শ্রীমঙ্গলের শান্তিবাড়ি রিসোর্টে খাবারের বাঙালিয়ানা

0
816

ঈদ মানেই বেশি বেশি খুশি, আনন্দ আর ঘুরে বেড়ানো। আর ঘুরতে গেলেই দরকার হয় ভালো ভালো খাবার। অনেকে বেড়াতে গেলে ঐতিহ্যবাহী খাবার খুঁজে বেড়ান৷ কেমন হয়, যদি একই সাথে চমৎকার ভ্রমণস্থান এবং বাঙালির চিরচরিত পছন্দসই খাবারের সন্ধান পাওয়া যায়? নিশ্চয়ই সেটা এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো ব্যাপার? আজ সেরকম একটা জায়গার বর্ণনাই করব।

শান্তিবাড়ি রিসোর্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য; Image source : মাদিহা মৌ

প্রকাশনা সংস্থা ভূমি প্রকাশের সাথে আমাদের এই বছরের আনন্দ ভ্রমণের শেষ দিনের দুপুরের খাবার আর বিকেলটা কাটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শ্রীমঙ্গলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত রিসোর্ট শান্তিবাড়িতে।

ইকো রিসোর্টগুলো যদি শহর ছেড়ে একটু ভেতরের দিকে না হয়, তবে প্রকৃতির সাহচর্য উপভোগ করা যায় না। তাই শান্তিবাড়ি রিসোর্টটি মূল সড়ক থেকে খানিকটা ভিতরে। মূল সড়ক থেকে সরু একটা মেঠোপথকে ধরেই এগিয়ে যেতে হবে শান্তিবাড়ি রিসোর্টের দিকে।

টাকি মাছের ভর্তা; Image source : মাদিহা মৌ

হরেকরঙা চন্দ্রমল্লিকা, কলাবতী, সূর্যমুখী, কুঞ্জলতা, কাঠমালতি আর লিলির বিভিন্ন প্রজাতির অপূর্ব সুন্দর ফুলে ফুলে ভরে থাকা উঠোন, একধারে সবুজ টিলা, মাঁচার উপর ছন, টিন বাঁশ বেড়া দিয়ে সাজানো একটা কটেজ, কাঠের দোতলা বাড়ি আর অন্যধারে পুকুর।

এমনই একটা স্বপ্নময় পরিবেশে বসে বাংলা খাবার খেতে কেমন লাগবে, একবার কল্পনা করুন। কী? স্বপ্নময় একটা আবহ চলে এসেছে না? হ্যাঁ, আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো, মেঘলা দিনে এমন একটা পরিবেশে দুপুরের খাবার খাওয়ার। সত্যি বলছি, সাধারণ বাঙালি ঘরের মেয়ে হয়েও এরকম পরিবেশে সাধারণ বাংলা খাবার খেয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, অমৃত।

লালশাক; Image source : মাদিহা মৌ

আমরা মূলত দুপুরের খাবার খেতেই এসেছি এখানে। দুপুরের খাবার তৈরি হতেই ডাক পড়লো সবার। ব্যুফে সিস্টেমে খাবারের পসরা সাজিয়ে রেখেছে পুকুরের ধারে এক টেবিলে। তার সামনেই খোলা আকাশের নিচে টেবিল চেয়ার পেতে খাবারের ব্যবস্থা। অবশ্য একটা ছাউনি আছে খাবার ঘর হিসেবে। আমাদের লোকজন বেশি বলে ওতে সবার জায়গা হলো না। তাই অনেকে ইচ্ছে করেই বসলেন বাইরের টেবিলগুলোতে।

কালবাউস মাছের ঝোল; Image source : মাদিহা মৌ

খাবারের মেন্যুতে আছে আলুভর্তা, মাছভর্তা, লাল শাক, সালাদ, বিশাল আকৃতির কালবাউসের ঝোল আর দেশি মুরগি। ব্যুফে প্যাকেজে ভাত ডাল আলুভর্তা, মাছভর্তা, লাল শাকের সাথে হয় মাছ নিতে পারবে, নয়তো মুরগি। আমরা বেশিরভাগই মাছ দিয়ে খেয়েছি। কারণ আমরা সকালেই শুনেছিলাম, পুকুর থেকে তাজা কালবাউস তোলা হয়েছে।

বড় আর তাজা মাছ ভাজার স্বাদই আলাদা। তাই মাছের লোভ কেউ সামলাতে পারেনি। দুপুরের এই প্যাকেজের দাম সাড়ে তিনশ’ টাকা। খাবারের দাম একটু বেশি মনে হলেও সবকিছুর বিচারে এই দাম মেনে নেওয়া যায়। এদের রান্না খুবই দারুণ। সবাই খুব তৃপ্তি নিয়ে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি খেয়েছে। তবে এখানে যে পরিবেশ একটা বড় ভূমিকা পালন করেছে, তা বলাই বাহুল্য।

আলুভর্তা; Image source : মাদিহা মৌ

সবার খাওয়া শেষ হতেই আমাদের তন্নি কলাপাতায় করে নিয়ে এলে টক ঝাল কাঁচা আমের ভর্তা। সবাই কাড়াকাড়ি করে খেয়ে শেষ। এতো সুস্বাদু হয়েছিলো যে স্বাদটা জিভে লেগে আছে। সে এসেই কাঁচা আম দিয়ে ভর্তা বানানোর কাজে লেগে পড়েছিলো। এখানে আপনি নিজের মতো করে ইচ্ছেমতো তৈরি করে নিতে পারবেন এরকম কোনো টক ঝাল কিংবা মিষ্টি কোনো পদ।

খরচ

শান্তিবাড়ি রিসোর্টে দুপুরের বাঙালিয়ানা খানারের এই প্যাকেজের দাম ৩৫০ টাকা। এই প্যাকেজে আপনি চাইলেই আপনার ইচ্ছেমতো আরো আইটেম যোগ করতে পারবেন, কোনো পদ অপছন্দ হলে তা চাইলেই বাদ দিতে পারবেন। মানে এখানে আপনি আপনার ইচ্ছেমতো মেনু সাজাতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে আগে থেকে ফোন করে জানাতে হবে, মেন্যুতে আপনি কী কী চান।

চাইলেই আপনি আপনার সেট মেন্যুতে কী কী বাঙালি খাবার চান, তা নির্ধারণ করতে পারবেন; Image source : শান্তিবাড়ি রিসোর্ট

শান্তিবাড়ি থেকে পাহাড়ে ট্রেকিং করে লাউয়াছড়া আর মাধবপুর লেক যাওয়া যায়। তাদের একটা প্যাকেজ আছে ৫৫০০ টাকার, যেখানে দুই দিনের ভ্রমণে থাকা, খাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা তো থাকবেই। সেই সাথে লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেক, মণিপুরি পাড়া, সাত লেয়ারের চায়ের দোকান ঘুরিয়ে আনা হবে। প্যাকেজ অনুসারে প্রথমে এলেই তাজা লেবুর শরবত দিয়ে আতিথেয়তা শুরু করা হবে। প্রত্যেক বেলার খাবার, বিকেলের চা থাকবে। আর দ্বিতীয় রাতে থাকবে বার্বিকিউ ডিনার।

নিজেরাই তৈরি করতে পারবেন এমন আনন্দঘন মুহূর্তে; Image source : মাদিহা মৌ

শান্তিবাড়ির এই বিশেষ প্যাকেজটি না নিয়েও এখানে থাকা যাবে। সেক্ষেত্রে খরচের হিসেব আলাদা। তখন চাইলে নিজেরাই রাতে বারবিকিউ করা যাবে। কাঠের বাড়িতে প্রতি কক্ষের ভাড়া তিন হাজার এবং বাঁশের কটেজের রুম ভাড়া দুই হাজার টাকা। যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে ০১৭১৬-১৮৯২৮৮.

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে যাওয়া যায় শ্রীমঙ্গল। তবে বাসে যদি যান, রাস্তা ফাঁকা থাকলে ট্রেনের আগেই পৌঁছাবেন। হানিফ, ইউনিক, রূপসী বাংলাসহ বিভিন্ন বাস রয়েছে আরামবাগ, মহাখালী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। সিলেট মেইল অথবা উপবনে করেও যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে শ্রীমঙ্গলে। ট্রেনে ভাড়া ৩০০-৩৫০ (স্নিগ্ধা), ২৭০ (শোভন চেয়ার), ২০০ (সুলভ)। বাসের ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকা।

নিজেদের বানানো আম ভর্তা; Image source : তণ্বী

শ্রীমঙ্গল এসে, সিএনজি রিজার্ভ করে শান্তিবাড়ি রিসোর্ট যাওয়া যাবে। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে বললে তারা শ্রীমঙ্গল থেকে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এমনকি কেউ প্যাকেজে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে ট্রেনে/বাসে নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে কর্তৃপক্ষ।

Feature Image : shantibari resorts

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here