স্ট্রিট ফুড কার্ট H2O এর চিকেন কোণ ও অন্যান্য

0
624

H2O মানে জানেন তো? বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে হয়তো আমরা H2O মানে পানি বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কিন্তু আমি বলছিলাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডে অবস্থিত ফুড কার্ট H2O এর কথা।

কুমিল্লা শহরকে বর্তমানে আমরা কুমিল্লাবাসী রসমালাইয়ের শহর বাদ দিয়ে রেস্টুরেন্টের শহর বলি। বলা যায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো নতুন রেস্টুরেন্টের উদ্ধোধন করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট যেমন হচ্ছে তেমনি হচ্ছে স্ট্রিট ফুড কার্টও।

ফুড কার্টটির সামনের দৃশ্য; Source: Fahmida

আগে স্ট্রিট ফুড বলতে আমরা শহরে শুধু চটপটি ফুচকাই বুঝতাম। তাও গুটিকয়েক দোকান ছিলো যেখানে সবসময় ভালো চটপটি ও ফুচকা পাওয়া যেত। তারপর স্ট্রিট ফুড হিসেবে কুমিল্লায় জায়গা করে নিলো চিকেন চাপ। চিকেন চাপ খেতে খেতে কুমিল্লাবাসী যখন অতিষ্ঠ তখন কুমিল্লাবাসী তথা আমাদের মতো খাদকদের উদ্ধার করতেই চলে এলো H2O।

H2O এর স্ট্রিট শর্মা; Source: Fahmida

বেশ কয়েকদিন ধরেই ফুড গ্রুপে এই ফুড কার্টটির রিভিউ দেখছিলাম। নতুন কোনো খাবার এসেছে কিন্তু আমি এখনো খাইনি? এমন একটি ভাবনা সবসময় মনের ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে। যতক্ষণ অবধি সেই খাবারটি আমি না খাই ততক্ষণ এই ভাবনা চলতেই থাকে।

এদিকে ফুড টিপসের টাকা আসার পরই কিছু না খেলে ভালো লাগে না। বলা যায় লেখার কোন শক্তি পাই না। দু’য়ে দু’য়ে চার মিলিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় প্রিয় বান্ধবীকে নিয়ে চলে গেলাম নিজের কলেজ, ভিক্টোরিয়ার সামনে।

H2O এর অভ্যন্তরীণ দৃশ্য; Source: Fahmida

রাণীরদিঘীর পাড় বসে আড্ডা দিতে দিতে পেটের ক্ষুধা অনুভব করছিলাম। এদিকে বান্ধবীও নতুন আসা ফুড কার্টটির কথা বলছিলো। তাই আর দেরী না করে কলেজের মেইন গেইটের একটু সামনেই অবস্থিত H2O এর সামনে চলে এলাম।

রাস্তার পাশেই ফুড কার্টটি রাখা। সামনে প্লাস্টিকের টুলে বসার জায়গা। শুরুতেই বলে রাখি, এখানটায় আপনি খুব আয়েশ করে সময় নিয়ে খেতে পারবেন না। কারণ কলেজের পাশে হওয়ায় সবসময়ই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের আনাগোনা বেশি থাকে।

ফুড কার্ট; Source: Fahmida

আমরা যখন গেলাম ভিড় কম থাকায় আমরা খুব আয়েশ করেই ফুড কার্টটির খাবার উপভোগ করতে পেরেছিলাম। যাওয়ার পরই খুব আন্তরিকভাবে ফুড কার্টটির মালিক বসতে দিলেন। জিজ্ঞেস করলেন কী খাবো।

আমরা জেনে নিলাম কী কী আইটেম পাওয়া যাবে। তাদের ফুড কার্টটিতে বর্তমানে তিনটি আইটেম থাকলেও ভাইয়া বললো তারা আরও আইটেম নিয়ে আসবে শীঘ্রই। আমরা যারা স্টুডেন্ট মানুষ তারা স্বল্প দামে ভালো মানের খাবারের জন্যই অপেক্ষায় থাকি। তাই স্ট্রিট ফুড কার্টগুলো আমাদের জন্য একটি আনন্দের জায়গা।

H2O তে বর্তমানে যে তিনটি আইটেম পাওয়া যায় তা হলো চিকেন কোণ, স্ট্রিট শর্মা ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। আমরা প্রতিটি আইটেম থেকেই একটি করে অর্ডার করি। কর্তৃপক্ষ বললেন শর্মা বানাতে একটু সময় লাগবে তবে চিকেন কোণ ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ৪-৫ মিনিটের মধ্যেই পেয়ে যাবো।

ঠিক তাই, ৩ মিনিট শেষ না হতেই আমাদেরকে প্রথমে চিকেন কোণ হাতে দিয়ে গেল। কোণ আইসক্রিমের মতোই দেখতে। কোণ হিসেবে এতোদিন শুধু আইসক্রিম খেয়ে থাকলেও আজ সর্বপ্রথম কোণের ভেতরে আইসক্রিম না খেয়ে খেলাম চিকেন।

খাবারের বিবরণ

চিকেন কোণ

চিকেন কোণ; Source: Fahmida

কোণ আইসক্রিমের যেই বিস্কুটটি থাকে সেই বিস্কুটের ভেতর চিকেন আর উপরে সালাদ দিয়ে পরিবেশন করেছিলো চিকেন কোণ। কোণের ভেতরে চিকেনের পরিমাণ বেশ ভালোই ছিলো।

চিকেনগুলোও যথেষ্ট গ্রেভি ছিলো। ভাজা চিকেনের সাথে মেয়োনিজ আর টমেটো সসের মিশেলে মুচমুচে চিকেন কোণ খেতে শুরুতে খুব একটা খারাপ লাগেনি। প্রথম কামড়ে যথেষ্ট ভালো লেগেছিলো। সালাদ আর চিকেন মিলিয়ে অন্যরকম একটা স্বাদ পাচ্ছিলাম।

চিকেন কোণ; Source: Fahmida

কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো কোণের শেষদিকে এসে। চিকেনের সাথে কি যেন একটা মেশানো ছিলো যার কোন স্বাদই পাচ্ছিলাম না বরং আগের যেই স্বাদ মুখে ছিলো সেটিও নষ্ট করে দিয়েছিলো।

সব মিলিয়ে দাম ও পরিবেশ বিবেচনা করে চিকেন কোণ আমার তেমন একটা ভালো লাগেনি।

স্ট্রিট শর্মা

স্ট্রিট শর্মা; Source: Fahmida

চিকেন কোণের পর আমাদেরকে স্ট্রিট শর্মা দিয়েছিলো। শর্মা নিয়ে আমাদের অনেক বেশি আকাঙ্ক্ষা ছিলো কারণ এই খাবারটি আমাদের দু’জনেরই বেশ প্রিয়। শর্মা পরিবেশন করার প্রক্রিয়াটি বেশ ভালো লেগেছিলো। অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল পেপারে মুড়ে রঙিন শর্মা টিস্যু দিয়ে পেঁচিয়ে দিয়েছিলো।

যার কারণে শর্মাটি খুব গরম ছিলো। কিন্তু শর্মা দেয়ার পর যা দেখলাম তার নাম আসলে কী হওয়া উচিত তা ভেবে আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। পরোটার ভেতর শসা, টমেটোর সালাদের সাথে ৪-৫ টুকরো আটা দিয়ে ভাজা চিকেন দিয়ে তৈরি করেছে তাদের স্পেশাল শর্মা।

শর্মার ভেতরের পুর; Source: Fahmida

শর্মার স্বাদ নিয়ে বিশেষ করে কিছু বলার নাই। সাধারণত হোটেলে ৫ টাকার পরোটা আপনি শসা ও টমেটো দিয়ে একসাথে খেলে যেমন লাগবে H2O এর শর্মার স্বাদ তেমনিই ছিলো।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই; Source: Fahmida

সবশেষে আমাদেরকে একটি প্লেটে করে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা আলুভাজা দিয়ে গেলো। আলুভাজা বলছি যে কারণে তা হলো কর্তৃপক্ষ বোধহয় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মানে শুধুই আলুভাজা ছাড়া আর কিছু বোঝে না।

লম্বালম্বি করে আলু কেটে ডুবো তেলে ভেজে দিলেই তো আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই হয় না। কিন্তু তাদের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নামক আলুভাজাগুলো যে শুধু লবণ মেখেই তেলে ভেজে পরিবেশন করেছিলো তা মুখে দেয়া মাত্রই বুঝেছিলাম। ওপর দিয়ে মুচমুচে হলেও ভেতরের আলু সেদ্ধ হয়নি। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের স্বাদ খুবই বাজে লেগেছে।

রেটিং

চিকেন কোণ- ৬.৫/১০
স্ট্রিট শর্মা- ৫/১০
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই- ৩/১০

দাম

মূল্য তালিকা; Source: Fahmida

চিকেন কোণ- ৪০ টাকা
স্ট্রিট শর্মা- ৪০ টাকা
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই- ৩০ টাকা

পরিবেশ

স্ট্রিট ফুড কার্ট হিসেবে পরিবেশ বলতে গেলে খারাপ না। রাস্তার পাশে ফুড কার্টটি রাখা। তার পাশেই প্লাস্টিকের টুল রয়েছে বসার জায়গা হিসেবে। বন্ধুদের নিয়ে বিকেলবেলা বসে একটু অন্য ধাঁচের খাবার চেখে দেখবার জন্য H2O তে একবার ঢু মেরে আসতেই পারেন।

H2O এর সামনে বসার জায়গা; Source: Fahmida

খাবার পরিবেশনের স্টাইল আমার খুব ভালো লেগেছে। সেই সাথে কর্তৃপক্ষের ব্যবহার বেশ আন্তরিক ছিলো।

লোকেশন

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইন্টার সেকশন রোডে খেলাঘরের পাশেই H2O এর অবস্থান।

Feature Image: Fahmida

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here