সর্বাধিক জনপ্রিয় ও মজাদার ১০টি এরাবিয়ান খাবার

0
1028

ভোজন রসিকদের নিকট এরাবিয়ান ফুডের রয়েছে বিশেষ কদর। সারা বিশ্বেই এরাবিয়ান ফুডের সুনাম রয়েছে। এরাবিয়ান ফুড খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি দেখতেও চমৎকার। এরাবিয়ান ফুডের এমন জনপ্রিয়তা থাকার কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠেছে এরাবিয়ান রেস্টুরেন্ট। আমাদের আজকের আয়োজনে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও মজাদার ১০টি এরাবিয়ান ফুডের বর্ণনা করা হলো।

১.হুমুস

আরব বিশ্বের প্রতিটি দেশে হুমুস সুস্বাদু ও জনপ্রিয় একটি খাবারের নাম। জলপাইয়ের তেল, লেবুর রস, লবণ, রসুন, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, বাদাম, মটরশুঁটি এবং মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি করা হয় হুমুস।

হুমুস; Source: dreamstime.com

মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে হুমুস জনপ্রিয়। উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের প্রায় প্রতিটি মুদি দোকানে হুমুস কিনতে পাওয়া যায়। প্রাচীন মিশরীয় সময় (আনুমানিক ১৩শ শতাব্দী) থেকে হুমুস আরবের বিখ্যাত একটি খাবার হিসেবে পরিচিত।

২. ম্যানাকিশ

ম্যানাকিশ আরবের জনপ্রিয় একটি লেভ্যান্টিন খাদ্য যা থেরাম, পনির, ভেড়া বা খাসির মাংস এবং ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয়। ম্যানাকিশ দেখতে অনেকটা পিৎজার মতো এবং পিৎজার মতো করেই ম্যানাকিশ পরিবেশন করা হয়ে থাকে।

ম্যানাকিশ; Source: cnn.com

সাধারণত ব্রেকফাস্ট এবং লাঞ্চে আরবে এই খাবারের প্রচলন রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে আরবের মহিলারা তাদের পরিবারের জন্য সকালের নাস্তা বা রুটির সাথে ম্যানাকিশ পরিবেশন করে থাকে এবং বিকালের নাস্তা বা অন্যান্য খাবারের সাথেও আরবের গৃহিণীরা ম্যানাকিশের আয়োজন করে থাকে।

৩. তাহিনি

তাহিনি তিলের বীজ থেকে তৈরি এক প্রকার মসলা বা সস জাতীয় খাবার। হুমুস তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে তাহিনি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি আরব ছাড়াও আফ্রিকা এবং চীনে রন্ধন প্রণালিতে ব্যপকভাবে ব্যবহার করা হয়। অনেক দেশে তাহিনিকে, তাহিনি সস বলা হয়।

তাহিনি; Source: oukosher.org

কেননা সকল প্রকার খাবারের সাথে সসের মতো করে তাহিনি খাওয়া হয় এবং খেতে খুবই সুস্বাদু এই সস। আরবের বিভিন্ন রেস্তরায় তাহিনীর পাত্রে অলিভ অয়েল মিশিয়ে, বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি এবং সালাদ দিয়ে তাহিনি পরিবেশন করা হয়।

৪. ফুল মিদ্দামাস

আরবের অন্যতম প্রাচীন ও বিখ্যাত খাবার ফুল মিদ্দামাস, যা উদ্ভিজ্জ তেল, জিরা, চটকানো পেসলে, রসুন, পেঁয়াজ, লেবুর রস, কাঁচা মরিচ এবং অন্যান্য উদ্ভিজ্জ, শাক ও মশলা দিয়ে ফোয়া মটরশুঁটির সাথে মিশিয়ে রান্না করে ডিশে পরিবেশন করা হয়। আরবের অন্যতম বিখ্যাত ডিশ হিসেবেও ফুল মিদ্দামাস সুপরিচিত।

ফুল মিদ্দামাস; Source: seriouseats.com

এটি বিশেষ করে মিশরের একটি প্রধান খাদ্য, বিশেষ করে কায়রো ও গিজার উত্তর শহরগুলির মধ্যে। আরব, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান সংস্কৃতির বেশিরভাগ অংশই যেমন লেবানন, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, প্যালেস্টাইন, জর্ডান, ইজরায়েল, ইথিওপিয়া, সুদান, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং সৌদি আরবের খাবারের একটি সাধারণ অংশ ফুল মিদ্দামাস।

৫. ফালাফেল

ফালাফেল মটরশুঁটি ও মাংসের কিমা দিয়ে তৈরী তেলে ভাজা বলের মতো গোলাকার দেখতে এক প্রকার খাবার। এই খাবারের প্রচলন প্রাচীন মিশরীয় সময় থেকে। আরবসহ সারা বিশ্বেই ফালাফেল ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

ফালাফেল; Source: vegetariantimes.com

রুটির ভেতরে ফালাফেল ভরে এবং তার সাথে বিভিন্ন সালাদ, গরম সস, তাহিনি মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। তখন দেখতে অনেকটা স্যান্ডউইচের মতো মনে হয়।

ফালাফেল; Source: vegetariantimes.com

মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র ফালাফেল পাওয়া যায়, রাস্তায় বসা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতেও ফালাফেল বিক্রি করা হয়। এমনকি আরবের বিখ্যাত সব স্ট্রিট ফুডের তালিকার মধ্যে ফালাফেল অন্যতম।

৬. তাব্বাউলেহ

তাব্বাউলেহ এক প্রকার নিরামিশ সালাদ, যা টমেটো, পুদিনা পাতা, পেঁয়াজ, বেলগুর (ফাটল গম), জলপাই তেল, লেবুর রস, লবণ, কাঁচামরিচ, রসুন, লেটুস পাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। এই সালাদ বাটিতে করে পরিবেশন করা হয় এবং এটি খেতে খুবই সুস্বাদু। এছাড়াও বার্গারসহ বিভিন্ন খাবার পরিবেশনে তাব্বাউলেহ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তাব্বাউলেহ; Source: vitamedica.com

ঐতিহ্যগতভাবে তাব্বাউলেহ আরব বিশ্বের লেবানন, আর্মেনিয়ান, ইসরায়েল, ইহুদি, ফিলিস্তিন ও তুর্কিতে ব্যাপক জনপ্রিয় একটি খাবার। বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্রমেই এই বিশেষ ধরনের সালাদের জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে।

৭. পিটা ব্রেড

এটি আরবীয় রুটি, লেবাননের রুটি বা সিরিয়ান রুটি নামেও পরিচিতনরম, সামান্য লেবিনযুক্ত গমের ময়দা থেকে তৈরি হয় পিটা ব্রেড। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইরানে এই ব্রেড খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার।

পিটা ব্রেড; Source: cnn.com

পিৎজার মতো করে কেটে বিভিন্ন শাকসবজি, সালাদ, কাবাব বা ভুনা মাংসের সাথে পিটা ব্রেড পরিবেশন করা হয়ে থাকে। আরব ছাড়াও বর্তমানে সারা বিশ্বে পিটা ব্রেডের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

৮. বাকলভা

বাকলভা একটি সমৃদ্ধ মিষ্টি ডেজার্ট প্যাস্ট্রি, যা  চর্বিযুক্ত বাদাম, বিভিন্ন মিষ্টান্ন, চিনির সিরাপ বা মধু দিয়ে বানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাকলভা বেশ জনপ্রিয়। প্রাচীন অটোম্যান সাম্রাজ্যের সময়কাল থেকে বাকলভা জনপ্রিয় একটি খাবার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাকলভার স্বাদ ও উপকরণের ভিন্নতা রয়েছে।

বাকলভা ; Source: tureckie-sladosti.com

যেমন তুরস্কে, পিস্তাক, আখরোট, বাদাম, দুধের মধ্যে মিশিয়ে বাকলভা তৈরি করা হয়। গ্রীসে, বাকলভা ৩৩টি ময়দার স্তর দিয়ে তৈরি করা হয়, যা খ্রিস্টের জীবনের কথা উল্লেখ করে। আজারবাইজানে, আজারবাইজানি পাখলাকে আখরোট বা বাদাম দিয়ে তৈরি করা হয়। আর্মেনিয়াতে, পাখলা হলো দারুচিনি ও কুমড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান, ইরাক, মিশর, ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনে, বাকলভা ফালো শিট, মাখন, আখরোট এবং চিনির সিরাপ থেকে তৈরি করা হয়।

৯. ফাত্তুস

এরাবিয়ান রুটির টুকরার সাথে মৌসুমী বিভিন্ন শাকসবজি এবং সুস্বাদু সালাদ মিক্সড করে তৈরী করা হয় ফাত্তুস, যা খেতে খুবই সুস্বাদু। আরব বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে ফাত্তুস অন্যতম।

ফাত্তুস; Source: bonappetit.com

ফাত্তুস ডিশ বা থালায় করে পরিবেশন করা হয়, এজন্য এটিকে এরাবিয়ান ডিশ খাবারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মৌসুমী বিভিন্ন শাকসবজি ব্যবহারের কারণে মৌসুম অনুযায়ী ফাত্তুসের স্বাদের ভিন্নতা থাকে।

১০. শর্মা

কচি ভেড়ার মাংস, মুরগির মাংস, গরুর মাংস অথবা বিভন্ন ধরনের মাংস দিয়ে তৈরি করা হয় শর্মা। শুধু আরবেই নয়, ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শর্মা গ্রিল বেশ জনপ্রিয়। বিশ্বের প্রায় সকল এরাবিয়ান রেস্তোরায় শর্মা পাওয়া যায়।

শর্মা; Source: thegentlechef.com

মাংসে বিভিন্ন প্রকার মসলা দিয়ে উলম্বভাবে ঝুলিয়ে রেখে রেস্টুরেন্টগুলো দীর্ঘ সময় ধরে শর্মা গ্রিল প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে গ্রিল থেকে কেটে কেটে নিয়ে থালায় ঢেলে বিভিন্ন সুস্বাদু সস ও সালাদ দিয়ে পরিবেশন করা হয় শর্মা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here