স্বাস্থ্যগুণ সম্পন্ন ১০টি মসলা

0
3821

মসলার আবার স্বাস্থ্যগুণ! শুনে অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই? অবাক করার মতো হলেও বিষয়টি সত্য। আমরা প্রায়ই আমাদের খাবারে যেসব মসলা ব্যবহার করে থাকি, সেগুলোর আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর কী কী প্রভাব রয়েছে তাই মূলত আজকের আলোচ্য বিষয়।

ধনিয়া পাতা

স্বাস্থ্যসম্মত গুণাগুণ থাকায় পাশ্চাত্যের বিভিন্ন রকম স্মুদিতেও ধনিয়া পাতা ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশ ছাড়াও ভূমধ্যসাগরীয়, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের খাবার-দাবারে এর ব্যবহার লক্ষণীয়। এর প্রধান স্বাস্থ্য গুণাগুণ হলো শরীর থেকে গুরুপাক বা ভারী পদার্থ বের করে দেয়ার ক্ষমতা। বিশেষ করে, এটি পারদ এবং সীসার মতো বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

দূষিত খাবার বা পানীয় খাওয়ার পর শরীরে যে সীসা জমা হয়, তাও পরিষ্কার হয় এর মাধ্যমে এবং এর কার্যকারিতাও খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়, মাত্র ২ সপ্তাহের ভেতরেই। বিশ্বের ৮ ভাগের ১ ভাগ মানুষ উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় ভুগেন। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপায়ে দুশ্চিন্তা কমাতে ধনিয়া পাতা বেশ উপকারী এবং কার্যকারী। রান্নায় এবং স্মুদি বানানো ছাড়াও খাবার পরিবেশনের সময় ওপরে ধনিয়া পাতা সাজিয়ে খেয়ে নিতে পারেন।

ছবিসূত্র: diet-health.info

হলুদ গুঁড়া

হলুদ হলো এক ধরনের মূল। আমাদের দেশ ছাড়াও ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের রেসিপিগুলোতে হলুদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ক্যান্সার বিরোধী বৈশিষ্ট্যই হলুদের মুখ্য গুণ। যেসব জাতি খাবারে হলুদ গুঁড়া ব্যবহার করে তাদের মাঝে ক্যান্সারের প্রবণতা অপেক্ষাকৃত কম। এছাড়াও ক্যনাসারের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করতেও হলুদ গুঁড়া অতুলনীয়।

কারকিউমিন হলুদের সুপরিচিত উপাদানগুলোর মধ্যে একটি। কারি জাতীয় রেসিপি রান্না করার সময়ই সাধারণত হলুদ গুঁড়া দেয়া হয়ে থাকে। কার্যকারিতা বা এর উপকারিতা পাওয়ার জন্য কিন্তু খুবই সামান্য পরিমাণ হলুদ গুঁড়া হলেই চলে! হলুদের অধিক সফলতা বা উপযোগিতা পেতে হলে এর সাথে গোল মরিচ গুঁড়া ব্যবহার করুন।

ছবিসূত্র: Healthline

গোল মরিচ গুঁড়া

সারা বিশ্বে ব্যবহার হলেও গোল মরিচ উৎপাদিত হয় দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে। সাক্ষ্য মতে, গোল মরিচ মানসিক বেদনা বা অবসাদ উপশমের প্রাকৃতিক উপাদান। তবে এই বিষয়টি এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি যে, মানুষের অবসাদের সমস্যাটি সমাধানের জন্য শুধুমাত্র গোল মরিচই কত পরিমাণ খেলে ভালো। সাধারণত মসলাযুক্ত বা ঝাল জাতীয় খাবার রান্নার সময় গোল মরিচ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও ফ্রুট সালাদ বা অ্যাপেল ক্র্যাম্বেলে গোল মরিচ ছিটিয়ে খেলে এর স্বাদ ও মিষ্টতা বাড়ে।

ছবিসূত্র: Sai Gon – Phu Quoc Resort & Spa

আদা

আদা হলো  আরও এক ধরনের মূল যা মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেহেতু আদা ও হলুদ একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত, তাই দক্ষিণপূর্ব এশীয় হিসেবে এদের সহজাত হওয়ার বিষয়টা সহজেই বোধগম্য। তবে ভারতের চাইতে দক্ষিণ চীনের ক্ষেত্রেই আদা অধিক সহজাত। এক গবেষণায় দেখা যায় যে, আদা ওজন কমাতে সাহায্য করে। আদা তৃপ্তি বাড়াতে এবং ক্ষুধা নিবারণের সহায়ক। আদা সাধারণত হালকা ধরনের পাচক যেমন- বমি ও ফাঁপা ভাব, বুক জ্বালা এবং খওয়ার রুচি কমানোর মতো সমস্যা সৃষ্টি করে। মসলাযুক্ত খাবার তো আছেই আর মিষ্টি জাতীয় খাবারে শুকনো আদাও ব্যবহার করা যায়।

দারুচিনি

দারুচিনি হলো মূলত একটি গাছের বাকল যা শুকিয়ে যাওয়ার পর আস্ত বা গুঁড়া করে ব্যবহার করা হয়। খাবারে দারুচিনির ব্যবহার ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমনে সাহায্য করে এবং তাজা রাখে। নানান রকমের অসুখের সম্ভাবনাও কমায় এই দারুচিনি। ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে শুরু করে ইস্ট ইনফেকশনও রোধ করে। আমাদের দেশ ও ভারতীয় রেসিপি ছাড়াও মেক্সিকোর খাবারে দারুচিনি ব্যবহার করা হয়।

ছবিসূত্র: Randima Exports

জিরা

জিরা হলো এক প্রকার বীজ যা আস্ত বা গুঁড়া করা অবস্থায় রান্নায় বা খাবার পরিবেশনের সময় ব্যবহার করা হয়। ভূমধ্যসাগরীয়, দক্ষিণ এশীয় এবং আফ্রিকায় এটি ঐতিহ্যবাহী উপাদান। পেটের সমস্যা সমাধানে জিরা সস্তা ও সহজ একটি সমাধান। জিরা সাধারণত তলপেটের ব্যাথা, ফুসকুড়ি এবং পেটের অসুখের সাথে জড়িত সমস্যাগুলো কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও জিরার স্বাদ ও ঘ্রাণ অতুলনীয় যা খাবারকে লোভনীয় করে তোলে।

লবঙ্গ

লবঙ্গ হলো একটি গাছের ফ্লের কুঁড়ি। এটি ইন্দোনেশিয়ার সহজাত হলেও এশিয়া, আফ্রিকা এবং ভূমধ্যসাগরীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ মসলাতেই প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। কিন্তু লবঙ্গ হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের অনন্য উৎসগুলোর মধ্যে একটি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়স বৃদ্ধির ছাপ কমাতে এবং শরীরের যেকোনো ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। দারুচিনি ও জায়ফলের সাথে দারুচিনির সংমিশ্রণ সবচাইতে ভালো হয়।

ছবিসূত্র: Spices of Kitchen – Blogger

মরিচ গুঁড়া

সারা বিশ্বের খাবারে ব্যবহার করা হলে সাধারণত ল্যাটিন ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার অঞ্চলের খাবারগুলোতে লক্ষণীয় মাত্রায় মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে খাবারে মরিচের ব্যবহার হজম শক্তির জন্য উপকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

রসুন

রসুন হলো এক ধরনের বালুচর উদ্ভিদ। এটি মধ্য এশিয়ার সহজাত হলেও এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এক গবেষণা মতে, যারা রসুন খায় তাদের ঠাণ্ডার সমস্যার প্রবণতা কম হয়। আজকাল গার্লিক ব্রেড খাবারটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ছবিসূত্র: The Independent

পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার সহজাত। পুদিনা পাতা জ্বর ও ব্যথা কমাতে সহায়ক এবং সতেজতাও এনে দেয়। তাই মাইগ্রেনের ব্যাথা, সাধারণ শরীর খারাপ এবং জ্বরের সময় অস্বস্তিকরভাব দূর করতে পুদিনা চা বেশ কার্যকারী।

ছবিসূত্র: bitcoinrt.info

Feature Image source: wallpapers4u.org 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here