স্পেশাল সেমাই পুডিং

0
2726

রমজান মাসে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি ছাড়া যেমন ইফতার ঠিক জমে না। তেমনি ঈদের দিনে খাবারের টেবিলে যত রকম খাবারই থাকুক না কেন, যদি সেমাইের আয়োজন না থাকে, তাহলে ঈদ ঈদ ভাবটাই আসে না। তাই ঈদের দিন খাবারের টেবিলে সেমাইয়ের যেকোনো একটি রেসিপি থাকা খুবই জরুরি।

সেমাই পুডিং রান্নার বিভিন্ন উপকরণ; Source: youtube.com

আজকে আমি আপনাদের সাথে সেমাইয়ের একটি ভিন্নধর্মী রেসিপি সম্পর্কে আলোচনা করব। রেসিপিটি হলো সেমাইয়ের পুডিং। যা খুবই সহজ এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি করা যায়। সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে আপনি এই রেসিপিটি তৈরি করে পরিবেশন করতে পারেন। খুব সুস্বাদু ও মজাদার খাবার এই সেমাই পুডিং। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক সেমাই পুডিং রান্নার পদ্ধতি সম্পর্কে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • ফুল ক্রিম দুধ (১ লিটার)
  • ঘনীভূত দুধ (১ কাপ)
  • চিনি (১-২ কাপ)
  • এলাচ (২-৩টি)
  • আগার আগার পাউডার (২ টেবিল চামচ)
  • ঘি (১ টেবিল চামচ)

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমেই একটি সেমাইয়ের প্যাকেটের তিন ভাগের এক ভাগ সেমাই একটি বাটিতে নিয়ে নিতে হবে। সেমাইগুলো কিছুটা ছোট ছোট করে ভেঙ্গে নিতে হবে। এতে করে সেমাই পুডিং রান্না করতে সুবিধা হবে। এরপর একটি বাটি বা গ্লাসে ২ টেবিল চামচ পরিমাণ আগার আগার পাউডার নিয়ে নিতে হবে। তবে আগার আগার পাউডারের পরিবর্তে আপনি জেনেটিন ব্যবহার করতে পারেন।

আর এগুলো দিয়েই মূলত আমরা পুডিং জমাবো। ডিম পুডিঙের মতো এখানে সেদ্ধ করার প্রয়োজন হবে না। এবার আগার আগার পাউডারের মধ্যে কিছুটা তরল দুধ দিয়ে পাউডার গুলিয়ে নিতে হবে। তবে আপনি চাইলে পানি দিয়েও গুলিয়ে নিতে পারেন। তবে যেহেতু দুধ জাতীয় খাবার, তাই দুধ দিয়ে গুলিয়ে নেওয়াই ভালো।

সেমাই পুডিঙের জন্য আগার আগার পাউডার গোলানো হচ্ছে; Source: youtube.com

একটি চামচের সাহায্যে নেড়ে নেড়ে আগার আগার পাউডার খুব ভালোভাবে গুলিয়ে নিতে হবে। আগার আগার পাউডার খুব ভালোভাবে দুধ দিয়ে গোলানো হয়ে গেলে আমরা এবার চলে যাবো রান্নায়। প্রথমে আমাদের প্রয়োজন হবে ১ টেবিল চামচ পরিমাণ ঘি। এবার চুলার উপর একটি প্যান বসিয়ে মাঝারি আঁচে কিছুটা গরম করে নিতে হবে। তারপর সেই প্যানে পরিমাণমতো ঘি ঢেলে গলিয়ে নিতে হবে।

তারপর পূর্বে গুঁড়ো করে নেয়া সেমাই প্যানে ঢেলে ঘি দিয়ে ভালো করে নেড়েচেড়ে ভেজে নিতে হবে। চুলার জ্বাল মাঝারি আঁচের চেয়ে কম রেখে সেমাই ভাজতে হবে। কেননা চুলার জ্বাল বেশি আঁচে দিয়ে ভাজলে সেমাই যেমন পুড়ে যাবে, তেমনি ঘিয়ের সুগন্ধও চলে যাবে। আর সেমাই পুড়ে গেলে সেগুলো কালচে হয়ে যাবে এবং পুডিং তৈরিতে কোনো কাজে লাগবে না।

সেমাই ঘিয়ের মধ্যে ভেঁজে নেওয়া হচ্ছে; Source: youtube.com

যখন ভাজা হয়ে যাবে, তখন আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন সেমাই খুব সুন্দর রং ধারণ করবে এবং ঘি দিয়ে ভাজার কারণে খুব সুন্দর একটি সুঘ্রাণ বের হতে থাকবে। সেমাই ভাজা হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি কড়াইয়ে ১ লিটার পরিমাণ ফুল ক্রিম দুধ ঢেলে নিতে হবে। এই ফুল ক্রিম দুধকে ঘন করার জন্য আরও এক কাপ পরিমাণ ঘনীভূত দুধ ঢেলে নিতে হবে।

তবে আপনি যদি ঘনীভূত দুধ না দিতে চান, সেক্ষেত্রে দেড় লিটার পরিমাণ ফুল ক্রিম দুধ নিতে হবে এবং সেটাকে একটু জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে। দুধে সুগন্ধি আনার জন্য জ্বাল দেওয়ার সময় ২ থেকে ৩টি এলাচ দুধে দিয়ে দিলে ভালো হয়। তবে অবশ্যই রান্নার সময় এলাচগুলো তুলে ফেলে দিতে হবে। দুধ এমনভাবে জ্বাল করতে হবে, যেন খুব বেশি ঘন না হয়, আবার খুব বেশি পাতলা না থাকে।

ভেজে নেওয়া সেমাই দুধে ঢেলে সেদ্ধ করতে হবে; Source: youtube.com

চুলার জ্বাল মাঝারি আঁচে রেখে বারবার নেড়েচেড়ে দুধ জ্বাল করতে হবে, অন্যথায় পাতিল বা কড়াইয়ের তলায় দুধ লেগে যেতে পারে। দুধ মোটামুটি ঘন করে জ্বাল দেয়া হয়ে গেলে, এর মধ্যে ভেজে নেওয়া সেমাইটুকু ঢেলে দিতে হবে। এ পর্যায়ে চুলার জ্বাল মাঝারি আঁচে রেখে সেমাইসহ দুধটাকে একটু নেড়েচেড়ে জ্বাল দিতে হবে এবং সেমাই সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ সময় চুলার জ্বাল অবশ্যই মাঝারি আঁচে রাখতে হবে।

যখন বোঝা যাবে সেমাই সেদ্ধ হয়ে গেছে, তখন পরিমাণমতো চিনি কড়াইতে আস্তে আস্তে ঢেলে দিতে হবে। চিনি একবারে ঢেলে না দিয়ে একটু একটু করে ঢেলে চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করে আবার একটু ঢালতে হবে। এভাবে পরিমাণমতো চিনি সেমাই এবং দুধের সাথে মেশাতে হবে। চিনি দেওয়া হয়ে গেলে আরও ২-৩ মিনিট নেড়েচেড়ে জ্বাল দিতে হবে। ২-৩ মিনিট পর যখন সেমাইটা আরও একটু সেদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গুলিয়ে রাখা আগার আগার পাউডার সেমাই এবং দুধের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে।

পুডিং করার জন্য দুধ ও সেমাইয়ের মিশ্রণ বাটিতে ঢেলে নেওয়া হচ্ছে; Source: youtube.com

আগার আগার পাউডার দেওয়ার পর আরও ২-৩ মিনিট দুধ এবং সেমাইটিকে জ্বাল দিতে হবে, যেন আগার আগার পাউডার খুব ভালোভাবে দুধ এবং সেমাইয়ের মিশ্রণের সাথে মিশে যায়। দুই থেকে তিন মিনিট আগার আগার পাউডারসহ দুধ এবং সেমাই জ্বাল দেওয়ার পর রান্না সম্পন্ন হয়ে যাবে। সেমাই পুডিং তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই একটু পাতলা করে সেমাই রান্না করতে হবে।

রান্না হয়ে গেলে চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে নিতে হবে এবং কিছুক্ষণ নেড়ে নেড়ে সেমাইয়ের গরম ভাবটা দূর করতে হবে। এরপর যে পাত্রে আমরা সেমাই পুডিং করবো, সেই পাত্রে তৈরি করে নেওয়া সেমাইটুকু ঢেলে নিতে হবে। কিছুটা গরম থাকা অবস্থাতেই দুধ এবং সেমাইয়ের মিশ্রণটুকু ঢেলে নিতে হবে। ঢেলে নেওয়ার জন্য পাত্রে ঘি বা তেল মাখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। পাত্রে দুধ এবং সেমাইয়ের মিশ্রণ ঢেলে নেওয়ার পর এটাকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য ফ্রিজে রেখে দিতে হবে।

সুস্বাদু সেমাই পুডিং; Source: facebook.com

এই সময়ের মধ্যে সেমাই পুডিং খুব ভালোভাবে জমে যাবে। পাত্র যদি ছোট হয়, সেক্ষেত্রে আরও ভালোভাবে জমবে। এরপর একটি চওড়া প্লেট বা বাসনে পুডিঙের বাটি উল্টো করে প্লেটে ঢেলে নিতে হবে। দেখা যাবে খুব সুন্দরভাবে সেমাই পুডিং হয়ে গেছে। ঈদের আয়োজনে আপনি সেমাই পুডিং পরিবেশন করতে পারেন, তবে অবশ্যই সেমাই পুডিং ঠাণ্ডা অবস্থায় পরিবেশন করতে হয়। এভাবেই খুব সহজেই রান্না করে পরিবেশন করুন সুস্বাদু সেমাই পুডিং।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here