যেসব স্বাস্থ্যকর খাবার জাঙ্ক ফুডের চেয়েও সুস্বাদু

0
1986

অনেকে মনে করেন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে সুস্বাদু নয়। স্বাস্থ্যকর খাবারের চেয়ে জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড বেশি সুস্বাদু। তবে তা একেবারে সত্যি নয়। জাঙ্ক ফুডের চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারও সুস্বাদু। স্বাস্থ্যকর খাবার স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী, খেতেও মজাদার। কিন্তু জাঙ্ক ফুড খেতে মজাদার হলেও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। স্বাস্থ্যকর খাবার আপনাকে শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে ভালো রাখবে। এসব খাবার ওজন কমায়, হার্ট ভালো রাখে, ত্বক মসৃণ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এমনকি চুলেরও উপকার করে। পক্ষান্তরে জাঙ্ক ফুড ও ফাস্ট ফুড শরীরের নানাবিধ ক্ষতিসাধন করে। নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে জেনে নিন সেসব স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে যেগুলো জাঙ্ক ফুডের চেয়েও সুস্বাদু।

স্ট্রবেরি

স্ট্রবেরি একটি রসালো ফল। এর স্বাদ অতুলনীয়। এর রঙ ও গন্ধ অসম্ভব সুন্দর। স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, পটাশিয়াম। এছাড়া এতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। এক কাপ স্ট্রবেরিতে রয়েছে ৩ গ্রাম ফাইবার ও ৪৬ ক্যালরি। রোজ স্ট্রবেরি খেলে হার্ট ভালো থাকে, নার্ভ সিস্টেম ভালো থাকে, ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

Photo: Organic Facts

প্রায় সব বয়সী মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয় ফল। নিঃসন্দেহে এই ফলটি জাঙ্ক ফুডের চেয়ে শতগুণে ভালো। এর স্বাদও জাঙ্ক ফুডের চেয়ে ভালো। তাই রোজ স্ট্রবেরি খেতে পারেন। তাহলে আপনি সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান থাকতে পারবেন।

ব্লুবেরি

ব্লুবেরি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং এতে রয়েছে নানা প্রয়োজনীয় উপাদান। এক কাপ ব্লুবেরিতে ৮৪ ক্যালরি, ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে। এতে ভিটামিন সি, কে, ম্যাঙ্গানিজ ছাড়াও আরো অনেক ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ব্লুবেরিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে।

Photo: Organic Facts

এটি অক্সিডেটিভ ড্যামেজ, ক্রোনিক ডিজিস এবং স্মৃতিশক্তি নাশের মতো সমস্যার সমাধান করে থাকে। এটি তাজা খাওয়া যায়। ফ্রিজে রেখেও খাওয়া যায়। এটি দই কিংবা ক্রিমের সাথে মিশিয়ে খেলে খুব মজা লাগবে।

ডার্ক চকোলেট

অনেক গবেষণা থেকে জানা যায় ডার্ক চকোলেট স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং এটি বিভিন্ন রোগের নিরাময় করে থাকে। ডার্ক চকোলেটে অধিক ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এছাড়াও মিনারেল, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ থাকে।

Photo: Caragh Chocolates

এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, হার্টের নানাবিধ সমস্যা দূর করতে, মস্তিষ্কের ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে, ত্বককে ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। জাঙ্ক ফুডের চেয়ে ডার্ক চকোলেট খুব সুস্বাদু। বিশেষ করে কফির সাথে এক পিস চকোলেট খেতে দারুণ লাগে।

আলমন্ড

আলমন্ড খুব উপকারী খাবার। এটি খুব পুষ্টিকর এবং হার্টের জন্য উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়াও এতে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস যেমন ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি।

Photo: Best Health Magazine

আলমন্ডে রয়েছে রক্তচাপ ও কোলেস্টরেল কমানোর ক্ষমতা। এক গবেষণা থেকে জানা যায় এতে উচ্চ চর্বি ও ফ্যাট থাকা সত্ত্বেও এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

চেরি

দেখতে সুন্দর ও লাল রঙের চেরিগুলো খেতে সুস্বাদু। স্বাস্থ্যকর নাস্তা খেতে চাইলে চেরিকে প্রাধান্য দিতে পারেন। চেরিতে অল্প পরিমাণের ক্যালরি থাকলেও এতে রয়েছে উচ্চ পুষ্টিগুণ, ফাইবার, ভিটামিন সি।

Photo: huffingtonpost.ca

এতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। চেরিতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে, হার্টের সমস্যা দূরীকরণে, টাইপ দুই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এবং স্মৃতিনাশক অ্যালঝেইমার্স দূরীকরণে সাহায্য করে।

আম

আম অত্যন্ত সুস্বাদু ফল। পাকা ও কাঁচা দুই প্রকারের আম বেশ সুস্বাদু। এতে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি। এতে ক্যালরি তুলনামূলক কম পরিমাণে থাকে এবং গ্লাইসেমিক সূচকগুলো নিম্ন থেকে মধ্যম পর্যায়ে ওঠানামা করে যার ফলে আম খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

Photo: Deccan Chronicle

আমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া ক্যান্সার প্রতিরোধেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আম খেতে দারুণ মজা। পাকা ও কাঁচা দুই প্রকারের আম দিয়ে নানা রেসিপি তৈরি করা যায়।

চিজ

চিজ সুস্বাদু খাবারের মধ্যে অন্যতম। এর পুষ্টিগুণ অনেক। এতে রয়েছে ভিটামিন ও মিনারেলস যেমন ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২, ফসফরাস, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক। চিজ এবং অন্যান্য দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার হাড়ের উন্নতি করে, হাড়ের ক্ষয়রোধ করে, হাড় ভেঙ্গে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। চিজ বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। তবে সব চিজেই ফ্যাট ও ক্যালরি থাকে। চিজে উচ্চ প্রোটিন থাকে। উচ্চ প্রোটিন উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং মিনারেলস গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়। এতে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিডও রয়েছে। ফ্যাটি এসিড স্বাস্থ্যের নানাবিধ উপকার করে। এটি অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

পপকর্ন

অনেকেই জানে না পপকর্ন পুরোটাই শস্য জাতীয়। এতে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে এবং ফাইবার তথা আঁশ বেশি থাকে। পুরো শস্য স্বাস্থ্যের নানা উপকার করে। এটি হজমে সাহায্য করে, হার্টের ঝুঁকি কমায়, টাইপ দুই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। ওজন কমাতেও শস্য দারুণ কার্যকর।

Photo: Simply Recipes

তবে হ্যাঁ, আপনি অবশ্যই অস্বাস্থ্যকর পপকর্ন এড়িয়ে চলবেন। কারণ ঐসব পপকর্ণ পরিশোধিত তেলের সমন্বয়ে ভাজা হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হবে যদি আপনি বাসায় অল্প লবণ, ডার্ক চকোলেট, বাটার দিয়ে পপকর্ন ভেজে নেন।

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু খেতে সুস্বাদু, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং আঁশবহুল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। এছাড়াও ভিটামিন সি, অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেলস অল্প পরিমাণে রয়েছে। মিষ্টি আলুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ করে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, অক্সিডেটিভ ড্যামেজ দূর করে। মিষ্টি আলু কেউ কেউ কাঁচা খেয়ে থাকে। তবে সিদ্ধ আলু এবং পোড়া আলু খেতেও বেশ মজাদার।

তরমুজ

তরমুজ খুব পুষ্টিকর খাবার। গ্রীষ্মকালীন খাবারের মধ্যে এটি অন্যতম। এতে অল্প ক্যালরি রয়েছে। তবে এর পুষ্টিগুণ অনেক।

 

Photo: Well-Being Secrets

তরমুজ এবং তরমুজের জুস নিম্ন রক্তচাপ রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। গরমে তরমুজ খেলে স্বস্তি পাওয়া যায়। এটি শরীরে পানিন পরিমাণ বাড়ায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here