স্পেশাল চিকেন ফ্রাই, চিকেন ব্রাস্ট পিৎজা

0
425

যাওয়া আসার পথে অনেকবার ফুডবাজ (FoodBuzz) রেস্টুরেন্টটি চোখে পড়েছে। কখনো যাওয়া হয়নি। ফ্রেন্ড ফোন করে কোথাও বসতে চাইলে ঠিক করলাম ফুডবাজ রেস্টুরেন্টটিতে যাবো। ফেসবুক পেজে ঢুকে ফুডবাজের মেন্যুটি একবার চেক করে নিলাম।

মেন্যু চেক করার ফাঁকে ভাবলাম একবার তাদের পেজে মেসেজ পাঠাই, কতক্ষণে রিপ্লাই আসে দেখে নেই। ছোট্ট করে লিখলাম ‘মেন্যুর সব আইটেমই কি পাওয়া যাবে? নাকি এসে শুনতে হবে এটা নেই, ওটা নেই!’ একেবারে অকারণেই কাজটা করা। প্রায় মিনিট দুয়েকেই রিপ্লাই এলো ‘না ম্যাম, মেন্যুর সব আইটেমই পাবেন’।

source: foodbuzz

বাসা থেকে বেরিয়ে রিকশা ঠিক করে চলে গেলাম ফুডবাজ রেস্টুরেন্টটিতে। রামপুরা বনশ্রীতে এই রেস্টুরেন্টটিতে। বাসা থেকে কিছুটা দূরে। গলিতে দাঁড়িয়ে নিচ থেকেই স্বচ্ছ কাচের ভেতরের রেস্টুরেন্টের ভিড় দেখা যাচ্ছিল। রিকশার ভাড়া চুকিয়ে আমরা উঠে গেলাম দোতলায়। কয়েকজন বন্ধুদের কাছে এই রেস্টুরেন্টটি সম্পর্কে অনেক শুনেছি। এখানকার খাবার নাকি বেশ ভালো। তবে এর আগে কখনো আসা হয়নি। ভেতরে ঢুকে তাই ভালোভাবে দেখে নিলাম চারপাশ।

source: foodbuzz

ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে শিশুদের খেলার জায়গা। ৬ জন শিশু এখানে খেলছিলো তখন। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের অভিভাবকরা। যেন তারা তাদের বাড়িতেই আছেন শিশুদের নিয়ে, আর এখানের পরিবেশ এমনই থাকে।

চারপাশে চোখ বুলালাম, বেশ ভালোই বড়সড় রেস্টুরেন্টটি৷ চারপাশে অনেক বসার ব্যবস্থা। তবে আমরা একটিমাত্র ছোট্ট টেবিলই ফাঁকা পেলাম। সেখানে চারজনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি সব টেবিলগুলো ভোজনপ্রেমীতে ভরা। ভিড় দেখেও তাই রেস্টুরেন্টটির জনপ্রিয়তা অনেকটা আন্দাজ করা গেলো।

source: foodbuzz

যে টেবিলটি ফাঁকা ছিলো আমরা দু’জনে সেখানে গিয়ে বসলাম। টেবিলটি কাচের দেয়ালের পাশঘেঁষা হওয়ায় আমরা এখান থেকে রাস্তার দৃশ্য আর সন্ধ্যার অপূর্ব আকাশটা খুব ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছিলাম। লোকসমাগমে ভেতরে অনেক আওয়াজ ছিলো, আবার শিশুদের আনন্দে চেঁচানোর শব্দও। এসব মিলিয়ে কিছুটা এলোমেলো পরিবেশ হয়েছে। তবে খুব একটা খারাপ লাগছিলো না।

বেশ সময় নিয়ে মেন্যু উল্টেপাল্টে অবশেষে অর্ডার করলাম এখানকার স্পেশাল ফ্রাইড চিকেন, চিকেন ব্রাস্ট পিৎজা আর মিন্ট লেমন ড্রিংস। ওয়েটার অর্ডার লিখে নিয়ে যাওয়ার আগে জানালো, ১০ মিনিটের মতো অপেক্ষা করতে হবে। অর্ডার রেডি হয়ে আসতে আসতে আমি পা বাড়ালাম বেসিনের দিকে হাত-মুখ ধুয়ে নিতে।

source: foodbuzz

প্রায় রেস্টুরেন্টেরই ওয়াশরুম ও বেসিনের অবস্থা মোটামুটি মানের হয়। বিশেষ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে, তবে ফুডবাজের বেসিন দেখে অবাকই হলাম৷ পুরোই ঝকঝকে, চকচকে।

দেখেই বোঝা যাচ্ছে তারা প্রতিদিনই বেশ যত্ন সহকারে বেসিনের পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ্য রাখেন। অনেকেই শুধুমাত্র রেস্টুরেন্টের বাহির কিংবা ভেতরের সাজ-সজ্জার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখলেও বেসিনের বিষয়ে যত্নহীনই থাকেন, তবে অবাক লাগে এটি ভাবলে এই ওয়াশরুম কিংবা বেসিনও তো রেস্টুরেন্টেরই একটি অংশ!

source: লেখিকা

বেসিনের কর্ণার থেকে বেড়িয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলাম রেস্টুরেন্টটির ভেতরে, যেহেতু শিশুরা খেলছে এবং আমি নিজেও নিজেকে শিশু মনে করি! প্রথমে রেস্টুরেন্টটিকে যতটুকু বড় মনে করেছিলাম, রেস্টুরেন্টটি তার থেকেও কিছুটা বড়। সিঁড়ি থেকে উঠে, হাতের ডানপাশেও বসার একটি কর্ণার রয়েছে। শিশুদের খেলার জায়গাটিও বেশ বড়।

সাদা হলদে রঙের প্রাধান্য ভেতরের সাজ-সজ্জায়। সাধারণ লাইটিং। তবে সামনের দিকের স্বচ্ছ কাঁচের ব্যবস্থাটি সুন্দর। কিছু কিছু অংশে টবে সাজানো রয়েছে ইনডোর প্ল্যান্টস। সাধারণ হলেও দেখতে খুব ভালো লাগছিলো। শিশুদের খেলার জায়গায় কিছু খেলনা সামগ্রীও রাখা ছিলো।

source: লেখিকা

প্রায় ১০ মিনিট পরেই আমাদের খাবার রেডি হয়ে আসলো। ফ্রেন্ডের তাড়ায় যোগ দিলাম খাওয়া-দাওয়ায়। প্রথমে স্পেশাল চিকেন ফ্রাই এবং খানিকবাদেই চিকেন ব্রাস্ট পিৎজা। গরম গরম চিকেন ফ্রাই আর চিজে ভরা গরম গরম পিৎজা। আহা!

তবে মিন্ট লেমন মুখে তুলেই অনেকটা মেজাজ খারাপ হলো। লেমনের নামমাত্র নেই। এত বেশি মিন্ট বা পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়েছে যে, পুদিনা পাতার অতিরিক্ত স্বাদ আর গন্ধ মিলে অদ্ভুত আর বাজে একটি স্বাদ তৈরি হয়েছে। মুখের এই বাজে হাল কাটাতে দ্রুত অর্ডার করলাম কোক।

খাবারের স্বাদ

source: লেখিকা

চিকেন ফ্রাইয়ের টুকরোগুলো অনেক বেশিই মজাদার ছিলো। ভেতরে ভালোভাবে সেদ্ধ হওয়া মাংস, উপরের মুচমুচে প্রলেপের বাহিরে ভিন্ন স্বাদ যোগ করেছিলো উপরের অংশে ছিটিয়ে রাখা কিছু শুকনো মসলার গুঁড়া। এই মসলার গুঁড়া একেবারেই আলাদা এক স্বাদ এনে দিয়েছিলো চিকেন ফ্রাইয়ে, এ কারণেই হয়তো এর নাম ‘স্পেশাল’ চিকেন ফ্রাই।

চিকেন ব্রাস্ট পিৎজাটি একেবারেই চিজে পূর্ণ ছিলো। তার ভেতরে ছিলো চিকেনের টুকরো, মাশরুম আর ক্যাপসিকাম। চিকেন, মাশরুম, ক্যাপসিকাম ও চিজের পরিমাণ বেশ ভালো ছিলো। চিকেন ফ্রাইয়ের মতো এই পিৎজাটিও খেতে বেশ মজাদার।

তবে একেবারেই ভালো লাগেনি মিন্ট লেমন। লেমনের স্বাদ টের পাইনি একদমই। পুরোটিতেই পুদিনা পাতা ব্লেন্ড করা। পুদিনা আর চিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাদান না থাকায় খুব অদ্ভুত (এবং অবশ্যই বাজে) লেগেছে এই পানীয়টি।

রেটিং-

স্পেশাল চিকেন ফ্রাই- ৯/১০
চিকেন ব্রাস্ট পিৎজা- ৮/১০
মিন্ট লেমন- ১/১০

মূল্য

source: foodbuzz

স্পেশাল চিকেন ফ্রাই (৪ পিস) ১৬০ টাকা। চিকেন ব্রাস্ট পিৎজা ৪৬৫ টাকা ও মিন্ট লেমন ৮০ টাকা। কোক ২০ টাকা।

অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা

খুব আহামরি ধাচের সাজ-সজ্জা নয় ভেতরের। সাদা, হলুদ রঙের ব্যবহারে সাধারণ ডেকোরেশন। আলোর ব্যবহারও সাধারণ। শিশুদের খেলার জায়গাটি সুন্দর। কিছু ইনডোর প্ল্যান্টস সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যবহৃত হয়েছে। বেশ পরিচ্ছন্ন।

সার্ভিস

ওয়েটারদের ব্যবহার বেশ ভালো। সময়মত সব পাওয়া গিয়েছে। ভিড় থাকা স্বত্তেও যেকোনো প্রয়োজনে ডাকার সঙ্গে সঙ্গেই চলে এসেছে ও কথা শুনেছে। সার্ভিস বেশ ভালোলেগেছে।

লোকেশন

রামপুরা বনশ্রীর ই ব্লকে। ৪ নম্বর রোডের ৪৬ নম্বর বাড়ি। রামপুরা বনশ্রী মেইন রোড থেকে ফরাজি হাসপাতালের গলির ভেতরে।

ফিচার ইমেজ- Foodbuzz

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here