সি মাইনর ক্যাফের অসাধারণ লঞ্চিং প্ল্যাটার

0
459

৯ দিনের ছুটিতে পুরো ঢাকাকে জনশূণ্য করে ঢাকাবাসী যখন দেশের নানা প্রান্তে ছুটি কাটাতে চলে গিয়েছিলো, আমি তখনও ঢাকাতেই  ছিলাম। ভাবলাম এই সুযোগে আমি কয়েকটা নতুন নতুন জায়গায় খেয়ে নিতে পারি। এই ভেবে আমি বেশ কয়েকটা জায়গাতে যাবার জন্য মনস্থির করি। তার মধ্যে একটা ছিলো সি মাইনর ক্যাফে। এই ক্যাফের দুইটা লঞ্চিং প্ল্যাটারের অফার আমি অনেক আগে দেখে আমার পরিচিত সবাইকে বলি, যাদের বাসা ধানমন্ডি এলাকার কাছাকাছি। কিন্তু আমি যেতে পারছিলাম না অনেক দূরে হবার কারণে। ভাবলাম এই তো পাওয়া গেছে সুযোগ। এটাই উৎকৃষ্ট সময়, রাস্তা ফাঁকা থাকবে। কিন্তু কিসের কি!

শনিবার আমি ১ টার দিকে বনানী থেকে জিগাতলার দিকে রওনা হই। রাস্তায় এত জ্যাম কি আর বলবো। যাই হোক, ক্ষুদপিপাসায় কাতর আমি ২.৩০ টা নাগাদ জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড এ পৌঁছাই। যে বিল্ডিং এ সি মাইনর, সেই বিল্ডিং এ আরো অনেক অনেক দোকান। লিফটের সামনে লম্বা লাইন। বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর লিফটে উঠতে পারলাম।

দোকানের ভিতরে ঢোকার সাথে সাথে অসংখ্য মানুষের বিক্ষিপ্ত কথার আওয়াজ কানে এসে ধাক্কা দিলো। কোথায় বসার জায়গাও খালি নেই। আমার এত মন খারাপ হলো, যা বলার নয়। সৌভাগ্যবশত তখনই একটা গ্রুপ বিদায় নিলো। আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে তাদের যায়গা দখল করলাম।

আমরা ৪ জন ছিলাম। অর্ডার করলাম সেট মেন্যু ১। যেটাতে অ্যাপেটাইজার হিসেবে আছে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, অন্থন, বারবিকিউ চিকেন উইংস। মেইন কোর্স হিসেবে আছে ফ্রায়েড রাইস, বারবিকিউ চিকেন, বিফ ভুনা আর চিংড়ির মালাইকারি। ডেজার্ট হিসেবে ছিলো আইস্ক্রিম আর সাথে ছিলো ২টি ৫০০ মিলি মাম পানি।

ছবিঃ প্ল্যাটার ১

আমি ভেবেছিলাম আচ্ছা দেখা যাবে, সব নিশ্চয়ই কম কম দিবে অনেক। নাহলে এত খাবার কিভাবে এত কম দামে। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে সব কিছুই যতটুকু দিবে বলে এড এ বলা ছিলো, ওভাবেই দিলো।

প্রথমেই বলি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এর কথা। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইগুলো খেতে সাধারণ ছিলো খুবই। আর ৪ জন মিলে খেয়েছি বলে একেকজনের জন্য খুব বেশি করে ছিলো না। কিন্তু উইংস আর অন্থন ছিলো ৪টি করে। বারবিকিউ সস দিয়ে পরিবেশন করা উইংসটা খেতে খুব ভালো লেগেছে। খারাপ লাগেনি অন্থন্টাও।

ছবিঃ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই

অ্যাপেটাইজার খেয়ে শেষ করতে না করতেই দিয়ে গেলো মেইন কোর্সগুলো। রাইসটা আমার কাছে একটু বেশি প্লেইন লেগেছে। আরেকটু এগ, চিকেন, শ্রিম্প অথবা নিদেনপক্ষে ভেজিটেবল থাকা উচিত ছিল হয়তো। অথবা লবণ কম বেশির কারণে এমন লেগেছে খেতে। রাইস পরিমাণে এত বেশি ছিলো যে বলার নয়। আমরা ৪ জনই পেটুক শ্রেণির। তাও রাইস খেয়ে শেষ করতে কষ্ট হয়েছে বেশ।

ছবিঃ ফ্রাইড রাইস

বারবিকিউ চিকেনগুলো একেকটা ছিলো বিশাল বিশাল সাইজের। খেতে মজা, কিন্তু স্পাইসি (ঝাল) অনেক।

ছবিঃ স্পাইসি বারবিকিউ চিকেন

চিংড়িটা খেতে আমার ভালো লেগেছে অনেক। আর বিফটা সাধারণ ছিলো খেতে। ভালোও না খুব, আবার খুব খারাপ ও না। হালকা ঝাল ঝাল, ঝোল ঝোল বিফ ভুনা।

ছবিঃ চিংড়ির মালাইকারি

এখন, এই সব খাবারের ব্যাপারে আমার মনে যে খটকাটা লেগেছে তা হলো, কেন চাইনিজ স্টাইল ফ্রায়েড রাইসের সাথে বাকি সব ভারতীয় খাবার। আমি ধরে নিয়েছি তারা যদি চাইনিজ স্টাইল এর সাইড ডিশ দিতে চাইতো, তাহলে এই টাকায় এতগুলো মানসম্মত আইটেম দিতে পারতো না।  

ছবিঃ বিফ ভুনা

খাবার শেষ হবার কিছুক্ষণ পরেই ডেজার্ট দিয়ে দিবে কিনা জানতে চাইলো। আমি জানতে চাইলাম ভ্যানিলা ছাড়া অন্য কোনো ফ্লেভার এর আইসক্রিম নেওয়া যাবে কিনা। জানালো যে, অফারে এই একটি আইস্ক্রিমই দেয় ওরা। আইসক্রিমটা চকলেট সস দিয়ে পরিবেশন করায় মনের দুঃখ কমলো কিছুটা। আইসক্রিম ৪টি আবার সুন্দর ছোট্ট ৪টি মাটির সরার মতো বাটিতে দিয়েছিলো। বেশ লাগছিলো দেখতে। 

ছবিঃ ভ্যানিলা আইসক্রিম

দাম

সব কিছু মিলিয়ে প্ল্যটারের দাম ৯৯৯ টাকা! এই টাকায় এত বেশি পরিমাণে আর এতগুলো আইটেম কোথায় পাওয়া যায় কিনা আমি জানি না। সবগুলো খাবারের স্বাদ যে একদম ১০/১০ তা বলবো না। কিন্তু খাবারের পরিমাণ, জায়গাটার পরিবেশ, সার্ভিস সবকিছু মিলিয়ে এটাই বোধহয়, এখনকার বেস্ট অফার ইন দ্য টাউন।

পরিবেশ

দোকানটার ইন্টেরিয়র অনেক সুন্দর লেগেছে আমার কাছে। ভিতরে দুই ধরনের বসার যায়গা আছে। টেবিল, আর মেঝেতে ফোম বিছিয়ে আলাদা বুথের মত করা। বুথগুলোতে বসতে অনেক মজা। ইচ্ছেমতো গা এলিয়ে দিয়ে বসা যায়।

সার্ভিস

আলাদা করে সার্ভিসের কথা বলতেই হবে। এত এত মানুষ ছিলো দোকানে। তাও অর্ডার দেয়ার ৭-৮ মিনিট পরেই অ্যাপেটাইজার দিয়ে গেছে। এর একটু পর পর এসে খোঁজ নিচ্ছিলো সব ঠিক আছে কিনা। একটা কোর্স শেষ হবার সাথে সাথে ওই প্লেটগুলো সরিয়ে ক্লিন করে, খুব তাড়াতাড়ি পরের কোর্স দিয়ে গেছে। একবারও বলতে হয়নি বা পরের কোর্স এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি।

লোকেশন

জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের পাশেই দোকানটা। ওই একই বিল্ডিং এ চিলক্স আর ক্যাফে মেরিলিন মনরোও আছে। বাইরে থেকে আর কিছু চোখে না পরলেও, চিলক্স এর বেশ বড় লোগো দেখে চিনতে অসুবিধা হবার কথা নয়। ভিতরে ঢুকলেই দেখতে পাবেন লিফটের কত তলায় কোন দোকান লেখা বড় বড় ফ্যাস্টুন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here