সেন্টমার্টিন ভিলেজে টুনা মাছের বারবিকিউ খাওয়ার অভিজ্ঞতা

0
1021

সেন্টমার্টিনে যাওয়ার পর থেকে আপনি যতদিন থাকবেন, ততদিন একেবারে মাছে ভাতে বাঙালি হয়ে যাবেন। কেননা এখানে পাবেন হরেক রকমের টাটকা সামুদ্রিক মাছের বিভিন্ন খাবার। সেন্টমার্টিনের প্রতিটি রেস্টুরেন্টেই সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই, বারবিকিউ ও রান্না করা তরকারি বিক্রি করা হয়। সারাদিন মূলত বিভিন্ন মাছের ফ্রাই বিক্রি করা হয়। তবে বিকাল হওয়ার পর থেকেই সেন্টমার্টিন রেস্টুরেন্টগুলো তাদের মূল আকর্ষণের পসরা বসায়।

রূপচাঁদা ও টুনা মাছের বারবিকিউ; ছবি: লেখক

সেন্টমার্টিনের খাবারের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত মাছের বারবিকিউ। বিভিন্ন মাছের বারবিকিউ পাওয়া যায়। তবে টুনা মাছ ও রূপচাঁদা মাছের বারবিকিউ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া এখানে বিভিন্ন আকারের লবস্টারও পাওয়া যায়। তবে কক্সবাজারের তুলনায় এখানকার লবস্টারের দাম বেশ চড়া।

সেন্টমার্টিনে মাছের বারবিকিউয়ের পাশাপাশি মুরগির বারবিকিউও পাওয়া যায়। মূলত দুইভাবে বারবিকিউ বিক্রি করা হয়। আপনি যদি মাছ কিনে রেস্টুরেন্ট কর্মীদের দেন সেক্ষেত্রে তারা বারবিকিউ করে দেওয়ার জন্য চার্জ নেবে। সেটা ৩০০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো রেস্টুরেন্ট থেকে সরাসরি বারবিকিউ করা মাছ কেনা। এক্ষেত্রে কোনো কোনো রেস্টুরেন্টে মাছের সাথে রুটিও দেওয়া হয়। তবে রুটি বা পরোটার জন্য দাম নেওয়া হয় না।

মসলা দেওয়া টুনামাছ ও রূপচাঁদা মাছ; ছবি: লেখক

সেন্টমার্টিনে আসার পরই পরিকল্পনা ছিল বারবিকিউ খাওয়ার। প্রথম দিনই দুপুরের খাবার খাওয়ার পর এ বিষয়ে বাবুর্চিদের কাছে থেকে ধারণা নিই। এরপর বিকেলে পশ্চিম সৈকতে বেড়ানোর পর জেটির দিকে থাকা দোকানগুলোতে বেড়াতে যাই। সেদিকে যাওয়ার পথেই একটি রেস্টুরেন্টের সামনে টুনা মাছের বারবিকিউ করতে দেখলাম। কিন্তু সেখানে সবগুলো মাছ বিক্রি হওয়ায় কেনার সৌভাগ্য হলো না।

এর সামনেই দেখলাম বিভিন্ন ধরনের মাছ বিক্রি করছে। সেখানে একটি ছোট সাইজের টুনা মাছও ছিল। মূলত সেখানে থাকা সেন্টমার্টিন ভিলেজ নামের একটি রেস্টুরেন্ট এই কাঁচা মাছগুলো বিক্রি করছে। সেখান থেকে কিনে তাদের কাছেই বারবিকিউ করার সুবিধা রয়েছে। সেজন্য তারা অতিরিক্ত কোনো চার্জ নেবে না। সে কারণে সেখান থেকে একটি টুনা মাছ কিনে আমরা পেমেন্ট করলাম।

টুনা মাছ; ছবিসূত্র: টুইটার

পেমেন্ট করার পর বাবুর্চি আমাদের আধা ঘণ্টা পরে আসতে বললেন। কারণ মাছ পরিষ্কার করে মেরিনেট করে রাখতে হবে। তার কথামতো আমরা আশেপাশে থাকা আচার ও বিভিন্ন পণ্যের দোকানগুলোতে ঘুরতে শুরু করি এবং কিছু পণ্য কিনে ফিরে আসি। যখন ফিরে আসলাম তখন দেখি বাবুর্চি একটি লোহার তৈরি বার বি কিউ গ্রিলে মাছ রেখে পুড়ছেন। মাছের ওপর একধরনের মসলা দিয়েছেন এবং কিছুক্ষণ পর মাছের দুইপাশেই চামচ দিয়ে কেটে তার মধ্যে মসলা দিলেন।

এভাবে কিছুক্ষণ ঝলসানোর পর শেষের দিকে টমেটো সস ও সরিষার তেল একসাথে মিশিয়ে মাছের ওপরে ব্রাশ দিয়ে লাগিয়ে আরো কিছুক্ষণ ঝলসানো হলো। এরপর একটি প্লেটে মাছ রেখে আমাদের পরিবেশন করা হলো।

খাবারের মান ও স্বাদ

খাবারের মান নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তৈরি করা দেখেছি। তবে স্বাদের দিক থেকে আমাদের প্রশ্ন ছিল। কারণ মাছের ওপরের সামান্য কিছু অংশ খেতে সুস্বাদু হলেও ভেতরেও দিকের মাছের কোনো স্বাদ ছিল না। এর পেছনে তাদের প্রস্তুত প্রণালী সম্ভবত দায়ী ছিল।

সেন্টমার্টিন ভিলেজের সামনে যে রেস্টুরেন্টে টুনা মাছের বারবিকিউ করতে দেখেছিলাম সেখানে তারা মাছের ওপর দিয়ে সসের পাশাপাশি লেবুর রসও দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের মাছে তেমন কিছুই দেওয়া হয়নি। এর পাশাপাশি আগুনে পানির ছিঁটা দিয়ে ধোঁয়া তৈরি করে মাছে স্মোকি ফ্লেভার আনা হয়, আমাদের যে বারবিকিউ পরিবেশন করা হলো সেই মাছে এমন কিছুই করা হয়নি।

ছবিসূত্র: লেখক

মাছের ওপরের ভাগ আগুনে ঝলসানোর কারণে রুটি বা পরোটার সাথে খাওয়া যায়। তবে ভেতরের অংশ একেবারেই স্বাদহীন। এছাড়া মাছের মধ্যে মসলার তেমন কোনো স্বাদ পাইনি। সবমিলিয়ে সেন্টমার্টিন ভিলেজের টুনা মাছের বারবিকিউয়ের স্বাদ ভালো ছিল না। আমাদের একেবারেই ভালো লাগেনি।

পরিবেশ ও পরিবেশন

হোটেলের পরিবেশ মোটামুটি ভালো। তবে পরিবেশনের ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ব ছিল না। মাছের সাথে আমরা লেবু চেয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমাদের যে লেবুর টুকরা দেওয়া হয় তাতে কোনো রসই ছিল না।

ভিতরের পরিবেশন; ছবিসূত্র: লেখক

একটি প্লেটে মাছ রেখে তার সাথে আমাদের পাঁচজনের জন্য পাঁচটি প্লেটে পরোটা দিয়েছিল। এর সাথে পাঁচটি চামচ, পাঁচটি গ্লাস ও এক বোতল পানি। এছাড়া আর কিছুই ছিল না।

ব্যবহার

হোটেল কর্মীদের ব্যবহার বেশ ভালো। তারা তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন আমাদের খুশি করার। আমাদের পেমেন্টের রশিদ হারিয়ে গিয়েছিল। সেটা দেখিয়ে মাছ নিতে হয়। আমরা সেটা দেখাতে না পারলেও তারা কোনো সমস্যা করেনি।

দরদাম

টুনা মাছের দাম বেশ চড়া। ছোট একটি মাছের দাম হাঁকা হয় ৮০০-৯০০ টাকা। তবে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এর দাম ভিন্ন হয়। মূলত কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়। আমাদের মাছের দাম ছিল ৭০০ টাকা। এর সাথে আমরা পরোটা নিয়েছিলাম। প্রতি পিস পরোটার দাম ১০ টাকা। এছাড়া এক বোতল পানির দাম ছিল ৫০ টাকা।

তবে সেন্টমার্টিনে যে কোনো খাবারের দোকানে খাওয়ার আগে আশেপাশে অন্য দোকানগুলোতে দাম যাচাই করবেন। এখানে দামের কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকে না। যেকোনো মুহূর্তে দাম ওঠানামা করে এবং একই খাবারের দাম একেক জায়গায় একেক রকম হয়ে থাকে।

অবস্থান

সেন্টমার্টিন ভিলেজ রেস্টুরেন্টটি সেন্টমার্টিনের জাহাজ ভেড়ানোর জেটির কাছেই। জাহাজ থেকে নামার পর রাস্তা ধরে এগোতে থাকলে প্রথম কয়েকটি দোকানের পরই ডানদিকে এই রেস্টুরেন্টটি দেখতে পাবেন।

রেটিং

৬/১০

ফিচার ইমেজ: লেখক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here