খাবার রেডি হলে টোকেনে থাকা নাম্বার ঘোষণা করবে কাউন্টার থেকে। নিজের নাম্বারের ডাক পড়লে তখন আপনাকে কাউন্টারে গিয়ে খাবার নিয়ে আসতে হয়। খাবার আনা নেওয়া ও অর্ডার নেওয়ার জন্য কোনো ওয়েটার নেই।

যা হোক, প্রায় ২০ মিনিট পর আমার নাম্বারটা কাউন্টার থেকে ঘোষণা করা হলো। দ্রুত গিয়ে খাবারের ট্রে টেবিলে নিয়ে এলাম। তারপর ওদের বেসিনে গিয়ে ভাল করে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে এলাম। লক্ষ্য করেছি, অনেকেই তাড়াহুড়ো বশতঃ এসব জায়গায় হাত না ধুয়েই খেতে শুরু করে দেন। যেটা খুবই অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা একটি অভ্যাস।

বার্গারটাকে বেশ বড়সড় একটি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে দিয়েছে। হাত দিয়ে দেখলাম, বেশ গরম। ধীরে ধীরে পেপারটা ছাড়িয়ে নিলাম বার্গারের গা থেকে। উন্মোচিত হলো মহা আরাধ্য হাল্ক বার্গার! নামের সাথে বার্গারটার চেহারার দারুণ মিল। আমি ভেতরে ভেতরে একধরনের উত্তেজনা অনুভব করতে শুরু করলাম। খুব আগ্রহ নিয়ে কোনো খাবারের জন্য অপেক্ষা করার পর, সেই খাবারটা যখন চোখের সামনে হাজির হয়ে যায় তখন এধরনের উত্তেজনা মনে হয় সব ভোজনরসিকই অনুভব করে থাকেন!

হাল্ক বার্গার; সোর্স: সাঈম শামস্

উত্তেজনার লাগাম টানার জন্য মিল্কশেকে একটি চুমুক দিলাম। শেকটা খেতে কেমন সেটা পরে বলব। এখন বার্গার মুখে দেওয়ার পালা। দুই হাত দিয়ে সবুজ রঙের বানের উপরে নিচে চাপ দিয়ে ধরে হাল্কের গায়ে কামড় বসিয়ে দিলাম। ২৫০ গ্রাম চিকেন, মাশরুম, বিফ হাম, মেয়োনিজ, স্লাইসড চিজ, স্লাইসড টমোটো, পেঁয়াজ ও লেটুশ সমৃদ্ধ বিশালাকার বার্গারটার স্বাদ পেল আমার লোভাতুর জিহ্বা।

দারুণ! কোনো দিক না তাকিয়ে পরপর আরও কয়েকটা কামড় দিলাম হাল্কের গায়ে! চিকেনটা খুব সুস্বাদু হয়েছে। চিজ আর মেয়োনিজের পরিমাণটা একদম ঠিকঠাক। হাতে লেগে-মেখে বিশ্রী হয়ে যাওয়ার মতো নয়। তবে ঝালটা ঠিক মন মতো হলো না। অর্ডার দেয়ার সময় স্পাইসি ফ্লেভার নিয়েছি। তারপরও এই অবস্থা! এক্সট্রা স্পাইসি নেয়া উচিত ছিল। তাহলে স্বাদটা ঠিকঠাক পেতাম।

মিল্কশেক ও হাল্ক বার্গার; সোর্স: সাঈম শামস্

বার্গার খেতে খেতে গলা শুকিয়ে আসতেই মিল্কশেকের কথা মনে পড়ে গেল। বড় করে চুমুক দিলাম। স্বাদ মন্দ নয়। তবে আরও ভাল হবে বলে আশা করেছিলাম। গ্লাসের তুলনায় বাড়াবাড়ি রকমের বড় সাইজের বরফের কয়েকটা টুকরো শেকের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখাটাকে নিম্নমানের কৌশল বলে মনে হয়েছে।

দরদাম

খাওয়া-দাওয়া হলো শেষ এবার বিলের ব্যাপারে আসা যাক।

হাল্ক বার্গার = ৩০০ টাকা

মিল্কশেক (ভ্যানিলা) = ৭০ টাকা

মোট খরচার পরিমাণ ৩৭০ টাকা। 

রেটিং রঙ্গ

মূল্য ও স্বাদ বিবেচনা করে রেটিং দিচ্ছি।

হাল্ক বার্গার: ৭/১০

মিল্কশেক (ভ্যানিলা): ৫/১০

পরিবেশ: ৯/১০

সার্ভিস: ৭/১০

ঠিকানা ঠাওর

মুমিন ফুডস-এ যেতে হলে আপনাকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের হাউজবিল্ডিং বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে মাসকট প্লাজার ঠিক বিপরীত পাশের গলি ধরে ১ মিনিট এগোলেই মুমিন ফুডস-এর দেখা পাবেন। রিকশায় চড়ার কোনো ঝক্কি নেই।

রাস্তা থেকে মুমিন ফুডস-এ প্রবেশপথ; সোর্স: সাঈম শামস্

মুমিন ফুডস সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে সাপ্তাহিক কোনো বন্ধ নেই। তাই সপ্তাহের যেকোনো দিন নিশ্চিন্তে চলে আসতে পারেন।

এই নাম্বারে (০১৭৬৩-৯৯৭০৯৭) কল দিয়ে সিট/স্পেস বুকিং করতে পারবেন যদি আপনার কোনো বড় আয়োজন পরিকল্পনায় থাকে। আপনাদের সুবিধার্থে পূর্ণাঙ্গ অফিসিয়াল ঠিকানাটা দিচ্ছি:

মুমিন ফুডস, হাউজ-৮, রোড: ১/বি সেক্টর-৯, উত্তরা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here